• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন অগ্রণী ভূমিকায় বারি

ড. মো. রফিকুল ইসলাম

| ঢাকা , শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI, বা ‘বারি’) - দেশের সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বারি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ডাল, তৈলবীজ, ফল, সবজি, কন্দাল, মসলা এবং গৌণ দানাদার ফসল (চিনা, কাউন, বার্লি ইত্যাদি) মিলিয়ে ২০৭টি ফসলের (ধান, গম, ভুট্টা, পাট, ইক্ষু, তুলা ও চা ব্যতীত) ওপর গবেষণা কাজ পরিচালনা করছে। এসমস্ত ফসল বা ফসলজাত খাদ্যদ্রব্য উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন (যেমন, শর্করা, আমিষ, ¯স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ) এবং আঁশসমৃদ্ধ যা সুস্থ-সবল দেহে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত অপরিহার্য।

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও খাদ্য বা পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে এখনও অনেকখানি পিছিয়ে আছে। বিষয়টি আর একটু পরিষ্কার করা দরকার। শুধু প্রধান খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করলে বলা হয় দেশটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সেই অর্থে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ যেহেতু প্রধান খাদ্য “ধান বা চাউল” উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছে। আর খাদ্য বা পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের অর্থ হলো একটি দেশ তার সব জনগণের জন্য পরিমিত বা সুষম পুষ্টির যোগান দিতে সক্ষম। সুস্থ-সবল একটি জাতি গঠনের জন্য পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এর ২নং লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএ-২) অর্জনে বাংলাদেশ সরকার তাই পুষ্টি নিরাপত্তার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬৩.০৫ মিলিয়ন এবং জনসংখ্যার ঘনত্বে বিশ্বের ৮ম অবস্থানে বাংলাদেশ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১, ১১৫.৬২ জন)। মূলত: দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যাধিক হওয়ার কারণে কৃষি প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ খাদ্য ফসলের ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশে।

ধান বা চালে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বোরো ধান চাষে অধিক গুরুত্ব প্রদান ও দ্রুত সম্প্রসারণ ডাল, তেল, শাকসবজি ও মসলা ফসল আবাদ ও উৎপাদন হ্রাসের অন্যতম কারণ। ফলে বর্তমানে ডালের উৎপাদন ঘাটতি প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন (৬৫%) যেখানে ডালের মোট চাহিদা রয়েছে ২৫.৫০ লাখ মেট্রিক টন (উৎস : ডাল গবেষণা কেন্দ্র, বারি); ভোজ্য তেলের উৎপাদন ঘাটতি ১০.৪৯ লাখ মে. টন (৮০%), মোট চাহিদা ১২.৮৫ লাখ মে. টন (উৎস : তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র, বারি); মসলার উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১২ লাখ মে. টন (৩৩%), মোট চাহিদা ৩৬ লাখ মে. টন (উৎস: মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বারি); এছাড়া বর্তমানে ফলের উৎপাদন ঘাটতি ৬৬ লাখ মে. টন (৫৭%) এবং সবজির উৎপাদন ঘাটতি প্রায় ১২৬.৫ লাখ মে. টন (৭৫.৭৪%) যেখানে দেশে ফলের মোট চাহিদা ১১৬.৮ লাখ মে. টন এবং সবজির মোট চাহিদা ১৬৭.০ লাখ মে. টন (উৎস: ফল গবেষণা বিভাগ এবং সবজি গবেষণা বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বারি)।

তবে সুখবর হলো বারি উদ্ভাবিত আলুর উন্নত জাতসমূহ আবাদের ফলে সম্প্রতি বাংলাদেশ আলু উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছে যদিও অন্যান্য কন্দাল ফসল যেমন, মিষ্টিআলু, কচু, ওল ইত্যাদির ঘাটতি রয়েছে। গৌণ দানাদার ফসল যেমন, চিনা, কাউন, বার্লি, সরগম, ইত্যাদি উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন হলেও এগুলোর আবাদ, উৎপাদন ও ব্যবহার অনেক কম। তাই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন করতে হলে দেশে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রতি বছর দেশে যে হারে (১.০৩%) মানুষ বাড়ছে, কৃষি জমির পরিমাণ কমছে প্রায় একই হারে (১%)। এহেন পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উচ্চফলনশীল জাত, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং শস্য বহুমুখীকরণসহ নিবিড়তা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তাই উপরোল্লিখিত সব ধরণের ফসলের ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত এবং উন্নত উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি উল্লিখিত প্রায় প্রতিটি ফসলের এক বা একাধিক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে যা ফসল ও এলাকাভেদে স্থানীয় জাতের তুলনায় ১০-৪০% পর্যন্ত বেশি ফলন দিতে সক্ষম, তবে শুধু ফলন নয় অনেকক্ষেত্রে বারি উদ্ভাবিত জাতগুলো গুণমানেও উন্নত এবং কিছু জাতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন, পুষ্টিমান বেশি, রোগ-বালাই প্রতিরোধী, স্বল্প দৈর্ঘ্য, স্বল্পমেয়াদি, জলাবদ্ধতা/খরা/লবণাক্ততা/উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু, ইত্যাদি যা প্রতিকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দেয় এবং শস্য নিবিড়তা বাড়ানোর মাধ্যমে মোট উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

এছাড়া বারি উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসলের উন্নত চাষবাদ পদ্ধতি/কৌশলসমূহ ব্যবহারে প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির তুলনায় ফসলভেদে ১০-৩৫% বেশি ফলন পাওয়া যায় (বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদন, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বারি)। বারি উদ্ভাবিত মোট প্রযুক্তির সংখ্যা ১০৮৭ এর মধ্যে উন্নত জাত ৫৫৮টি (হাইব্রিড জাতসহ) এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ৫২৯টি। তাই বলা যায়, উন্নত এসব জাত এবং উৎপাদন প্রযুক্তিগুলো সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা যথাযথভাবে ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন কমপক্ষে গড়ে ২৫% বৃদ্ধি পাবে যা খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। বারি উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাতগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

ডাল ফসল : বারি’র ডাল গবেষণা কেন্দ্র এ পর্যন্ত ৩৭টি উন্নত জাত উদ্ভাবন ও অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে ছোলার ১১টি জাত, মসুরের ৮টি, মুগের ৬টি, খেসারির ৪টি, মাষকলাইয়ের ৪টি, মটরের ৩টি এবং ফেলনের ১টি জাত রয়েছে। উন্নত এসব জাতগুলোর মধ্যে বারি ছোলা-৫, বারি ছোলা-৯, বারি ছোলা-১০, বারি মুগ-৩, বারি মুগ-৪, বারি মুগ-৬, বারি মুগ-৮, বারি মসুর-৩, বারি মসুর-৬, বারি মসুর-৭, বারি মসুর-৮, বারি মাষকলাই-৩, বারি খেসারি-২, বারি খেসারি-৩, বারি ফেলন-১, বারি মটর-১ এবং বারি মটর-৩ জাতগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে।

তৈলবীজ ফসল : বারি’র তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত জাতের মোট সংখ্যা ৩৮। এর মধ্যে রয়েছে সরিষার ১৮টি, তিলের ৩টি, বাদামের ৮টি, সূর্যমুখীর ২টি এবং সয়াবিনের ৬টি জাত। বর্তমানে সারা দেশে জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে বারি সরিষা-১৪। তবে বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭ এবং বারি সরিষা-১১ জাতগুলোও দেশব্যাপী চাষ হচ্ছে। এছাড়া বারি তিল-৩, বারি তিল-৪, বারি বাদাম-৮, বারি বাদাম-৯, বারি সূর্যমুখী-২, বারি সয়াবিন-৫, বারি সয়াবিন-৬ এবং বারি সূর্যমুখী-১ ও ২ জাতগুলো দেশের বিস্তৃত এলাকায় চাষ হচ্ছে।

মসলা ফসল : বারি’র মসলা গবেষণা কেন্দ্র এযাবৎ উদ্ভাবন করেছে ২১ ধরনের মসলা ফসলের উন্নত জাত। অবমুক্তকৃত মোট জাতের সংখ্যা ৪১টি, যার মধ্যে পিয়াজের ৬টি, রসুনের ৪টি, হলুদের ৫টি, আদার ৩টি, মরিচের ৩টি, মেথির ২টি, ধনিয়ার ২টি, কালোজিরার ১টি, গোলমরিচের ১টি, আলুবোখারার ১টি, পাতা পিয়াজের ১টি, বিলাতি ধনিয়ার ১টি, মৌরির ২টি, দারুচিনির ১টি, চিভ-এর ১টি, তেজপাতার ১টি, একাঙ্গীর ১টি, শলুকের ১টি, ফিরিঙ্গির ১টি, পুদিনার ২টি এবং পানের ১টি জাত রয়েছে। বারি পিয়াজ-১ ও বারি পিয়াজ-৪ রবি মৌসুমে প্রায় সারা দেশব্যাপী চাষ হয়, তবে বারি পিয়াজ-২ ও ৩ খরিপ মৌসুমে কিছু এলাকায় চাষ হয়। বারি রসুন-১ ও বারি রসুন-২ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এছাড়া বারি হলুদ-৪ ও ৫, বারি আদা-১, বারি মরিচ-১, বারি মরিচ-২, বারি মেথি-১, বারি মেথি-২, বারি ধনিয়া-১, বারি ধনিয়া-২ এবং বারি কালোজিরা-১ জাতগুলোও কৃষকেরা খুব পছন্দ করেছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষ হচ্ছে।

গৌণ দানাদার ফসল : গৌণ দানাদার ফসলের (যেমন : বার্লি, কাউন, চিনা, ইত্যাদি) উন্নত জাতগুলো উদ্ভাবন করেছে বারি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ এবং ভবিষ্যতে বিভাগটি অপ্রচলিত এসব দানাদার ফসলের উন্নয়নে গবেষণা কাজ চালিয়ে যাবে। এ পর্যন্ত বার্লির ৯টি জাত, কাউনের ৩টি এবং চিনার ১টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বার্লির জাতগুলো লবণাক্ত এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় এবং কাউনের জাতগুলো চরাঞ্চলের কৃষকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

কন্দাল ফসল : কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র মোট ১১৭টি উন্নত জাত অবমুক্ত করেছে। এগুলোর মধ্যে আলুর জাত ৯১টি। উল্লেখ্য সারা দেশে উচ্চফলনশীল এসব জাত চাষাবাদের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে আলুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বারি আলু-৭ (ডায়ামন্ট) ও বারি আলু-৮ (কার্ডিনাল) এই দু’টি জাত খুবই জনপ্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশব্যাপী চাষ হচ্ছে। এছাড়া বারি আলু-১৩, বারি আলু-২৫, বারি আলু-২৮ ইত্যাদি জাতের গ্রহণযোগ্যতা কৃষকদের মাঝে ক্রমশ: বাড়ছে। অন্যান্য কন্দাল ফসলের মধ্যে মিষ্টি আলুর ১৬টি, পানিকচুর ৬টি, মুখীকচুর ২টি এবং ওলকচুর ২টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বারি পানিকচু-১ (লতিরাজ) জাতটি দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

সবজি : বারি’র উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সবজি বিভাগ ৩৭ ধরনের সবজির ওপর গবেষণা চালিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১২২টি উন্নত জাত অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টমেটোর ১৯টি (হাইব্রিড জাতসহ) জাত, বেগুনের ১০টি, বিটি বেগুনের ৪টি, সীমের ৮টি, মুলার ৩টি, লাউ-এর ৫টি, মিষ্টিকুমড়ার ৩টি (হাইব্রিড জাতসহ), ব্রকলীর ১টি, মটরশুটির ৩টি, ঝাড়শিমের ৩টি, ঝিঙ্গার ২টি, চিচিঙ্গার ১টি, হাইব্রিড পোটলের ১টি, চালকুমড়ার ১টি, চিনালের ১টি, ঢেঁড়শের ২টি, লাল শাকের ১টি, ডাঁটা শাকের ২টি, পুঁইশাকের ২টি, গীমা কলমির ১টি, পালং শাকের ২টি, লেটুসের ১টি, মিষ্টি মরিচের ২টি এবং স্কোয়াশের ১টি জাত। উদ্ভাবিত এসব জাতের মধ্যে বারি টমেটো-২, বারি টমেটো-১১ ও বারি টমেটো-১৪ (শীতকালে), বারি টমেটো-১৫, বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ ও বারি হাইব্রিড টমেটো-৮ (গ্রীষ্মকালে), বারি বেগুন-৮, বারি বেগুন-১০, বারি বিটি বেগুন-৪, বারি মুলা-১, বারি লাউ-৪, বারি হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া-২, বারি ঢেঁড়শ- ১ ও ২, বারি হাইব্রিড পটল-১, বারি সীম-১, বারি সীম- ৭, বারি সীম-৯, বারি ঝাড়শিম- ২ ও ৩, বারি মিষ্টি মরিচ-১, বারি লালশাক-১, বারি ডাঁটা শাক-১, বারি পুঁই শাক-১, ইত্যাদি জাতগুলো বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয় হয়েছে।

ফল : বারি’র উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগ প্রধান ও অপ্রধান মিলিয়ে ৩১ রকম ফলের ওপর গবেষণা চালিয়ে মোট ৭৮টি উন্নত জাত অবমুক্ত করেছে। ফলের এসব জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আমের ১২টি, কাঁঠালের ৩টি, লিচুর ৫টি, পেয়ারার ৪টি, কুলের ৫টি, কলার ৫টি, জামরুলের ৩টি, সফেদার ৩টি, লেবুর ৩টি, কমলার ৩টি, মাল্টার ২টি, বাতাবিলেবুর ৫টি, পেঁপের ১টি, আমলকির ১টি, আমড়ার ২টি, কামরাঙ্গার ২টি, তেঁতুলের ১টি, তৈকর ১টি, কদবেলের ১টি, জলপাই-এর ১টি, বেল-এর ১টি, নারিকেলের ২টি, নাশপাতির ১টি, প্যাশনফলের ১টি, রাম্বুতানের ১টি, সাতকরার ১টি, আঁশফলের ২টি, বিলাতি গাবের ১টি, লটকনের ১টি, ড্রাগন ফলের ১টি, স্ট্রবেরির ৩টি জাত। ফলের এসব জাতের মধ্যে বারি আম-৩ (আম্রপালি), বারি আম-৪ (হাইব্রিড), বারি আম-৮, বারি আম-১১, বারি কাঁঠাল-২, বারি কাঁঠাল-৩, বারি লিচু-২, বারি লিচু-৩, বারি লিচু-৫, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৪ (অমৌসুমী এবং বীজহীন), বারি কলা- ১, বারি কলা- ৩, বারি কুল-১, বারি কুল-৫, আমড়া-১, বারি মাল্টা-১, বারি মাল্টা- ২, বারি বাতাবি লেবু- ৩, বারি বাতাবি লেবু-৫, বারি জামরুল-৩, বারি আঁশফল-২, বারি স্ট্রবেরি-৩, বারি ড্রাগন ফল-১ ইত্যাদি জাতগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে।

উপরোল্লিখিত ফসলগুলোর উন্নত জাতের পাশাপাশি তাদের উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশে ফসলের উৎপাদন অনেকাংশে বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও উচ্চফলনশীল ও অধিক গুণাগুণসম্পন্ন জাত এবং জৈব নির্ভর ও পরিবেশবান্ধব উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বারি’র ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আরও কিছু খাদ্যফসলে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। এটা অনস্বীকার্য যে, দেশে এ সমস্ত ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বারি উদ্ভাবিত জাতগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং কিছু বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক উদ্ভাবিত কিছু জাত এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জাতগুলোও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত জাতগুলোর বীজের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচ বেশি হয় এবং অনেকক্ষেত্রে বীজের গুণগতমান ঠিক না থাকায় কৃষকেরা প্রতারিত ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন। এসব কারণে কৃষকের মাঠে বাস্তবায়িত গবেষণা থেকে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাতগুলো ব্যবহার করতে কৃষকেরা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বারি উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাতগুলোর বীজ উৎপাদন করে যথাসময়ে কৃষকের নাগালের মধ্যে পৌঁছে দিলে দ্রুত জাতগুলো সম্প্রসারিত হবে। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ কৃষিকাজে জড়িত বেসরকারি সংস্থাগুলো বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তিগুলো যথাযথভাবে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিলে এ সমস্ত ফসলের মোট উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে যা দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের দিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে শুধু উৎপাদন বাড়লেই খাদ্য বা পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জিত হবে এমনটি বিবেচনা করা সঠিক হবে না। বাংলাদেশের ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে বেশিরভাগ মানুষ পরিমিত বা সুষম খাদ্য গ্রহণে সচেতন নন। ব্যাপক প্রচার/প্রচারণা ও বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের জনগণকে খাদ্যাভাস পরিবর্তনসহ সুষম খাদ্য ও পুষ্টি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ ও অভ্যস্ত করা গেলে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন সহজতর হবে।

[বিঃদ্রঃ বারি উদ্ভাবিত জাতসমূহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে ভিজিট করুন বারির ওয়েব সাইট:www.bari.gov.bd]

[লেখক : মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মহাপরিচালকের দপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর]

  • রাষ্ট্রভাষা বাংলা, রাষ্ট্রের ভাষা হোক

    এমআর খায়রুল উমাম

    একযুগের বেশি সময় আগের ঘটনা। জেলা শহরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসন

  • গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু

    নোয়াখালী, ১৪ জুলাই। সম্প্রতি চৌমোহনী পাবলিক ইন্সটিটিউট হলে মহকুমা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জনাব নুরুল হকের সভাপতিত্বে বেগমগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জনাব নুরুল আলমকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আক্কাসকে সম্পাদক করিয়া একটি কমিটি গঠিত হয়।

  • মুজিব শতবর্ষ

    মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

    ১ মার্চ বাংলাদেশ সোভিয়েত সম্পর্ক এশিয়ায় রাজনৈতিক ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ