• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

এসপি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

| ঢাকা , রোববার, ২৮ জুলাই ২০১৯

ফেনীর সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর স্থানীয় সাংবাদিকদের একাধিক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সদর দফতরের তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে ফেনীর এসপির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে- এমন খবরের বশবর্তী হয়ে তিনি সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মামলার বেশিরভাগেরই বাদী পুলিশ। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও চার্জশিটে আসামি হিসেবে সাংবাদিকদের নাম অনুর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসিআর আটকে রেখে ওসিদের চাপ দিয়ে তিনি মিথ্যা মামলা করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত শনিবার সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নুসরাতের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ফেনীর এসপি, সংশ্লিষ্ট ওসিসহ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা যে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি সেই অভিযোগ ভিকটিমের স্বজনরাই করেছেন। গণমাধ্যমগুলো শুধু সত্যটা জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। পরে খোদ পুলিশ সদর দফতর তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। সত্য প্রকাশের জন্যই যে সাংবাদিকরা এসপি জাহাঙ্গীরের রোষের শিকার হয়েছেন সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা যে দায়িত্বে অবহেলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন সেটার প্রমাণ মেলে এসিআর আটকে রেখে ওসিদের দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনায়। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও চার্জশিটে আসামি হিসেবে সাংবাদিকদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। যে কোন উপায়ে সাংবাদিকদের একহাত নেয়ার জন্যই যে এমন কান্ড ঘটানো হয়েছে সেটা অনুমেয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের তার প্রতিপক্ষ করে নিয়েছেন আর নুসরাতের হত্যাকারীদের মতো অপরাধীদের আপন করে নিয়েছিলেন। আমরা মনে করি, সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়। সাংবাদিকরা অপরাধীর বা অপরাধীর সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন। আর পুলিশ অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এই হিসেবে সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু সাবেক এসপি জাহাঙ্গীর নিজেই সাংবাদিকদের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ছিলেনই- তার অধীন পুলিশ কর্মকর্তাদেরও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন হয়ে মামলা করার যে অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করার ঘটনায় আলাদা বিচার হওয়া জরুরি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।