• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

জনগণ কেন শিল্প-মালিকদের লুটপাটের খেসারত দেবে?

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯

ব্যাংকিং খাতের ‘শাঁখের করাত’ এখন বস্ত্র ও পোশাক শিল্প। ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের বড় অংশই গেছে এ দুই খাতে। বিতরণকৃত ঋণ ফেরত না পাওয়ার ঘটনাও এ খাতেই বেশি। দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির প্রায় ৩১ শতাংশ এ দুই খাতের গ্রাহক। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে বড় যেসব ঋণ কেলেঙ্কারি, তার বেশির ভাগই বস্ত্র ও পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০১৮ সাল শেষে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এ দুই খাতের মধ্যে আবার ঋণের স্থিতি ও খেলাপি দুটোই বেশি বস্ত্র খাতে। ২০১৮ সালে বস্ত্র খাতে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ১ লাখ ৭ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা খেলাপি। একই সময় পর্যন্ত পোশাক খাতে বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি ৭১ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খেলাপি।

বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ বেশকিছু কারণ দায়ী হলেও বাংলাদেশে মূলত ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকায় খেলাপি ঋণের বিস্তার ঘটছে। বাছবিচার বিবেচনা না করে ঋণ বিতরণের কারণে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেশি হচ্ছে। নজরদারির ঘাটতিও এ খাতে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়েছে। জানা গেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণকারী ৩ হাজার পোশাক কারখানার অধিকাংশেরই বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই। ঋণখেলাপিদের অনেকেই অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সেই টাকা পরিশোধ না করে বিদেশে বেগমপাড়া বানিয়ে কিংবা সুইস ব্যাংকে টাকার পাহাড় বানিয়ে আরাম-আয়েশে দিন যাপন করছে। অথচ শ্রমিকদের মাসের পর মাস বেতন দেয়নি, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করেনি।

পোশাক খাতে খেলাপি ঋণের প্রায় পুরোটাই মন্দঋণে পর্যবসিত হওয়ার ঘটনাকে এখন লোকসান বা পুঁজি ঘাটতি হিসেবে দেখানো হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সাধারণত এ ধরনের ঘাটতি মিটিয়ে থাকে সরকারি তহবিল থেকে টাকা গ্রহণ করে, যা মূলত জনগণের দেয়া ট্যাক্স। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে এ ঘাটতি মেটায়। অর্থাৎ এর মুন্ডু ওর ঘাড়ে দিয়ে বিপর্যয় সামাল দেয়া হবে। ঋণখেলাপি শিল্প-মালিকদের লুটপাটের খেসারত দেবে সাধারণ মানুষÑ বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

এ অনাচার মেনে নেয়ার কোন যুক্তি নেই। যে করেই হোক, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অবশ্য এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, খেলাপির তালিকাটিতে বস্ত্র খাতের এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোর খেলাপি হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে তালিকার অন্যসব দুষ্টগ্রহকে অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। তাদের থেকে পাওনা অর্থ আদায় করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হতে নিয়োগকর্তারা যেন বাধা দিতে না পারেÑ সেটা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। পোশাক খাতে খেলাপি ঋণ যাতে না হয়, সেজন্য ঋণ বিতরণে সুষ্ঠু নজরদারির প্রয়োজন। তবে তা শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করে নয়। কারণ প্রাইমারি টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের বড় অংকের বিনিয়োগ আছে। খাত দুটি বাধাগ্রস্ত হলে আমাদের রিজার্ভ সঙ্কুচিত হবে।