• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মশক নিধন নিয়ে কোন ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

শীত মৌসুম শেষ হতে না হতেই রাজধানীতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যার পর মশার প্রকোপে খোলা জায়গায় দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে। সারাক্ষণ দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে রেহাই মিলছে না মশার কামড় থেকে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মশার ঘনত্ব সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতি সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা নিয়ে মশার ঘনত্ব গণনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। গবেষকদলের প্রধান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল থেকে পানি সংগ্রহ করে প্রতি আধালিটার পানিতে দুই শর বেশি মশার লার্ভা পেয়েছেন গবেষকরা। এর বাইরে নর্দমা, ডোবা এবং অন্যান্য উৎস জমে থাকা পানিতে ডিমের ঘনত্ব দেখেছেন তারা।

মশার ঘনত্ব বৃদ্ধির খবরটি আশঙ্কাজনক। শীতে স্বাভাবিকভাবেই মশার উপদ্রব বেশ বেড়ে যায়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসে বহু লোক আক্রান্ত হয়। ফলে বছরজুড়েই ছিল মশার আতঙ্ক। এবার কিউলেক্স মশার ঘনত্ব বৃদ্ধির খবরটি নতুন শঙ্কার জন্ম দিল। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ১২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। আর ঢাকা শহরে রয়েছে ১৩ প্রজাতির মশা। তবে ঢাকার মোট মশার শতকরা ৯৫ ভাগই কিউলেক্স। এই কিউলেক্স মশা বাংলাদেশের কিছু জেলায় ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়। তাই জরুরি ভিত্তিতে কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আগামী মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে মশা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কচুরিপানা পরিষ্কার, মশার ওষুধ, সরঞ্জামাদি কেনাসহ প্রভৃতি কাজে ৫০-৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এর সিংহভাগ খরচও করা হয় প্রতি বছর। তবে সুফল পায় না নগরবাসী। এ বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে হাজার হাজার নগরবাসী। প্রাণ গেছে অনেকের।

এ কথা ঠিক যে, যত দ্রুত অপরিকল্পিত নগরায়ণ হচ্ছে, তত দ্রুতই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ডোবা-নালা ও ড্রেনগুলো অপরিষ্কার থাকছে। আবার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অনেকে তেমনভাবে সচেতনও নন। অনেক স্থানে ড্রেনের ওপর বস্তি এবং দোকান গড়ে ওঠায় একদিকে মশার নিরাপদ বংশ বিস্তার ঘটছে। অপরদিকে এ পতঙ্গটি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরের সমন্বয়হীনতার কারণেও মশার উৎপাত বাড়ছে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সময় বলা হয়েছিল জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনকে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এ উদ্যোগ। সিটি করপোরেশন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর- দুভাগে ভাগ হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এখন দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করা গিয়েছিল সেবার মান বাড়বে। নগরবাসী তাদের ট্যাক্সের পয়সার একটি প্রতিদান পাবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ধুলো-দূষণ থেকে শুরু করে এমন কোন দুর্ভোগ নেই যা নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে না। রাজধানীর অনেক স্থানেই দিনে-দুপুরেই মশার উৎপাতে মশারি লাগিয়ে অথবা মশা মারার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান প্রয়োজন।

একটু সচেতন হলেই মশা ও মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে আমরা অনেকাংশে মুক্ত থাকতে পারি। মশার বাসস্থান সহজেই ধ্বংস করা যায়। ফুলের টবে জমে থাকা পানি, নারিকেলের মালায় জমে থাকা পানি, পুকুর, জলাশয়, ডোবা, ঝোপঝাড়, বাড়ির আঙিনায় নোংরা জায়গাগুলো নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করে মশাবাহিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

মশা মারার জন্য কামান লাগে না কিন্তু এ খাতে বরাদ্দও নেহায়েত কম নয়। জনবলও অনেক। এর সদ্ব্যবহার করতে পারলে নগরীতে মশা থাকার কথা নয়। এরপরও মশার উৎপাত কীভাবে বাড়ে সেটিই প্রশ্ন। ড্রেন, ডোবা ও নর্দমার পানি চলন্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং লার্ভা মারার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করা জরুরি।

মশক নিধন নিয়ে কোন ধরনের অবহেলা বা শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়। দুই সিটি করপোরেশনকেই এ ব্যাপারে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে। কথা নয়, আমরা কাজ দেখতে চাই। মশার উপদ্রব বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।