• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

পাট খাত রক্ষায় আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯

পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। রফতানিও কমেছে। ঘরে-বাইরে চাহিদা কমে যাওয়ায় পাটপণ্যের মজুদ বাড়ছে। বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) হিসাব অনুযায়ী তাদের মিলগুলোতে ৭০ হাজার টন পাটপণ্য অবিক্রীত হিসেবে রয়ে গেছে। যার বাজার দর প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। উদ্ভূত সংকটে কোন কোন পাট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে গত বুধবার একটি জাতীয় দৈনিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পাট খাতের দুর্দশার প্রভাব পড়েছে কৃষকদের ওপরও। দেশের অনেক অঞ্চলের কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, নওগাঁ জেলায় এ বছর ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। অথচ গত বছর ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর এবং ২০১৭ সালে ৮ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। দেশের অন্য জেলাতেও পাট আবাদের এ নিম্নমুখী ধারা লক্ষ্য করা গেছে।

কৃষক থেকে শুরু করে কারখানা মালিক পর্যন্ত পাট নিয়ে সংকটে পড়েছেন। পাট খাতে এ সংকটের কারণগুলো নতুন নয়। দেশে আবার পলিথিন ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেসব পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেসব পণ্যেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোই পাটের মোড়ক ব্যবহারের আইন মানছে না। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব যাদের তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে কারও মধ্যে পাট পণ্য বা পাটের মোড়ক ব্যবহারের গরজ দেখা যাচ্ছে না। পাটপণ্য ব্যবহার সংক্রান্ত আইন যখন প্রয়োগ করা হতো তখন দেশে পাটের ব্যবহার লক্ষ্যযোগ্য হারে বেড়েছিল। আমরা বলতে চাই, পাটপণ্য ব্যবহার সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে আইন অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার করতে হবে। পলিথিনবিরোধী অভিযান চালাতে হবে নিয়মিত। পাটচাষি বা কারখানা মালিকদের জন্য যেমন, পরিবেশের জন্যও তেমন পাটের ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

পাটের বৈশ্বিক বাজার বিস্তৃত হওয়ার পরিবর্তে সংকুচিত কেন হচ্ছে সেটা একটা প্রশ্ন। এক্ষেত্রে আমলাদের কোন গাফিলতি আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটপণ্যকে প্রক্রিয়াজাত কষিপণ্যের মর্যাদা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সেই নির্দেশনা এখনও বাস্তবায়ন করেনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে তাদের অনীহার কারণ কী সেটা জানা দরকার। পাট রফতানি বাড়াতে নতুন নতুন বাজার খুঁজতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাজার ধরে রাখায় উদ্যোগী হতে হবে। পাটপণ্যে ভারত যে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে সেটা প্রত্যাহারে জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।