• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে হবে

| ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে কয়েক বছর ধরে ঝরে পড়ার হার একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এখনও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি ঝরে পড়ছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এ তিন স্তরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে মাধ্যমিক। এই স্তরের জন্য একাধিক প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে মাধ্যমিকেই। আর তিন স্তরেই ছেলেদের তুলনায় বেশি ঝরে পড়ছে মেয়েরা।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার খবরটি উদ্বেগজনক। সরকার যখন প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তির লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টা করছে, তখনই দৃশ্যমান হলো, এ শিশুদের একটা বড় অংশ মাধ্যমিক পর্যায় পেরোতে পারছে না। এসএসসি ও এর সমমানের শিক্ষা অর্জন করার আগেই তাদের শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটছে। এভাবে একদিকে এদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অবসান ঘটছে, অন্যদিকে এদের অর্জিত শিক্ষা তেমন কোন কাজে লাগছে না। এই বয়সী ছেলেরা এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে যায়। তখন বিদ্যালয়ে না যেতে যেতে ঝরে পড়ার দিকে যায়। আর মেয়েদের ঝরে পড়ার বড় কারণ হলো দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষকদের রূঢ় আচরণ, অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ, প্রাথমিক স্তর থেকে উপরের দিকে শিক্ষার ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে।

এ সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে সমস্যা গুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। জানা প্রয়োজন, এ পর্যায়ে এসে কী কী কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। জানতে হবে, মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে কী কী কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। সমাজের কোন শ্রেণীর সন্তানদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার বেশি। ধনী বা সচ্ছল পরিবারের তুলনায় দরিদ্র বা অসচ্ছল পরিবারে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেশি কিনা; অঞ্চলবিশেষে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কারণও রয়েছে কিনা। এসব খতিয়ে দেখতে হবে। কারণগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন। এই দায়িত্ব নেয়া উচিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার বিস্তারে দরিদ্রবান্ধব যেসব কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা যাতে ভীতিকর না হয়ে আগ্রহের বিষয় হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্যের কারণে মাধ্যমিকে মেয়েরা ঝরে পড়ছে। একদিকে পরিবারের হাল ধরতে, পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করতে মেয়ে শিশুরা লেখাপড়া থেকে সরে যায়। অন্যদিকে পরিবারের কন্যাশিশুকে বিয়ে দিয়ে সদস্য সংখ্যা কমাতে, খরচ কমাতে, অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেয় পরিবারগুলো। এর ফলে ওদের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যায় সেটা কেউ বুঝতে চায় না। বিয়ের বয়স কম বা বেশি নয়, মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কথা ভাবতে হবে, পথ দেখাতে হবে। পরিবারগুলোকে বুঝতে ও বোঝাতে হবে যে, শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে এটাই প্রত্যাশা।