• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

৩৬ বছর পর আধুনিকায়ন হচ্ছে পাবনার নগরবাড়ী নদীবন্দর

সংবাদ :
  • ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

৩৬ বছর পর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীর বন্দর নগরবাড়ী। ৫১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা নদীবন্দরটি নির্মাণ করছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আরিচা নদীবন্দরের আওতায় ১৯৮৩ সালে এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। তখন আরিচা থেকে নগরবাড়ী ফেরি চলাচল করত। কিন্তু ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুর নির্মাণ হওয়ার পরে এই ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। তাই পুনরায় ফেরি সার্ভিসটি চালু দাবি জানান স্থানীয়রা। নগরবাড়ী নদীবন্দর আধুকায়ন করা হলে পাবনাসহ দেশে বিভিন্ন স্থারে সার, সিমেন্ট, পাথর, বালি, কয়লা, খাদ্য সামগ্রী এবং অন্যান্য বাল্ক সামগ্রী সরবরাহ সহজ হবে বলে নৌমন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়। বন্দরটির নির্মাণ কাজ শেষ ২০২১ সালের ৩০। আজ নগরবাড়ীতে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দরটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

নৌমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরের নগরবাড়ী একটি ঐতিহ্যবাহী ঘাট। নগরবাড়ী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নৌঘাট। যমুনা নদীর ডান তীরে অবস্থিত এ ঘাটের ভৌগলিক অবস্থান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মালামাল পরিবহনে অন্যতম মাধ্যম এই নৌঘাট। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাহাজ নগরবাড়ী ঘাটে যে মালামাল ওঠা-নামা করে তা মূলত সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হয়। এই ঘাটে মূলত সার, সিমেন্ট, পাথর, বালি, কয়লা, খাদ্য সামগ্রী এবং অন্যান্য বাল্ক সামগ্রী ওঠা-নামা করে থাকে। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ ব্রক্ষ্মপূত্র, যমুনা, মেঘনা এবং পদ্মা নদী দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিমে দুই ভাগে ভাগ হয়ে ছিল। সেই সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফেরিঘাট আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রাফিক পারাপারে আরিচা নদী বন্দরের আওতায় পরিচালিত হয়ে থাকত। ফেরি পারাপারের অন্যতম প্রধান ঘাট হিসেবে ওই সময় থেকে নগরবাড়ী উত্তরাঞ্চলে পরিবহন সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ায় ট্রাফিক চাপ লাঘবের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে যমুনা নদীর নাব্যতা সমস্যা ও নদী ভাঙনের ফলে নগরবাড়ী থেকে ফেরিঘাট অন্যত্র কাজিরহাটে স্থানান্তর করা হয়। ঘাট স্থানান্তর করা হলেও ব্যবহারকারীদের কাছে এর গুরুত্ব কোন অংশে কমে যায়নি। যাত্রী পরিবহনের হার কমে তা কাজিরহাটে স্থানান্তর হলেও মালামাল পরিবহনে নগরবাড়ী ঘাটের গুরুত্ব পূর্বের মতই রয়ে যায় এবং ক্রমেই এ ঘাট বিশেষত মালামাল পরিবহনের একটি ঘাটে রূপান্তরিত হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরবাড়ী উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। নগরবাড়ী ঘাটে কোন প্রকার সরকারি বা বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিকভাবেই বন্দর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মালামাল এ বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত, প্রতিস্থাপিত এবং একত্রিকরণ করা হচ্ছে। ফলে নগরবাড়ী এলাকায় আধুনিক বন্দর অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আধুনিক বন্দর অবকাঠামোর ড্রইং ও ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। ৩টি প্যাকেজের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয়েছে। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক সংবাদকে বলেন, পাবনা জেলার অন্তর্গত বেড়া উপজেলার আমিনপুনে নগরবাড়ী ঘাট একটি ঐতিহ্যবাহী ঘাট। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মালামাল বিতরণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নগরবাড়ীঘাট। এই বন্দরটি আধুনিকায়ন করার জন্য এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় নৌ-প্রতিমন্ত্রী এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্প সূত্র জানায়, নগরবাড়ীতে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দরটির নির্মাণ ভূমি উন্নয়ন, ড্রেজিং, পাকা জেটি, তীর রক্ষা বাঁধ, সংযোগ সড়ক, স্টিল গ্যাংওয়ে, পন্টুন, কাঁটাতারসহ সীমানা প্রাচীর, যাত্রী ছাউনীসহ পাকা সিঁড়ি, গুদাম, উন্মুক্ত মজুদ স্থান, বন্দর ভবন, প্রশাসনিক ভবন, পরিদর্শন বাংলো, ডরমেটরি ও পাইলট হাউজ নির্মাণ করা হবে।