• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে আগুন চার্জশিট গ্রহণযোগ্য হতে পারে না

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কিন্তু চার্জশিটে অভিযুক্ত কোন পুলিশ সদস্যেরই নাম নেই। হত্যা মামলার প্রধান আসামি গাইবান্ধা-৪ আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের নামও চার্জশিটে নেই। পিবিআইর দেয়া চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় সাঁওতালরা। প্রধান আসামিসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়ার প্রতিবাদে তারা গত রোববার গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়ক অবরোধ করেন।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুট, হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলার ভিডিও এবং স্থির চিত্র দেশবাসী দেখেছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, পুলিশ সদস্যরা সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিচ্ছেন। পুলিশের গুলিতে তিনজন সাঁওতাল মারাও গেছেন। এমনকি সাঁওতাল শিশুদের স্কুলটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। যাদের ওপর জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তারাই জনগণের জানমাল ধ্বংস করেছে সেদিন। সাঁওতালদের সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা করার পরিবর্তে পুলিশ সেদিন সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়ক বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে। দিবালোকের মতো এ সত্যকে পিবিআইয়ের চার্জশিটে এড়িয়ে যাওয়া হলো কেন সেটা আমরা জানতে চাই। শুধু ভিডিও ফুটেজই নয়, সাঁওতাল পল্লীতে হামলার অনেক চাক্ষুষ সাক্ষীও রয়েছেন। হামলার শিকার সাঁওতালরা যে মামলা করেছেন সেখানে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির তদন্তেও বলা হয়েছিল যে, তিন পুলিশ সদস্য সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ল না কেন সেটা একটা রহস্য।

আইন সবার জন্য সমান। অপরাধী যে বা যারাই হোক না কেন আইন সবার বিরুদ্ধে সমান ব্যবস্থা নেবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক আইনের কাছে সমান প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় মনে হচ্ছে না যে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। কোন অদৃশ্য শক্তি আইনের স্বাভাবিক গতিপথকে ব্যাহত করছে। যে কারণে পিবিআইয়ের চার্জশিট থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য এবং হত্যা মামলার আসামি সাবেক এমপির নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়। বেশকিছু চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত বা আত্মগোপনে থাকা আসামি গ্রেফতারে পিবিআই সম্প্রতি সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের ওপর সাধারণ মানুষের অবস্থা তৈরি হয়েছিল যে, পিবিআই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে। কিন্তু সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় তারা যে চার্জশিট দিয়েছে তাতে তাদের ক্লিন ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সংস্থার কাজই যদি এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা নেই বলেই তো দেশে গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটছে। যার পেশিশক্তি আছে সে নিজেই যার বিরুদ্ধে যেমন ইচ্ছা ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর সাঁওতালদের মতো দুর্বল যারা তারা বারবার অন্যায়-অপরাধের শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্র তাদের সহায় হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তারা আইনের আশ্রয় বা প্রতিকার কোনটাই পাচ্ছেন না। আমরা বলতে চাই, পিবিআইয়ের চার্জশিট গ্রহণযোগ্য নয়। সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনার পুনঃতদন্ত করতে হবে। সেই তদন্তে ভিডিও ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, চাক্ষুষ সাক্ষ্য, মামলার এজাহার প্রভৃতিকে আমলে নিতে হবে।