• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

| ঢাকা , বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২০১৯ সালে গণপরিবহনে ৫২টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৯ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে এসব ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গত সোমবার একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়ক পথে ৪৪টি, রেলপথে ৪টি ও নৌপথে ৪টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে ৪৪টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ৯৩ আসামি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সব ঘটনার ১৬টি ধর্ষণ, ১২টি গণধর্ষণ, ৯টি ধর্ষণের চেষ্টা, ১৫টি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।

দেশের গণপরিবহণগুলোতে নারীরা কতটা অনিরাপদ এবং পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক উল্লেখিত প্রতিবেদনে সেটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। গণপরিবহনে যাতায়াতকারী নারীদের বড় অংশই বলেছেন, নানাভাবে তারা হয়রানির শিকার হয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু অবস্থা এমন, অধিকাংশ নারীই সেটি প্রকাশ করতেও বিব্রত বোধ করেন। শিক্ষা ও চাকরিসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজার হাজার নারীকে ঘরের বাইরে বের হতে হয়। অধিকাংশরই একমাত্র ভরসা হলো বাস, মিনিবাস কিংবা টেম্পোর মতো গণপরিবহন। অথচ এসব বাসেই নারীদের সম্ভ্রম হারাতে হয়।

২০১৭ সালে গণপরিবহনে চাঞ্চল্যকর রূপা গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশবাসী ফুঁসে উঠলে জনগণের তীব্র প্রতিবাদের কারণে স্বল্পতম সময়ে এ ঘটনার বিচার সম্পন্ন হয়। ৪ পরিবহন শ্রমিককে ফাঁসি ও একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলে তৎসময়ে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা কমলেও বর্তমানে নিপীড়নকারী, ধর্ষক, হত্যাকারীদের মামলা, গ্রেফতার ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এছাড়াও গণপরিবহনে যাতায়াতকালে নারীরা অসম্মানজনক আচরণ, নিপীড়ন, হেনস্তা, যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। শুধু পরিবহন শ্রমিক, চালক, হেলপার নয় কখনও কখনও সহগামী পুরুষযাত্রী দ্বারাও এ ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর জন্য যেমন শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি প্রয়োজন ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা তৈরি করা। গণপরিবহনের মালিক, শ্রমিক এবং তাদের সংগঠনগুলো আন্তরিকভাবে এগিয়ে না এলে শুধু সরকার, আইন কিংবা শাস্তি দিয়ে এই ব্যাধির নিরাময় সম্ভব হবে না। নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজকেও সোচ্চার হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ।