• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ঘরে থাকা জরুরি

নির্দেশনা যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে

| ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলেছে, দু’দিন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত না হওয়ায় ধরে নেয়া যাবে না যে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছে। সারা বিশ্বে সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় না আসা পর্যন্ত প্রতিরোধ কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। এখন সবার ঘরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। অথচ অঘোষিত লকডাউনের পঞ্চম দিনে গত সোমবার ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন অনেক মানুষ। মূল সড়কগুলোতে লোকজনের আনাগোনা কম থাকলেও অলিগলিতে ভিড় বাড়ছে। খুলতে শুরু করেছে বেশিরভাগ চায়ের দোকান ও অন্য ছোটখাটো দোকান। কাঁচাবাজারেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। কাজের সন্ধানে বেরিয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও আগের ৪ দিনের চেয়ে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা ছিল বেশি।

করোনার দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর প্রবণতা গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। দু’দিনে কেউ শনাক্ত হয়নি, তাতে অনেকের মনে হয়েছে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এটা বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ বিশ্বের অংশ। গোটা বিশ্বে সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশেও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক সময়। এ সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে রোগের আভাস মিলতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণ, রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ও মৃত্যুহার যেমন জ্যামিতিক হারে বাড়তে পারে, তেমনি অতিরিক্ত চাপে রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে।

করোনাভাইরাস স্বভাবগতভাবেই অতিশয় সংক্রমণশীল এবং এর ঝুঁকিতে থাকা সর্বসাধারণের কোন প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা নেই। ফলে কেউই যে সংক্রমণের ঝুঁকির বাইরে নেই, একথা সবার মনে রাখা জরুরি। সংক্রমণের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক না হলে ব্যক্তিগত ও পাশাপাশি তার সঙ্গে একই পরিবেশে বসবাসকারী সবার ঝুঁকি বাড়তে বাধ্য। সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়লে সাধারণভাবে যারা কম তীব্র মাত্রায় আক্রান্ত ও যাদের মৃত্যু ঝুঁঁকি কম; চিকিৎসা সুযোগের অভাবে তাদের ও সার্বিক মৃত্যুর হার বাড়বে। রোগ বিস্তার প্রতিরোধে কাজেই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়- এমন সব বিষয়ের ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেয়া দরকার। এক্ষেত্রে ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা উচিত।

বিদেশ ফেরত ও তাদের পরিবারসহ সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে রাখা গেলে সংক্রমণ ঝুঁকি কমবে। ফলে এদিকে সব শক্তি নিয়োগ করার কোন বিকল্প নেই। সংক্রমণের ঝুঁকি কমলে সংক্রমণের সংখ্যা কমবে। একজনকে সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত করা গেলে ৩ থেকে ৭ জনকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়া যাবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও সহায়ক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এই মুহূর্তে উচিত হবে, মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সীমিত করে ফেলা। সামাজিকভাবে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়া। আড্ডা, বৈঠক, অনুষ্ঠান, সমাবেশে অংশগ্রহণ না করা। মূলত যেখানে ভিড় হয় এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থান থেকেও নিজেকে দূরে রাখা।