• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

সড়কে নতুন আইন নয় বিশৃঙ্খলার শাসন অব্যাহত সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে। কঠোর শাস্তির ভয়ে চালকেরা লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন-এমনটা ভাবা হলেও বাস্তবে এর উল্টোটা হয়েছে। নতুন লাইসেন্স সংগ্রহ ও পুরোনো লাইসেন্স নবায়নের আবেদন কমে গেছে। বেড়েছে ফিটনেসবিহীন যানবাহনও। আইন অমান্যের দায়ে জরিমানা আদায় ও সাজার পরিমাণ বেশ কমেছে।

সংসদে পাস হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পর গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক আইন কার্যকর হয়। এর আগে-পরের সময়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সরকার কঠোর আইনটি করলেও এর সুফল বা ইতিবাচক কোন প্রভাব পরিবহন খাতে এখনও পড়েনি। দেশের সড়ক-মহাসড়কের বিশৃঙ্খলা দেখলে মনে হবে না যে এখানে কোন আইন আছে। কিন্তু আমরা জানি, দেশে আইন আছে এবং এরপরও কেন এত বিশৃঙ্খলা, সেই কারণটিও সবাই জানে। আইন যদি প্রয়োগ না হয়, তবে সেই আইন অর্থহীন। সড়কে বিশৃঙ্খলার মূল কারণ আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা। সময়ের সঙ্গে আইন যুগোপযোগী করতে হয়। সেই পুরোনো আইনের বদলে এখন একটি নতুন সড়ক আইন হয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আট বছর ধরে আটকে থাকা সড়ক পরিবহন আইন দ্রুতই মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। এর বছরখানেকের বেশি সময় পর গত বছরের ১ নভেম্বর সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করার ঘোষণা আসে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে নতুন সড়ক আইন এখনও কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কোথাও এর প্রয়োগের কাজটি হয়নি। অন্যদিকে সড়কে চলমান অরাজকতায় একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।

পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে সমাজের সব স্তরেই উদ্বেগ আছে। এ জন্য নতুন সড়ক আইন, কঠোর শাস্তির বিধান মানুষের মধ্যে আশা তৈরি করেছিল। কিন্তু মালিক-শ্রমিকদের দাবির মুখে ছাড় দেয়া এবং আইন প্রয়োগের শৈথিল্য পরিস্থিতিকে বেসামাল করে তুলেছে। এ খাতে বিশৃঙ্খলা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে সরকারে পূর্ণ মনোযোগ না থাকলে এ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সরকারের মধ্যেও সে মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। আইন প্রয়োগের প্রস্তুতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক অভাব আছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা অতীতে দেখেছেন, সরকার কখনও কঠোর, কখনো নরম আচরণ করে। ফলে সরকার কঠোর হলে তারা আন্দোলনে নামেন। নরম হলে বিশৃঙ্খলায় ফিরে যান। এ চক্রেই চলছে পরিবহন খাত।

আইন কার্যকর করে সে আইনকে এড়িয়ে গেলে বা এর প্রায়োগিক বিষয়ে গুরুত্ব না দিলে তা একটা বাজে নজির হয়ে থাকবে। কাজেই নতুন সড়ক আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান কাম্য। এটা ঠিক যে, দীর্ঘদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা জেঁকে বসেছে, তা হয়ত দ্রুত দূর করা যাবে না। এ অবস্থায় যা বাস্তবসম্মত তা হল, কিছু সড়ক ও মহাসড়ক নির্দিষ্ট করে সেখানে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ও লোকবল নিশ্চিত করে নতুন সড়ক আইন কঠোরভাবে ও শতভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া যায়। আইন কঠোর হলে বা শাস্তি-জরিমানা বাড়লে মানুষের মধ্যে আইন ভাঙার ব্যাপারে ভয় বাড়বে। ফলে নতুন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারলে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে।