• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

যেসব হাসপাতাল সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে না তাদের লাইসেন্স বাতিল করুন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

সিলেটের বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে না। চিকিৎসক না পেয়ে গত ৬ দিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে এক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীকে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্তারা বলছেন, তারা অভিযুক্ত হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু মৃতের স্বজনের অভিযোগ এসব লোক দেখানো। কঠোর কোন ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই হাসপাতালগুলো করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে না।

সিলেটে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি আরও দুর্ভাগ্যের এজন্য যে, তারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলেও বেসরকারি হাসপাতাল তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে এবং এ হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে যাতায়াত করে শেষপর্যন্ত কোনরকম চিকিৎসা ছাড়াই সাধারণ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি যে শুধু সিলেটেই হচ্ছে তা নয়, বরং গোটা দেশে একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশজুড়ে করোনাবহির্ভূত লাখ লাখ রোগী রয়েছেন। যাদের অনেকের অবস্থা এতটা গুরুতর যে, শুধু ডাক্তারের সঙ্গে ফোনালাপ করে ওষুধ দেয়া সম্ভব না। বিশেষত হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, পক্ষাঘাত, হাঁপানি-শ্বাসকষ্ট, লিভার, কিডনি, দাঁত ও চোখের রোগ নিয়ে যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগ-ব্যাধিতে ভুগছেন তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়েছে। অনেকের জরুরি অপারেশন করার বিষয় রয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো- এসব বিষয় নিশ্চিত করার কার্যত যেন কেউ নেই।

কোভিড-১৯ টেস্টের রিপোর্ট সঙ্গে না থাকায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে ফিরিয়ে দেয়া, রাস্তায় অজানা গন্তব্যে ঠেলে দেয়া, অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার ঘটনা এখন নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কোভিড হাসপাতালগুলো কোভিড টেস্টের পজিটিভ রিপোর্ট ছাড়া লক্ষণ ও উপসর্গ আছে এমন রোগীদেরও ফিরিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে নন-কোভিড হাসপাতালগুলো কোভিড টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া সাধারণ রোগীদের সেবা দিচ্ছে না। অথচ এর আগে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থেকে সব ধরনের রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে কোনো নির্দেশনাই কাজে আসছে না। এর কারণ নির্দেশনায় কঠোর শাস্তির কথা বলা হলেও সেটির কোন প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত নেই। অর্থাৎ এ ধরনের অপকর্মে কোন বেসরকারি হাসপাতাল শাস্তি পেয়েছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে- এমন উদাহরণ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে হাসপাতালগুলো মনে করছে, সাধারণ রোগীদের সেবা না দিলেও তাদের কোনোরকম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। আর এমনটা বুঝেই হাসপাতালগুলো নিজেদের সুবিধামতো সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য, মানুষকে সেবা না দিয়ে হাসপাতাল যদি হাত গুটিয়ে নেয়, সেটিকে তখন আর হাসপাতাল বলা যায় না। রোগীরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যাচ্ছেন; কিন্তু হাসপাতাল ভর্তি নিচ্ছে না। দেশে সরকার আছে, সরকারের আইনকানুনও আছে; অথচ হাসপাতালগুলো সরকারের নির্দেশনা মানছে না। কোন সভ্য রাষ্ট্রে এমন যথেচ্ছাচার কী করে সম্ভব? আমরা জানতে চাই, তাহলে তাদের হাসপাতাল চালানোর লাইসেন্স কেন বহাল আছে? যারা এ সময়ে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে পিছপা হচ্ছে এবং তাদের অবহেলার কারণে রোগীরা মৃত্যুবরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে শুধু হুশিয়ারি নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়। কেউ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। করোনার জন্য সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় যেন গাফিলতি না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।