• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ঈদুল আজহা

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের মধ্যে উদ্্যাপিত হতে যাচ্ছে আরও একটি উৎসব। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল। বছর ঘুরে ঈদ উৎসবের দেখা মিললেও মহামারী থেকে মুক্তি মেলেনি। বিশ্বজুড়েই দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষকে করোনার বিপদ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশ্বের শত বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই মহামারী যত দিন যাচ্ছে তত ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। এই মহামারী মোকাবিলায় বিপর্যস্ত মানুষের বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের উৎসব-অনুষ্ঠান ম্লান হয়ে গেছে।

ঈদুল আজহার দিনটি ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করা হয় আল্লাহর রাহে প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করে। এই উৎসর্গ করার আনুষ্ঠানিক দিকটি হলো কোরবানি। কোরবানির মধ্য দিয়ে আল্লাহর বান্দা তার নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয়।

হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর খোদাভক্তি পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাকে সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি উৎসর্গ করতে আদেশ দিলেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) তখন প্রিয়পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নামে কোরবানি দিতে উদ্যত হলেন। আল্লাহ রাহমানুর রাহিমের অশেষ দয়ায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) দেখলেন তার পুত্র সুস্থ আছে। সেখানে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে পড়ে আছে। এই প্রতীকী কাহিনীর গভীর তাৎপর্য রয়েছে। মানুষ একদিকে ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বার্থ বিসর্জন দেবে, অন্যদিকে মানুষের মনে যে কুপ্রবৃত্তিগুলো আছে তা বিদূরিত করবে।

যারা ধনগর্বে স্ফীত হয়ে আপন ধনরতœ বৈভব জাহির করার জন্য কোরবানির প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়, খোদাতায়ালা তার কোরবানি গ্রহণ করেন না। তাতে ত্যাগের মহিমা ক্ষুণœ হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন আপন প্রিয় পুত্রকে আল্লাহর নামে কোরবানি দিতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি তার এই অতুলনীয় ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের মুহূর্তে দুঃখ বা কষ্ট অনুভব করেননি। এই দৃষ্টান্ত থেকে এ শিক্ষাই আল্লাহতায়ালা জগদ্বাসীকে দিতে চেয়েছেন, যে ত্যাগে আনন্দ নেই, যেখানে আপন কিছু ত্যাগে মনে কষ্ট বা দুঃখ উৎপন্ন হয় তা ত্যাগ নয়। ত্যাগের অর্থ হলো অন্যের কল্যাণ সাধন। অন্যের দুঃখ-কষ্টে অভিভূত হয়ে যিনি তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজের কিছু সুখ, কিছু স্বার্থ বিসর্জন দেন এবং উপকৃত ব্যক্তির দুঃখ মোচনের জন্য মনে নির্মল আনন্দ অনুভব করেন তিনিই প্রকৃত অর্থে ত্যাগী।

মহামারীকালে ত্যাগের এ মর্মবাণী উপলব্ধি করা ও সে অনুযায়ী কাজ করা আরও বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশার কথা, রোগে-শোকে কাতর মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। অক্সিজেন নিয়ে রোগাক্রান্ত মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছেন অনেকেই। প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের জায়গা থেকে পিড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান তাহলে যে কোন মহামারীই পরাস্ত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই। আগামীর পৃথিবী কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত হবে, মানুষের জীবন আবার স্বাভাবিক হবে, সব উৎসব ফিরে পাবে আপন রঙÑ এটা আমাদের আশা।