• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

১১ দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৪২টি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

গতকাল বইমেলায় ছিল বইপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড় -সংবাদ

একাদশ দিন শেষে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৪৪২টি। এরমধ্যে গল্পগ্রন্থ এসেছে ১৯০টি, উপন্যাস ২৪৮টি, প্রবন্ধ ৯০টি, কবিতা ৪২২টি, গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ ৩০টি, ছড়ার বই ২১টি, শিশুসাহিত্য ৫৬টি, জীবনীগ্রন্থ ৪৭টি, রচনাবলি ৩টি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ৫৫টি, নাটক ৬টি, বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ২৫টি, ভ্রমণ বিষয়ক গ্রন্থ ২৩টি, ইতিহাসের বই ২৯টি, রাজনীতির বই ৩টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য বিষয়ক গ্রন্থ ৮টি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রেখা বই ৪৫টি, রম্য/ধাঁধার বই ৮টি, ধর্মীয় গ্রন্থ ৪টি, অনুবাদের বই ১৮টি, অভিধান ৩টি, সায়েন্স ফিকশন ২৯টি এবং অন্যসব গ্রন্থ এসেছে ৭৯টি।

এছাড়া, একাদশ দিনে গতকাল বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে নতুন বই এসেছে ১৫৪টি। এরমধ্যে গল্পগ্রন্থ এসেছে ১৮টি, উপন্যাস ২১টি, কবিতা ৫৩টি, গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ ৫টি, ছড়ার বই ২টি, শিশুসাহিত্য ৩টি, জীবনীগ্রন্থ ৪টি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ৭টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ২টি, ইতিহাসের বই ৪টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য বিষয়ক গ্রন্থ ৩টি, কম্পিউটার সংক্রান্ত বই ৪টি, ধর্মীয় গ্রন্থ ১টি, অনুবাদের বই ৩টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন ২টি এবং অন্যসব গ্রন্থ এসেছে ৯টি।

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিনে মেলা চলে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুপম হায়াৎ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোরশেদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অনুপম হায়াৎ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

প্রাবন্ধিক বলেন, অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর আমলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও নানা প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি পথে বিচ্ছুরিত আলোর মন্তাজ’ শীর্ষক অধ্যায়-বিন্যাসে বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক সত্তাকে পরিস্ফুট করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি গ্রন্থ বঙ্গবন্ধুপ্রেমী এবং একই সঙ্গে চলচ্চিত্র-উৎসাহীজনদের কাছে প্রয়োজনীয় সংগ্রহ হিসেবেই আদৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিকাশ ও উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক গৃহীত নানামুখী গঠনমূলক পদক্ষেপ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক চেতনা ও আদর্শকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং জাতির পিতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তার জীবন ও কর্ম বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে।

গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে গবেষণা ও গ্রন্থ প্রণয়ন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের অভিজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক বিপ্লবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথরেখাও নির্মাণ করতে হবে। আমি আশা করি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পর্দা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোতে আবার ঝলমল করে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু কেবল মহান রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা। বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক আকাক্সক্ষা ও রাজনৈতিক স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মে। অনুপম হায়াৎ রচিত বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র গ্রন্থে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

এছাড়া, গতকাল কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি জরিনা আখতার, সাজ্জাদ শরিফ, জাহিদ মুস্তাফা এবং নওশাদ জামিল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল্লাহ সাঈদ, মাহমুদুল হাকিম তানভীর এবং আদিবা ইসমাত। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস আরা, বশিরুজ্জামান সাব্বির, নবীন কিশোর, প্রিয়াংকা বিশ্বাস এবং অনন্যা আচার্য্য। ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মারুফ রায়হান, জয়দীপ দে, অরুণ কুমার বিশ্বাস এবং শিমুল সালাহ্উদ্দিন।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি :

আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিনে মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সুব্রত বড়ুয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুজন বড়–য়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন খালেদ হোসাইন, লুৎফর রহমান রিটন এবং মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।