• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

মুজিব শতবর্ষ

মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

| ঢাকা , শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

১ মার্চ

বাংলাদেশ সোভিয়েত সম্পর্ক এশিয়ায় রাজনৈতিক ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মস্কো সফর নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু সফরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের শুভেচ্ছা নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষিতে এ সফর শুভেচ্ছাগণ্ডী পার হয়ে পারস্পরিক মৈত্রী সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রশস্ততর করবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা বঙ্গবন্ধুর সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অতীত পাতাগুলো উল্টে তাদের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে চীন মার্কিন অশুভ আঁতাত সম্পর্কে মন্তব্য করছে। এটা সর্বশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিক্সন সম্প্রতি চীন সফর শেষ করেছেন। এখন বাংলাদেশ তার হৃত মর্যাদা উদ্ধারের জন্য কীভাবে টোপ ফেলবে তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা ধরনের কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করবে। এমতাবস্থায় রাশিয়া নিজের ভূমিকা ও নিক্সন সরকারের ভূমিকার তুলনামূলক বিচারকে বঙ্গবন্ধুর সফরকালে পুনরায় তুলে ধরছে তা নিছক রাজনৈতিক প্রচারণা নয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে গেলেন। তিনি সেখানে চার দিন অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রী আলেকজাই কোসিগিন প্রেসিডেন্ট পোদগর্নি ও পার্টি প্রধান ব্রেজনেভসহ বিশিষ্ট সোভিয়েত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরকারিভাবে বাংলাদেশ-সোভিয়েত সহযোগিতার ভিত মজবুত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের এই সফরের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে যে গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতা দান করেছেন সেজন্যে প্রধানমন্ত্রী মুজিব এ সফরের সুযোগে সোভিয়েত জনগণ, সরকার ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশের সরকার, জনগণ ও নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবেন। এছাড়া তার এ সফরের ফলে মহান বন্ধু রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় হবে এতে কোনোই সন্দেহ নেই।

বঙ্গবন্ধুর সোভিয়েত সফরের অপরিসীম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি এবং জোটনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ শুধু সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীই নয় ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সাম্রাজ্যবাদ এবং ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতির মুক্তি সংগ্রামে মহান সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন বরাবর দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছেন। বিশ্বশান্তিরও মহান প্রহরী সোভিয়েত ইউনিয়ন। কাজেই এশিয়াকে সাম্রাজ্যবাদী শোষণজাল এবং যুদ্ধের পায়তারা থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নীতির মাঝে ঘনিষ্ঠ সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের পিকিং সফরের ফলে মার্কিন চীন সহযোগিতার যে নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলো তাতে করে এশিয়ার নিপীড়িত জাতিগুলোর ওপর চীন মার্কিন খবরদারী এবং সাম্রাজ্যবাদী রণপাঁয়তারা নতুন কৌশলে পরিচালিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। চীন এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যদি এশিয়াকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার কোনো গোপন ফন্দি এটে থাকে তা হলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলোর জন্যে তা অত্যন্ত আশঙ্কার কথা। তাদের এরকম দুরভিসন্ধির খপ্পর থেকে এশিয়ার ক্ষুদ্র দেশগুলোর আত্মরক্ষার প্রধান ভরসা হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়ন।

চীন ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শুধু বিরোধিতাই করেনি স্বাধীনতা বানচাল করার জন্য নানাভাবে চক্রান্তও করেছে। সে চক্রান্ত আজও চলছে এবং ভবিষ্যতেও যে চলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাজেই বহু ত্যাগ এবং অনেক রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হলে আন্তর্জাতিক শক্তিবর্গের চক্রান্ত থেকে আত্মরক্ষার যুক্তিসিদ্ধ পন্থা বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়নের বন্ধুত্ব এবং সাহায্য সহযোগিতা হবে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। এই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর বর্তমান সোভিয়েত সফরের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা : সোভিয়েত ইউনিয়ন শুধু বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যতন্ত্রী দেশই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পরই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পোন্নত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্গঠনের জন্য জরুরি চাহিদা। পূরণ এবং ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা লাভের ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বাস্তবায়নে ওয়াদাবদ্ধ। কাজেই অনুন্নত অর্থনীতিকে সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে কীভাবে দ্রুত উন্নত করা সম্ভব সে বিষয়েও সোভিয়েত ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা এবং সাহায্য সহযোগিতা বাংলাদেশের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী হবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাহায্য সহযোগিতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের ব্যাপারেও বঙ্গবন্ধুর এ সফর তাই বিশেষ সহায়ক হবে।

ঐতিহাসিক আতিথেয়তা

মস্কো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দলের সরকারিভাবে আগত অন্যান্য সদস্যদের ক্রেমলিন প্রাসাদে থাকার আমন্ত্রণ এবং তারা বর্তমানে যে উক্ত প্রাসাদে অবস্থান করছেন তার মধ্যে দিয়ে সোভিয়েত সরকারের এক অনন্য সাধারণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় কূটনৈতিক মহলের মতে ইতিপূর্বে শুধুমাত্র সফরকারী রাষ্ট্রপ্রধানদেরই ক্রেমলিনে রাখা হতো, কোনো সরকারি প্রধানকে রাখা হয় নাই। শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন দ্বিতীয় সরকারি প্রধান যার জন্য ক্রেমলিনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীই নন, তার দলের অন্যান্য সদস্যগণও যে ক্রেমলিনে থাকছেন এটাকেও পর্যবেক্ষকগণ বিশেষ ঘটনা বলে মনে করছেন। বঙ্গবন্ধুকে এই অসাধারণ আতিথেয়তা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে এখানে বেশ জল্পনা কল্পনা চলছে।

চোরাচালান বন্ধ করার জন্য ৯ হাজার সীমান্তরক্ষী

নিয়োগ করা হচ্ছে

ঢাকা। পুলিশ ডিরেক্টরেটের অধীনে বাংলাদেশ রাইফেলের প্রায় ৯ হাজার লোক তিন চার দিনের মধ্যে ৩ শত সীমান্ত ফাঁড়িতে নিয়োজিত হবে। তারা সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন অপরাধ ও চোরাচালানী রোধ করবে। পুলিশের ইনসপেক্টর জেনারেল এই তথ্য প্রকাশ প্রসঙ্গে বলেন যে, বি. ডি. আর-এর লোকরা ইতোমধ্যে তাদের হেডকোয়ার্টার থেকে রওয়ানা দিয়ে কতিপয় সীমান্ত ফাঁড়িতে গিয়ে পৌঁছেছে। অবশ্য তিনি বলেন যে, যুদ্ধের সময় সীমান্ত বহু ফাঁড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং এসব ফাড়ি মেরামত ও পুনর্গঠনে কিছু সময় লাগবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত

পরিষদসমূহ বাতিল

রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ লোকাল কাউন্সিল ও মিউনিসিপাল কমিটি (বিলোপ ও প্রশাসন)। (সংশোধনী) আদেশ জারী করেছেন। ১৯৭২ সালের ২ জানুয়ারি থেকেই এই আদেশ কার্যকরী হিসেবে গণ্য করা হবে। এই আদেশের আওতায় বাংলাদেশের সব লোকাল কাউন্সিল ও মিউনিসিপাল কমিটি বাতিল এবং চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সদস্য ও প্রশাসকদের কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এই আদেশবলে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত ইউনিয়ন, টাউন কমিটির নাম শহর কমিটি, থানা কাউন্সিলের নাম থানা উন্নয়ন কমিটি, জেলা কাউন্সিলের নাম জেলা বোর্ড এবং মিউনিসিপাল কমিটির নাম পৌরসভা রাখা হয়েছে। এইসব কমিটির বর্তমান কাজ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে মহকুমা হাকিম, জেলা প্রশাসক ও সরকারের। ওপর কমিটি নিয়োগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রতি ইউনিয়নে থানা স্থাপন করা হবে

ঢাকা। সরকার দেশের চার হাজার ইউনিয়নে একটি করে থানা স্থাপনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পুলিশ কর্মচারীদের বর্তমান সংখ্যা বৃদ্ধি করে এক লক্ষ করার সুপারিশের প্রেক্ষিতেও পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল আজ এই কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, প্রশাসনিক ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জনগণের দ্বারে পৌঁছে দেয়া এবং বর্তমান পুলিশবাহিনীকে পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে সরকার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এই পরিকল্পনা তারই অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৪১টি থানা রয়েছে। এবং তাতে ২৭ হাজার পুলিশের লোক নিয়োজিত আছে।

তিনি প্রসঙ্গত বলেন যে, বর্তমানে তারা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তাহলো টাকার অভাব। টাকা পাওয়া গেলেই যথাসময়ে পরিকল্পনা কার্যকরী করা হবে। দখলদার বাহিনী কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশের প্রতিষ্ঠানের হিসেব দিতে গিয়ে তিনি জানান যে, বাংলাদেশে মোট ৪৪১টি থানার মধ্যে প্রায় একশত থানা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশের লোক হানাদারবাহিনীর হাতে নিহত কিংবা নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ বিভাগের শতকরা ৯০ ভাগ যানবাহন ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। আইজিপি বলেন যে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ভারত থেকে ৫০টি পুলিশ ট্রাক বাংলাদেশে আসবে।

  • রাষ্ট্রভাষা বাংলা, রাষ্ট্রের ভাষা হোক

    এমআর খায়রুল উমাম

    একযুগের বেশি সময় আগের ঘটনা। জেলা শহরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসন

  • খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন অগ্রণী ভূমিকায় বারি

    ড. মো. রফিকুল ইসলাম

    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI, বা ‘বারি’) - দেশের সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

  • গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু

    নোয়াখালী, ১৪ জুলাই। সম্প্রতি চৌমোহনী পাবলিক ইন্সটিটিউট হলে মহকুমা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জনাব নুরুল হকের সভাপতিত্বে বেগমগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জনাব নুরুল আলমকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আক্কাসকে সম্পাদক করিয়া একটি কমিটি গঠিত হয়।