• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ২৬ রমজান ১৪৪২

করোনার বিস্তৃতি ঠেকাতে ধর্মীয় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

| ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে খেলাফতে মজলিশের এক নেতার জানাজায় হাজারও মানুষের সমাগম হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশজুড়ে চলমান লকডাউনের মধ্যে এত জনসমাগম হলো কী করে সেই প্রশ্ন উঠেছে। উক্ত জানাজায় ঢাকা, কুমিল্লা, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলার অনেক মানুষ অংশ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। দেশে এখন গণপরিবহন বন্ধ। এ অবস্থায় বিভিন্ন জেলার লোক উক্ত জানাজায় অংশ নিলেন কি করে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলছে। এ অবস্থায় সব ধর্মের মানুষই প্রার্থনালয়ে যাওয়া বা প্রার্থনাকাজে জনসমাগম হয় এমন কর্মকা- থেকে বিরত রয়েছেন। কোন কোন মুসলিম দেশ মসজিদে নামাজ পড়া থেকে মুসল্লিদের বিরত রাখার জন্য কারফিউ জারি করেছে। বাংলাদেশে জুমার নামাজসহ সব ধরনের নামাজ ঘরে পড়ার কথা বলা হয়েছে। দেশের প্রায় সব অঞ্চলের মানুষ ফরজে আইন বলে গণ্য জুমা ও প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঘরেই আদায় করছেন। জানাজার নামাজ ফরজে কিফায়া বলে গণ্য। দেশে এ সময়ে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মারা গেছেন। প্রতিদিনই নানা কারণে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কারও জানাজায় এমন জনসমাগম হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উক্ত জানাজার আয়োজকরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। প্রশাসনও বিষয়টি সামাল দিতে পারেনি। এ কারণে শুধু জানাজায় অংশ নেয়া মানুষের মধ্যেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তাদের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ল। কোভিড-১৯ অনেকের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। ইসলাম ধর্মে জীবন বাঁচানো ফরজ। জীবন বাঁচানোর এ ফরজ কাজকে যারা উপেক্ষা করছেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের পাশাপাশি জানাজার অবিবেচক আয়োজকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধর্মীয় কারণে জনসমাগম থেকে অনেক দেশেই কোভিড-১৯-এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশেও এ আশঙ্কা দিন দিন প্রবল হচ্ছে। এর আগে তাবলিগ জামাতের একটি দল এ ঝুঁকি তৈরি করেছে। এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় এ ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ল। জানা গেছে, দেশের কোন কোন অঞ্চলে জুমার নামাজে সরকারি নির্দেশনা মানা হয়নি। নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন। অনেকে আশঙ্কা করছেন, আসন্ন রমজানে তারাবি ও জুমার নামাজে জনসমাগম আরও বাড়বে। এ অবস্থায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সৌদি আরব ইতোমধ্যে বলেছে যে, তারাবি ও ঈদের নামাজ ঘরে পড়লেই চলবে। জর্ডান, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশও একই পথে হাঁটছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, তারাবির নামাজ ঘরে পড়ুন। আমরা বলতে চাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে এ বিষয়ে দ্রুত সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোন ধরনের জনসমাগম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। নইলে করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপ-আমেরিকায় যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার চেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় বাংলাদেশে দেখা দিতে পারে।