• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

নিষিদ্ধের পরও

সমুদ্রে আড়তদারদের অবৈধভাবে মাছ শিকারের চেষ্টা

নৌপুলিশের অভিযান চলছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

দেশের সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণার মধ্যেও অসাধু মৎস্য আড়তদারদের ইন্ধনে জেলেরা অবৈধভাবে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে কতিপয় অসাধু জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকারের ফলে একদিকে যেমন ছোট ছোট মাছ মারা যাচ্ছে- তেমনি সমুদ্রে মাছের পরিমাণও কমে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করে সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান শুরু করেছে নৌপুলিশ। অবৈধভাবে মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি নৌপুলিশ নদীপথে বিভিন্ন অপরাধ বন্ধেও অভিযান চালাচ্ছে।

এবিষয়ে নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নৌপুলিশের অভিযান চলবে। এসব কাজ শুধু বাংলদেশের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য। মাছে-ভাতে বাঙালিকে মৎস্য সম্পদ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করা। সকল জলজ সম্পদ রক্ষায় নৌপুলিশ বদ্ধপরিকর। সাগরে ৬৫ দিন মাছ আহরণের উপর জোর নিষেধাজ্ঞা চলমান রাখছে নৌপুলিশ। উপকূলীয় এলাকাসমূহ শুধু ট্রলার নয়- বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে প্রায় আড়াইশ বরফকলের উপর। প্রতিদিন পালাক্রমে এসব বরফকলগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেও নৌপুলিশ মৎস্য ও জলজ সম্পদ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও নৌপুলিশের নিবেদিত সদস্যারা বর্তমানে মৎস্য আহরণে নিষিদ্ধ ঘোষিত কাপ্তাই হ্রদ সমুদ্রসংলঘ্ন এলাকা এবং অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জালের উপর ভাসমান জাহাজে দিনরাত পারি দিচ্ছে।

নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন জানান, গত দুই দিনে মুক্তারপুর নৌপুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ মো. কবির হোসেন ৯ কোটি মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করেন বিভিন্ন জাল তৈরির কারখানা ও আশপাশের এলাকা হতে। যার আনুমাণিক মূল্য দুই শত কোটি টাকা। এছাড়া সরকার কর্তৃক ঘোষিত সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গতকাল দুটি ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিল। গতকাল বড়ক্ষেরী নৌপুলিশ স্টেশন ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গভীর সমুদ্র থেকে দুইটি ফিশিং বোট দিয়ে মাছ ধরে ফেরার সময় রামগতির মেঘনা নদীর বয়ারচর থেকে ১৫শ কেজি বিভিন্ন প্রকারের সামদ্রিক মাছা ও ১০ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল (যার মূল্য- ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা)সহ জেলেদের আটক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২টি ট্রলার মালিককে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দ করা মাছগুলো প্রকাশ্য নিলামে ৩ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়, উক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। অন্যদিকে, কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন পয়েন্টে গত মার্চ মাস থেকে গতকাল পর্যন্ত অভিযান চালয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ১ লাখ ১২ হাজার ৩০০ মিটার জাল উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা । এসব অভিযানে ৪০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উদ্ধার করা হয় যার বাজার মূল্য ১৮ হাজার টাকা।

এছাড়াও, চারঘাট নৌপুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহীর চারঘাটের চর মুক্তরপুর থেকে ২ বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার জৌলঙ্গীর লালপুর থেকে নদীপথে বস্তা নিয়ে যাবার সময় চারঘাট নৌপুলিশ উক্ত বস্তাগুলো উদ্ধার করে। বস্তা থেকে ২শ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয় যার মূল্য ২ লাখ টাকা। উক্ত ফেনসিডিল বোতল কোর্টের আদেশে পরবর্তীতে ধ্বংস করা হয়।