• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

উদোর শাস্তি বুধো খাটছে

পুলিশের দায়িত্বহীনতা না টাকার খেলা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০

দুদকের মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছে মো. জুয়েল রানার। কিন্তু তার পরিবর্তে আড়াই বছর ধরে সাজা ভোগ করছেন গার্মেন্টকর্মী মো. আবদুল কাদের! দুজনের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জের ছাতিয়া গ্রামে। বাবার নাম একই। প্রকৃত অপরাধী জুয়েলের পরিবর্তে নিরপরাধ আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর এ ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দুই সপ্তাহের মধ্যে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ সুপার, বরিশালের পুলিশ সুপার ও দুদকের লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশনকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এটা সুস্পষ্ট যে, অভিযোগ সত্য হলে এটা আরেকটি জাহালম কা- হবে। এর আগে আসামি না হয়েও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর জেল খাটার ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপে জাহালম মুক্তি পান। এবার আবদুল কাদেরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলো। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

বিনা অপরাধে নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা খাটার দৃষ্টান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এতে করে দুদকের প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই কীভাবে একের পর এক অসঙ্গতি ঘটছে, ঘটনার তদন্তে কারা জড়িত ছিলেন, কেন এমন ভুল তারা করলেন, নাকি প্রকৃত অপরাধীর সঙ্গে যোগসাজশে তারা এ জালিয়াতিতে অংশগ্রহণ করেছেন- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, জাহালমের মতো আর কেউ বিনা বিচারে কারাভোগ করছেন না এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। আবদুল কাদেরের ক্ষেত্রেও যদি জাহালমের মতো ঘটনা ঘটে তবে রাষ্ট্রযন্ত্রকেই রহস্যের জাল উন্মোচন করতে হবে। কারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের আসল উদ্দেশ্য কী সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। কাদের নিরপরাধ হলে যেমন দ্রুত কারামুক্তি এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তেমনি তদন্তে গাফিলতির জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় কঠোর সাজা দিতে হবে। এ ধরনের অসঙ্গতির জন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুদককে সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।