• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মুক্তিযোদ্ধার নতুন তালিকা নিয়েও বিতর্ক অবসান করুন এ অনিয়মের

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

বিমানবাহিনীর ৮১ ও বিজিবির ১ হাজার ১৩৪ জনসহ মোট ১ হাজার ১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেয়ায় এবং নতুন করে দেশের ৪১ জেলায় ১ হাজার ২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালের ২১ জুন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটেভুক্ত হয়ে থাকেন। তাই বিদ্যমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার আওতাবহির্ভূত থাকবেন সশস্ত্রবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সহযোগী দৈনিক খবর প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, এ প্রজ্ঞাপন রহিত না করে মন্ত্রণালয় সব বাহিনীতে একটি চিঠি পাঠায়। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পর সশস্ত্রবাহিনীতে যেসব কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন তাদের তালিকা যেন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই তালিকা পাঠায়। যার ফলে ওই তালিকা ধরে মন্ত্রণালয় তাদের সবার সনদ বাতিল করে গত বৃহস্পতিবার।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কের পর বিতর্ক চলছেই। এর আগে সর্বশেষ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিতর্কের জেরে তা স্থগিত রাখা হয়। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, পরে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার সঠিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন এমন ঘোষণা দিলেও হয়নি বরং নতুন বিতর্ক উসকে দেয়া হলো।

দেখা যাচ্ছে, স্বাধীনতার পর ৪ যুগ কেটে গেলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলেন দেশের প্রতি দায়বোধ তাদের জীবনবাজি রাখার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ, সশস্ত্রবাহিনী ও (তখনকার ইপিআর) বিজিবিরও ভূমিকা ছিল অসামান্য।

ব্যক্তিগত কিছু অর্জনের জন্য তারা অস্ত্র হাতে তুলে নেননি, নিজের এবং স্বজনদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেননি। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরও অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজেদের নাম ওঠানোর গরজ অনুভব করেননি। তবে মতলববাজরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পেয়েছে এমন সংখ্যার কোনো হিসাব নেই। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে সঠিকভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়া হয়েছে। এখনও অনেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন, তারা সনদও পাচ্ছেন। এসব সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোন নিয়মকানুন। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার বদলে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে যে যার প্রয়োজনে ও সুবিধা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার গেজেট করাচ্ছেন। এর ফলে সব সরকারের আমলেই প্রচুর সংখ্যক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ দেয়া হচ্ছে।

আমরা চাই, বিমানবাহিনী ও বিজিবির যে ১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেয়া নিয়ে এবং ৪১ জেলায় ১ হাজার ২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, সেটাসহ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির সব বিতর্কের অবসান হোক। এ লক্ষ্যে যথার্থভাবে যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধদের সঠিক তালিকা করতে হবে।