• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

জনগণের ওপর আস্থা নেই

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

| ঢাকা , রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বিএনপি হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলো, ভোট কেন্দ্রগুলো তারা সর্বশক্তি দিয়ে পাহারা দেবে। কিন্তু মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা তাদের আগুন সন্ত্রাসের পর থেকে একেবারেই স্থবির হয়ে গেছে। রেলগাড়ি, বাস, সিএনজি, মোটরসাইকেলে পেট্রলবোমা মেরে বিএনপির কর্মীরা শত শত মামলায় জর্জরিত। বিএনপির এই অপরাজনীতি আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। বিএনপির জন্য আরেকটি ব্লান্ডার হচ্ছে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা। শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড মারার পর ‘জজমিয়া’ নাটক থেকে সবাই নিশ্চিত হয়েছে যে, এই গ্রেনেড হামলার সাথে বিএনপি সরকারের কিছু লোক ও নেতা জড়িত ছিলেন। এ সকল কারণে সম্ভবত আওয়ামী লীগ ‘সুজন’-এর কথায় কর্ণপাত করছে না, সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোন তাগিদ বোধ করছে না। আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীর বক্তব্য হচ্ছে, যে দল ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধী দলের নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে সেই দলটির প্রতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেখানো বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার আবশ্যকতা নেই। সুশাসনের সুযোগে আবার ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনার জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

ক্ষমতায় থেকে কোন দলই হারতে চায় না; এটা শুধু ক্ষমতার মোহ নয়, নির্বাচনের পর নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও। কারণ নির্বাচনে হেরে গেলেই দলীয় নেতা কর্মীদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। ক্ষমতায় এসেই তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রতিশোধ তুলতে থাকে। এই প্রতিশোধ স্পৃহা চক্রাকারে আবর্তিত হয় বলে এর কোন শেষ নেই

ক্ষমতায় থেকে কোন দলই হারতে চায় না; এটা শুধু ক্ষমতার মোহ নয়, নির্বাচনের পর নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও। কারণ নির্বাচনে হেরে গেলেই দলীয় নেতা কর্মীদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। ক্ষমতায় এসেই তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রতিশোধ তুলতে থাকে। এই প্রতিশোধ স্পৃহা চক্রাকারে আবর্তিত হয় বলে এর কোন শেষ নেই। অন্যদিকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করাও আগের মতো তত সহজ নয়। কারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গির বদল হয়েছে- হরতালের ডাকে কেউ এখন আর সাড়া দেয় না। রাস্তায় জনসভা বা মিছিল করলে জনগণের ভোগান্তির কূলকিনারা থাকে না। অন্যদিকে বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের পর জনস্বার্থে পুলিশও মারমুখী অবস্থানে থাকে; এসব ক্ষেত্রে পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সহজ, কারণ রাস্তা-ঘাটে মিছিল, জনসভা করা বৈধ নয়। আগের মতো ‘জনতার মঞ্চ’ তৈরি করার ক্ষমতা বিএনপির নেই। বিএনপির কোমর ভেঙ্গে গেছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যটি শ্রুতিকটু হলেও মেয়র নির্বাচনের পর আমারও তাই মনে হয়েছে। যুবক এবং কিশোরদের ওপর এক সময় বিএনপির প্রায় একচেটিয়া প্রভাব থাকলেও এখন রদবদল হয়েছে। এবারের নির্বাচনে কিশোর এবং যুবকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুনেছি। এটা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্যও হতে পারে।

প্রতিটি নির্বাচনের পূর্বে বিরোধী দলগুলোর কমন দাবি হচ্ছে, নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা জরুরি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রত্যাশা করা যায় না; কারণ প্রশাসনে সব দলের লোক থাকলেও পদে অবস্থান করে ক্ষমতার তোয়াজ করাই তাদের স্বভাব। সমমর্যাদার সব আমলাই চায় ডিসি, এসপি, ওসি হতে- এই সকল পদের জন্য প্রচুর তদবির হয়, দুর্নীতিও হয়। এই পদগুলোতে অবস্থান করলে শুধু যে দুর্নীতি করার অধিকতর সুযোগ থাকে তা নয়, পদগুলোর ক্ষমতাও অপরিসীম। আমাদের দেশে ক্ষমতা মানে শক্তি, বল, সম্মান। এই পদের কর্মকর্তারা ভোট ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি জড়িত। উন্নত দেশগুলোতে বোধহয় তেমন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রকল্পের একজন আমেরিকান পরামর্শককে তার কোন একটি সমস্যায় তাদের এমবেসীর কোন একজন কর্মকর্তার সাথে ফোনে কড়া স্বরে কথা বলতে শুনে আমি হতবাক। পরামর্শক ফোনের অপর প্রান্তের কর্মকর্তাকে ধমকের সুরে বলছিলো, ‘এই মিস্টার, আমি আমেরিকার একজন করদাতা, আপনি এখানে আছেন আমার করের টাকায়, এখানকার আমেরিকানদের বিপদে সহায়তা করতে, যদি আবারও আমার এ বিষয়ে যত্নবান না হন আমি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বাধ্য হবো।’ আমরা কি কোন ডিসি, এসপি বা ওসিকে এই সুরে কথা বলতে পারবো? আমাদের দেশে দৃঢ?তার সাথে অধিকারের কথা বললেই বেয়াদবি হয়। মিটিং আহ্বান করে সেই মিটিংয়ে এরা উপস্থিত হন অনেক বিলম্বে- তাদের জন্য আমজনতা অপেক্ষা করছে- এটাই ওদের আনন্দ। আমি ডিসিদের সাথে বৈঠক করেছি অসংখ্যবার। এদের একতরফা দোষ দিয়েও লাভ নেই। এই পদগুলোর কর্মকর্তাদের ক্ষমতাসীনদের চাহিদাকে উপেক্ষা করার সাহস ও ক্ষমতা নেই, উপেক্ষা করলে এই লোভনীয় পদ বেশি দিন থাকবে না, এমন কি ওএসডি হওয়ারসমূহ সম্ভাবনা থাকে। এ বিষয়টি সব দলীয় সরকারের অধীনে লক্ষ্য করা গেছে।

দলীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালীন সংঘটিত নির্বাচনী অপকর্ম থেকে রেহাই পাওয়ার অভিপ্রায়ে আমাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্ভব হয়েছিলো। কিন্তু তাও টিকলো না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অগণতান্ত্রিক সরকার থাকতে পারে না বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদালত কর্তৃক বাতিল হয়েছে। আদালতের ঘোষণা ও বিএনপির দাবি অনুযায়ী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলেও আমাদের দেশে নির্বাচনে কখনো শৃঙ্খলা ফিরে আসতো না। দুই নির্বাচনের পরও আগের অবস্থার সৃষ্টি হতো। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়; পৃথিবীর প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনদের দাপট নির্বাচনকালীনও সমানভাবে বহাল তবিয়তে থাকে বলে তত্ত্ববধায়ক সরকারের কোন বৈশিষ্ট্য থাকে না। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট চাইলেও ভোটের সাথে সংশ্লিষ্ট আমলা ও দলীয় কর্মীরা অবৈধভাবে ভোট নিতে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি করে যে, পারলে সব ভোট ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীকে দিয়ে দেয়; এই লোকগুলোর কা-জ্ঞান এত কম যে, কি পরিমাণ ভোট জালিয়াতি করলে ভোটকে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য করা যায় তার হিসাব নিকাশও বোঝে না। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি- সব সরকারের আমলেই তো নির্বাচন এমনিই হয়েছে, নিষ্কৃতি পাব বলে মনে হয় না।

এক্ষেত্রে একমাত্র নির্বাচন কমিশনই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে বিরোধী আম আদমি পার্টি ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৩টি আসনে জিতেছে, ক্ষমতাসীন বিজেপি জিতেছে মাত্র ৭টিতে। ক্ষমতাসীন সরকারের হস্তক্ষেপ থাকলে খোদ রাজধানীতে বিরোধী দলের জেতার কথা নয়। ফল ঘোষণায় দেরি করলে সেখানেও আম আদমি পার্টি ইভিএমের বিরুদ্ধে বলা শুরু করেছিলো, কিন্তু নির্বাচন কমিশন পাত্তা দেয়নি। ওখানে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে শুধু শক্তিশালী নয়, কখনো সরকারের তল্পিবাহকও হয় না। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখলাম, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচন কমিশন অফিসে এসে একজন কর্মকর্তার কাছে প্রার্থিতার ফরম জমা দিচ্ছেন, মোদি দাঁড়িয়ে থাকলেও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা দাঁড়াননি, মোদি প্রায় আধাঘণ্টা ওই অফিসে ছিলেন, একবারের জন্যও কর্মকর্তাকে দাঁড়াতে দেখিনি। কারণ মোদি ওই নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তার কাছে মাত্র একজন প্রার্থী, প্রধানমন্ত্রী নন। আমাদের দেশে হলে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, বিভিন্ন মিডিয়াও ঐ কর্মকর্তার চাকরিচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত থামতো না। ভারতের নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান স্বীকৃত স্থানে বসিয়ে দিয়ে গিয়েছেন টি এন সেশন। যতদিন নির্বাচন কমিশনকে সরকার মান্যতা দেয়নি ততদিন তিনি কোন নির্বাচন করেননি। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হয়েই বলে উঠলেন, ‘আমি সরকারের অংশ নই’। ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী সব রাজনৈতিক দল তার প্রতি ক্ষেপে গিয়েছিলো। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তাকে ‘পাগলা কুকুর’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এমন একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার থাকলে মেশিন বা ম্যানুয়াল ভোটের কোন পার্থক্য থাকে না, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য ক্ষমতার বাইরের দলগুলোকে চিৎকারও করতে হয় না।

এজেন্টদের টিকে থাকার সামর্থ্য থাকতে হবে মর্মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে উক্তি করেছেন তা তার পদ ও দায়িত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আইনবহির্ভূত শক্তি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ এবং সাহস এখন বিএনপির নেই। তবে তারাও শক্তিশালী- নির্বাচন কমিশন অতীতে তাদের শক্তির প্রদর্শন নিশ্চয়ই দেখেছেন। ‘আওয়ামী লীগকে ঠেঙ্গানোর জন্য আমার ছাত্রদলই যথেষ্ট’ বলে বেগম খালেদা জিয়ার হুঙ্কার কি প্রধান নির্বাচন কমিশনার শোনেননি? শুধু সরকারের ব্যাকিং না থাকায় এখন তারা দুর্বল হয়ে পড়ে আছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কর্মীরাও এমন দুর্বল হয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিখিত নীতি হচ্ছে, যে দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সেই দলের অঙ্গসংঠনের ছাত্ররা শুধু রাজনীতি করবে, মিছিল করবে, কিছু ছাত্র অপহরণ করে চাঁদা আদায় করবে, টেন্ডারবাজি করবে, মাস্তানি করবে- অন্যদলের ছাত্ররা শুধু নীরবে দেখে যাবে। যারা লেখাপড়ার চেয়ে নানা অপকর্ম করতে বেশি পছন্দ করে তারা আবার চুপ থাকতে পারে না, দল বদল করে দ্বিগুণ উৎসাহে সরকারি আনুকূল্যে পরিচালিত ছাত্রদের সাথে মিশে অপতৎপরতা চালাতে থাকে। জাতীয় রাজনীতিতেও এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে এমন একতরফা আধিপত্য সৃষ্টির প্রধান কারণ সম্ভবত বিরোধী দলের অভিযোগের প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা। এই সাময়িক দুর্বলদের কোন অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কখনো পাত্তা দিয়েছে বলে শোনা যায়নি। যেখানে আইন নেই, আইনের প্রয়োগ নেই সেখানেই শুধু টিকে থাকার জন্য বডিবিল্ডার হতে হয়; নতুবা আইনই তাদের ভোট কেন্দ্রে অবস্থানের নিশ্চয়তা দেয়ার কথা।

আঙ্গুলের প্রিন্ট না মিললে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে মোট ভোটারের এক শতাংশ ভোটারকে শনাক্ত করার ক্ষমতা দেয়া আছে। শুধু সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের শনাক্ত করার ভিত্তিতে ভোট প্রদানের এমন পদ্ধতির অপব্যবহার হওয়ার সুযোগ আছে কী না আমার জানা নেই। সকল ভোট কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এ ক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার করেছে কী না তাও জানি না। অনেকেই বলাবলি করছিলো, এই এক শতাংশ ভোটের অবৈধ প্রয়োগ হয়েছে। ফিঙ্গার প্রিন্ট না মিললে ভোট প্রদানের সুবিধার্থে এ ব্যবস্থা রাখার দরকার ছিলো এবং এই এক শতাংশ ভোট খুব বেশি নয়। আঙ্গুলের প্রিন্ট আমারও প্রথম মিলেনি, সম্ভবত তৃতীয়বারে হয়েছে। এ সমস্যা আমি ভিসা নেয়ার সময়ও দেখেছি, আমরা যারা একটু বয়সী তাদের আঙ্গুলের রেখা সম্ভবত স্পষ্ট নয়, তাই বারবার মুছে পরিষ্কার করতে হয়।

সব দলই বলে যে, জনগণ তাদের সাথে আছে, কিন্তু ভোট জালিয়াতির কার্যক্রম দেখলে মনে হয় না তারা জনগণের সাথে আছে।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

zeauddinahmed@gmail.com