• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

বিচারহীনতার অপসংস্কৃতিতে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২০১৮ সালের তুলনায় গত বছর দেশে ধর্ষণের ঘটনা ১৯ ভাগ বেড়েছে। দেশজুড়ে করা ধর্ষণ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৬ হাজার ৩২১টি। ২০১৮ সালে একই অভিযোগে মামলা হয়েছিল ৫ হাজার ১২৩টি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেসরকারি একাধিক সংস্থার প্রতিবেদন থেকেও ধর্ষণ বৃদ্ধির কথা জানা যায়। পুলিশ সদর দফতরে দাখিল হওয়া মামলার ভিত্তিতে পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর বাইরেও আরও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অনেক ভিকটিমই নানা কারণে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করেন না। প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্ষণ বাড়ছে কেন। ধর্ষণ বাড়ার জন্য একক কোন কারণ দায়ী নয়। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনায় বিচার না হওয়া। পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৬৮টি। এসব মামলার মাত্র ২ ভাগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। হতাশাজনক এ পরিসংখ্যান বলে দেয় যে, ভিকটিম বা তার স্বজনরা ধর্ষণ মামলায় বিচার পাচ্ছেন না। বিচার না হওয়ার অপসংস্কৃতি মোটা দাগে দু’ভাবে প্রভাব ফেলে। প্রথমত, একশ্রেণীর ব্যক্তি বিচার না হওয়ার অন্যায় সুযোগ গ্রহণ করে। দ্বিতীয়ত, অনেক ভিকটিম বিচারই চায় না। যারা সাহস নিয়ে বিচার চান তারা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। ধর্ষণের ঘটনায় সত্যতা প্রমাণের লক্ষ্যে ভিকটিমকে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেটা ধর্ষণের চেয়েও ভয়াবহ।

কোন আইন করে ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। আইনের কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। আইনকে হতে হবে নারীবান্ধব। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের বিচার করতে হবে। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত পুলিশ থেকে শুরু করে আইনজীবী পর্যন্ত প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্ষণের মামলায় ভিকটিমকে দোষী প্রমাণ করার অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখতে আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

ধর্ষণ বন্ধে সমাজ-মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। অসুস্থ সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে ধর্ষণ বাড়বে বৈ কমবে না। এজন্য ধর্ষণবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তিগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসতে হবে।