• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

লকডাউন কার্যকরের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা কাম্য নয়

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

আবারও সাধারণ ছুটি/‘লকডাউন’ নিয়ে তুঘলকিকা- ঘটানো হলো। এবার কোনরকম আগাম প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করেই ১০ জেলায় ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে মধ্যরাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অথচ করোনা সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল- রাজধানী ঢাকাকেই সাধারণ ছুটির আওতাভুক্ত করা হয়নি। এবং করোনা রোগী নেই এমন এলাকাও সাধারণ ছুটির আওতাভুক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় বর্তমানে ‘সাধারণ ছুটি’ বা ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ) বাস্তবায়ন হচ্ছে- এমন এলাকাকেও সর্বশেষ সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ছুটি আদৌ কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দিহান করোনা মোকাবিলায় সরকারি গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা।

পরস্পরবিরোধী, পূর্ব-প্রস্তুতিবিহীন ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীন- এ ধরনের সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯০) রোধে আদৌ কার্যকর ভূমিকা রাখবে কিনা- তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। করোনা মোকাবিলায় সরকার গঠিত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির এক সদস্য সংবাদকে বলেছেন, ‘এ কমিটির কোন মতামতকে আমলেই নিচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা আমলারা।’ অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে আমলাদের মর্জিমাফিক সবকিছু চলছে। তারা যখন যা খুশি করে যাচ্ছেন; সাধারণ ছুটি দিচ্ছেন, লকডাউন ঘোষণা করছেন; লকডাউন কার্যকর থাকা এলাকায় আবারও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছেন। এ ধরনের হঠকারি সিদ্ধান্তে সংক্রমণ যে আরও বাড়বে সেটা বলাবাহুল্য।

করোনা মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিশ্বের অন্যন্য দেশ এগোলেও দেশে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জোনভিত্তিক লকডাউন কার্যকরের ক্ষেত্রে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি হওয়ার কোনরকম আশঙ্কা ছিল না। দ্রুত করোনা সংক্রমণ বাড়ায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের পর তা কার্যকর করতে সম্মতি দেয়া হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আমরা মনে করি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এলাকা বা জোনভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগটি দ্রুত কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। জোনভিত্তিক কার্যক্রমের সার্বিক বিষয়ে ত্রুটিবিচ্যুতির পেছনে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজকর্মে বিন্দুমাত্র সঙ্গতি নেই। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মহামারীটি চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে এর সংক্রমণ আরও বাড়বে। এদিকে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি সবকিছুই চালু হয়ে গেছে। চালু হয়েছে গণপরিবহনও। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করোনার বিস্তার রোধ হবে এবং একইসঙ্গে সচল থাকবে জীবিকার পথগুলো। এ ব্যাপারে মানুষেরও সচেতনতার প্রয়োজন আছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এটা বুঝতে হবে, লকডাউন মানে বন্দিত্ব নয়, নিজেদের এবং অন্যদের সুরক্ষার জন্যই এ সাময়িক ব্যবস্থা। এই কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে।

মানুষকে যেভাবেই হোক, ঘরে রাখতে হবে। সাধারণ ছুটির উদ্যোগ যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয় সেজন্য এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজে সুসমন্বয় থাকাটা জরুরি। উদারনীতিতে নয়, কঠোরতম প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই এ লকডাউন কার্যকর করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনরকম ছাড় দেয়া যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর লকডাউন বা স্বাস্থ্যবেষ্টনী তৈরি করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সংক্রমণ পর্যায়ক্রমে স্থিতিশীল হবে।