• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

চার বছর আগে সাভারে

শিশু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

আদালতে ঘাতকের স্বীকারোক্তি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

কানের দুল চুরি করার জন্য রাজধানীর অদূরে সাভারে সাত বছরের এক শিশুকে বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর তার লাশ ফ্রিজের ভেতর লুকিয়ে রাখে। পরে বস্তায় ঢুকিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে। সে আদালতে নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ ছাড়াও তার স্বামীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-সোনালী বেগম ও তার স্বামী মকসুদুল ইসলাম। অনুসন্ধান তদন্তে শিশু হত্যার এ ভয়ঙ্কর ঘটনা বেরিয়ে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন জয়নাবাড়ী সাকিনস্থ একটি বাসায় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে শিশু নাজিফাকে (৭) হত্যা করে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানার মামলা (নং ৫৬) তারিখ ২৮ (১২) ২০১৯ দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সাভার মডেল থানার এসআই এনামুল (১) দেয়া হয়। ক্লুলেস হত্যা মামলাটি আসামি ছিল অজ্ঞাত।

আসামি অজ্ঞাতনামা হওয়ায় এ মামলার আসামিদের চিহ্নিত করতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিসহ নানা কৌশল প্রয়োগ করে আসামিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। টানা অনুসন্ধান ও সোর্সের মাধ্যমে তদন্তকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। এভাবে মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

সাভার মডেল থানার মামলার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক জানান, শিশু নাজিফা বাসার কাছে একটি মাদ্রাসায় পড়ত। ঘটনার দিন বিকেলে সে বাসা থেকে বের হয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় পাশ্বের বাসার গৃহবধূ সোনালী বেগম শিশুটিকে ডেকে বাসায় নিয়ে যায়। এরপর বিস্কুট খেতে দেয়। বিস্কুট খাওয়ার সময় শিশুটির কাঁধে হাত দিয়ে কানের দুল খুলতে গেলে সে চিৎকার দেয়। এরপর অভিযুক্ত সোনালী ওড়না দিয়ে শিশুটির নাক মুখ চেপে ধরে। এতে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যুও হয়। পরে কানের দুল খুলে নিয়ে ১৭৯০ টাকা বিক্রি করে। পরে শিশুটির লাশ বাসায় ফ্রিজের মধ্যে রেখে দেয়। এরপর সন্ধ্যায় শিশুটির মায়ের সঙ্গে গিয়ে শিশুটিকে বিভিন্ন স্থানে হত্যাকারী নিজেও খুঁজতে থাকে। অথচ ওই সময় শিশুটির লাশ আসামির বাসার ফ্রিজের ভেতর ছিল। বিকেলে আসামি সোনালী লাশটি ফ্রিজ থেকে বের করে বস্তায় ঢুকিয়ে বাসার খাটের নিচে রেখে দেয়। এরপর নিজেই শিশুটির মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে লাশ খোজাখুঁজি করে। ওই দিন লাশ না পেয়ে পরের দিন সন্দেহভাজন হিসেরে অভিযুক্ত মহিলার বাসা তল্লাশি করার পদক্ষেপ নেয়। তখন সোনালী বেগম তার স্বামীকে ফোনে বলে,কে বা কারা শিশুটিকে হত্যা করে লাশ তার বাসায় রাখছে। স্বামী মকসুদুল ঘটনা বুঝতে পেরে পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও সোনালীকে গ্রেফতার করে। এরপর সোনালীর স্বামী মকসুদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

নেপথ্য কাহিনী : গ্রেফতারকৃত সোনালী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে বলেছে, শিশুটির মায়ের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা কর্জ নেয়। ওই টাকা শোধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তখন অভিযুক্ত শিশুটির কানের দূল চুরি করে বিক্রি করা টাকা দিয়ে ওই টাকা শোধ করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে,শিশুটিকে পূর্ব পরিচিতির সুবাধে বাসায় ডেকে নিয়ে দূল খোলার সময় চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আর লাশ গুম করার জন্য ফ্রিজে রাখাসহ নানা কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু শত কৌশল নিলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে ভয়ংকর অপরাধের চিত্র। দুটি কানের দুলের জন্য মাদ্রাসায় কোরআন শরীফ পড়া শিশুটিকে হত্যা করা হলো।