• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

না’গঞ্জের বন্দর এলাকায়

শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে ৩ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নারাণগঞ্জের বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে ৫৭টি বহুতল ভবনসহ প্রায় ৩ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিশেষ অভিযান পরিচালনা নির্দেশ দিয়েছেন নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল নৌ-মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের অবৈধ স্থাপনা নিয়ে এক বৈঠকে এই নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ নৌ-মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সপ্তাহে তিনদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অবৈধ ৩ শতাধিক ডকইয়ার্ড ও শতাধিক বালু বিঢি উচ্ছেদ করা হয় নি। সীমানা পিলারে রয়েছে আপত্তি। নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর থেকে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা চিহ্নিত করেন ৫ হাজার ১১টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ২ হাজার ১৯৮টি পিলার নদীর সীমানার সঠিক স্থানে বসানো হয়নি বলে আপত্তি জানিয়েছে অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এসব পিলারগুলো বেশিরভাগেই বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠান কৃত্রিমভাবে নদীর তীর ভরাট করে পিলারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। শীতলক্ষ্যা নদীর দু’তীরে জরিপ করে পুনরায় সীমানা পিলার স্থাপনের সুপারিশ করার জন্য ২০১৭ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ২ বছরেও জরিপ কাজ শেষ করতে পারেনি ওই কমিটি। তাই নতুন করে পিলার স্থাপনের প্রক্রিয়া এখনও শুরু করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার পূর্বপাড়ে নদী তীর দখল কের ৫৭টি বহুতল ও বিভিন্ন বাণিজ্য এলাকায় গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে স্থানীয়দের সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু এসব স্থাপনা উচ্ছেদে প্রভাবশালীরা বাধা দিচ্ছে। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব্য শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এই সব অবৈধ স্থাপনা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল সংবাদকে বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে সপ্তাহে তিনদিন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি জরিপ কাজ করা হচ্ছে। এই জরিপ প্রক্রিয়া শেষে নদীর সীমানা পিলার পুনর্স্থাপন করা হবে। নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ৫৭ স্থাপনা উচ্ছেদে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এ সব অবৈধ স্থাপনা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার।

জানা গেছে, ঢাকার চারদিকের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ^রী ও শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা নির্ধারণের জন্য ২০০৯ সালে আদালত নির্দেশে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পিডব্লিউডি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ৫০১১ টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২১৯৮টি পিলার নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ বন্দর অফিসের। এতে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে ১৩৫৬টি এবং ৮৪২টি পিলার সঠিক স্থানে বসানো হয়নি বলে সংস্থাটি জানায়। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীড়ে প্রায় ৩ শতাধিক শিপ ও ডকইয়ার্ড তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি থাকলেও বেশিরভাগেই অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।