• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

এনু-রূপনদের গডফাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিন

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ঢাকার গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়ার এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। গত সোমবার রাতে চালানো সেই অভিযানে ৫ লাখ ১৫ কোটি টাকার এফডিআর, একাধিক দেশের মুদ্রা এবং প্রায় এক কেজি সোনা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গতকাল সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে উল্লিখিত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে নামে-বেনামে করা তাদের বিপুল অর্থ-সম্পদের হদিস মিলছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের ১২০টি বাড়ি আছে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত, স্বর্ণালংকার, জমি প্রভৃতির হদিস মিলেছে।

রাজধানীজুড়ে চলা ক্যাসিনো বাণিজ্যের ক্ষুদ্র একটি অংশ এনু-রূপন। ক্যাসিনো বাণিজ্যের গডফাদাররা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছেন। এনু-রূপন অবৈধভাবে যে পরিমাণ বিত্ত-বৈভব গড়েছে সেটা দেখে প্রশ্ন জাগে যে, গডফাদাররা তাহলে কী পরিমাণ অর্থ-সম্পদ করেছে। এনু-রূপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে বের করা হচ্ছে সেটা ভালো কথা। প্রশ্ন হচ্ছে, ক্যাসিনোকাণ্ডের গডফাদারদের কবে ধরা হবে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান যখন শুরু হয় তখন সরকার বলেছিল, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মানুষ ভেবেছিল, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান আর দশটা অভিযানের মতো আইওয়াশ হবে না। মানুষ দেখেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে চুনোপুঁটিদের ধরা হয়েছে, গডফাদাররা বহাল তবিয়তেই আছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানও একই পরিণতি পাচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। চুনোপুঁটিদের ধরে তাদের অর্থকড়ির হিসাব জানানো হচ্ছে। আমরা ক্যাসিনোকাণ্ডের গডফাদারদের অর্থকড়ির হিসাবও জানতে চাই। গডফাদারদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা বা দুর্বলতা কোথায় সেটা জানা দরকার। সব সেক্টরের গডফাদাররাই শেষ পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব গডফাদাররা এখনও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। প্রসঙ্গক্রমে পরিবহন সেক্টরের কথা বলা যায়। ব্যাংক সেক্টরে বড় বড় ঋণখেলাপিদের কথা বলা যায়। বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তো নেয়া হয় না, বরং কিছুদিন পরপর তাদের জন্য সরকার নতুন নতুন প্যাকেজ চালু করে।

গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা যাবে না, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আমরা বলতে চাই, ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ অন্যান্য সেক্টরের অন্যায়-অনিয়মের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পার সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য জরুরি হচ্ছে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।