• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

কারাবন্দীর সঙ্গে নারীর সাক্ষাৎ

‘নেপথ্যে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১

কাশিমপুর কারাগারে বন্দী হলমার্ক ঋণ জালিয়াতি মামলার আসামি তুষার আহমেদের এক নারীর সঙ্গে (তার স্ত্রীর) একান্তে সময় কাটানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হচ্ছে। যেকোন সময় এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারাবিধি ভঙ্গ করে বন্দীর সঙ্গে নারীর সাক্ষাৎ ও সময় কাটানোর ঘটনার নেপথ্যে যাদের দায় পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর সিনিয়র জেল সুপার ও জেলারের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কারা অধিদপ্তর থেকে।

গতকাল বিদ্যমান বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কারাবন্দী অবস্থায় নারীসঙ্গের ঘটনা জঘন্যতম অপরাধ। কারাগারের ভেতরে এ ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেয়া যায় না। বিধি অনুযায়ী শাস্তি পাবে অভিযুক্তরা। যেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে, বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে অভিযুক্ত তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কারাবন্দীর সঙ্গে নারীর সাক্ষাতের যে ঘটনানি নিয়ে হৈচৈ চলছে তিনি ওই বন্দীর স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর সাক্ষাৎ কোন অপরাধ নয়। এছাড়া অনেক বন্দীদের ক্ষেত্রে তার স্বজনদের সাক্ষাৎ এবং সাক্ষাতে একটু বাড়তি সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক তদবিরও থাকে। এক্ষেত্রেও হয়তো তা হয়েছে। সূত্র জানায়, তবে করোনাকালীন কারাবন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে বন্দীর সঙ্গে তার স্ত্রীর সাক্ষাৎ করে দেয়ার সুযোগ দেয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

কারা অধিদপ্তর সূত্রটি জানায়, তদন্ত কমিটিকে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে কারা অধিদপ্তর থেকে করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেতে সময় লাগতে পারে। ভিডিও ফুজেটের যে ক্লিপটি গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে সেটিও পর্যালোচনা চলছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হলমার্কের চেয়ারম্যান তানভীরের ভায়রা প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদের সঙ্গে কারাগারের ভেতরে কারা কর্মকর্তার কক্ষে নারীসঙ্গের অভিযোগ ওঠার পর গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলারসহ তিন জনকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তর। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর ডেপুটি জেলার মো. গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর আবদুল বারী এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান। কারা সূত্র জানায়, ওই নারী দর্শনার্থী আর কেউ নয় সে বন্দী তুষারের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সে ৬ জানুয়ারি এসোছিল। মূলত বন্দীর কাছে আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে কারাগার থেকে একটু বেশি সুযোগ দেয়া হয়। আর এসব ক্ষেত্রে নানারকম অনুরোধও থাকে। এক্ষেত্রেও তা হয়েছে। তবে যেহেতু এ সময় বন্দীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ তাই সাক্ষাৎ করানোর বিষয়টি কারাগারের নির্দেশনা অম্যান্য করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি কারাগারের কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় হলমার্কের ঋণ জালিয়াতি মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দী থাকা প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) তুষার আহমেদ জেলখানার জেলারের রুমে এক নারীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর অভিযোগ উঠে। ওইদিন কারাগারের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, এক ব্যক্তির সঙ্গে বাইরে থেকে এক নারী ভেতরে প্রবেশ করছেন। ওই নারী প্রবেসের পর তাকে জেলারের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সিনিয়র জেল সুপার রতœাকে আসতে দেখা যায়। তার পেছনে পেছনে ডেপুটি জেলার সাকলাইন বন্দী তুষারকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেখা যায়। তিনি প্রবেশ করে বাইরে থেকে আসা নারী যে (জেলারের) রুমে অপেক্ষায় ছিলেন ওই রুমে। পরে ওই নারিকে নিয়ে ফের বন্দী তুষার প্রবেশ করে সিনিয়র জেল সুপার রতœার রুমে। এরপর দু‘জন আবার জেলারের রুমে একসঙ্গে প্রবেশ করে। সেখানে একান্তে ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন তারা। এরমধ্যে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান জেল সুপার রতœা। এ ফুটেজ একাটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রকাশ পায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে ৩ সদস্যের ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান। গত ১৮ জানুয়ারি কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশনামায় ডেপুটি জেলার সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর আবদুল বারী এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। ২১ জানুয়ারি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লাহ ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে আরও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।