• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

শিশু মনস্তত্ত্বের সমন্বয় খোঁজার প্রয়াস থেকেই শিশুদের জন্য লিখি

জ্যোৎস্নালিপি

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

সাহিত্যসাধনার পুণ্যভূমি কুষ্টিয়ায় জন্মেছেন গবেষক-সাংবাদিক-সাহিত্যিক জ্যোৎস্নালিপি। মননশীল সাংস্কৃতিক পরিম-লে বেড়ে ওঠার সুবাদে কৈশোরের আঙিনা থেকেই কথাশিল্পের সঙ্গে তার সখ্য। শিশুবেলা থেকেই পারদর্শিতা দেখিয়েছেন ধারাবাহিক গল্পবলা, একক অভিনয় এবং আবৃত্তিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ছোটগল্প লিখে জিতেছেন পুরস্কার। এ সময় থেকেই ছোটগল্প লিখে বেশ পরিচিতি পান তিনি। এ সময়েই ‘ধ্রুব’ নামে একটি লিটল ম্যাগ সম্পাদনা করেন। এরপর জাতীয় দৈনিকগুলোতেও ছোটগল্প, প্রবন্ধ, গবেষণামূলক লেখা শুরু করেন তিনি। হঠাৎই একদিন লিখে ফেললেন একটি শিশুতোষ গল্প। ছাপা হলো সংবাদের শিশুসাহিত্য পাতা ‘খেলাঘর’-এ। এরপর নিয়মিত শিশুদের জন্য লিখতে থাকলেন এবং তা প্রকাশিত হতে থাকল দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোসহ লিটল ম্যাগাজিন এবং শিশুসাহিত্য পত্রিকায়। তার বর্তমান মনোনিবেশের বেশিরভাগ এখন শিশুসাহিত্যে। দৈনিক সংবাদ’র শিশুসাহিত্য পাতা ‘খেলাঘর’ ও দৈনিক দেশবাংলা’র ‘ডানপিটেদের আসর’ দীর্ঘদিন সম্পাদনা করেছেন। গবেষণা, সাংবাদিকতা এবং সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা। প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান থেকে জ্যোৎস্নালিপি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত-এর ছোটগল্প নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়া, সাংবাদিকতায় রয়েছে তার একটি ডিগ্রি ও দুটি ফেলোশিপ। গণমাধ্যমবিষয়ক ত্রৈমাসিক ‘মুক্তপ্রকাশ’-এর সম্পাদক, ‘দৈনিক সংবাদ’-এর ফিচার সম্পাদক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘প্রান্তজন’-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এবারের ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ নিয়ে।

সংবাদ : শিশুদের জন্য কেন লিখেন?

জ্যোৎস্নালিপি : প্রথমত, শিশুদের জন্য লিখতে ভালো লাগে, আর এই লেখার ভেতর দিয়েই আমি আমার শৈশবকে খুঁজে পাই। দ্বিতীয়ত, শিশুসাহিত্যের পরিসর অনেক বড় হলেও শিশুদের উপযোগী লেখা তুলনামূলক কম। মূলত, আমি মা এবং একজন লেখক হিসেবে শিশুমনস্তত্ত্বের সমন্বয় খোঁজার প্রয়াস থেকেই শিশুদের জন্য লিখি।

সংবাদ : এবারের গ্রন্থমেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে? এবং বইগুলো সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

জ্যোৎস্নালিপি : এবারের গ্রন্থমেলায় আমার চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে গণমাধ্যমবিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ একটি ও শিশুতোষ গল্পের বই তিনটি। ‘গ্রামীণ সাংবাদিকতায় মোনাজাতউদ্দিন: জনসাংবাদিকতার রূপকল্প অনুসন্ধান’ গবেষণামূলক গ্রন্থ। ‘শিখা প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন-এর সাংবাদিকতার মূল্যায়নসহ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জনসাংবাদিকতার একটি রুপকল্প নির্মাণের প্রয়াস রয়েছে। ‘ভালোদাদু’ একটি শিশুতোষ গল্পের বই। চাররঙা প্রচ্ছদে গল্পের সঙ্গে মিল রেখে বইটিতে ১৪টি রঙিন ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বইটিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের হত্যার ঘটনাটিকে রূপক অর্থে দারুন মর্মস্পশীভাবে দেখানো হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে ‘নন্দিতা প্রকাশ’। ‘কাঠবিড়ালীর বিয়ে’ গল্পটির মধ্যে এক ধরনের মজা লুকিয়ে আছে। ১৪টি রঙিন ছবিতে গল্পের সঙ্গে মিল রেখে গাছপালা, পশুপাখি, বন্যপ্রাণী এবং তাদের নানা রকম মজা করা দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। এই বইটিও প্রকাশ করেছে ‘নন্দিতা প্রকাশ’। ‘চরকা কাটা বুড়ি’ শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ। ‘চাঁদের বুড়ির সঙ্গে সঙ্গে’ এই বইটিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের কথা, ফুল, পাখি, ঘাসফড়িং আর প্রজাপতিদের কথা! সাতটি ভিন্ন আঙ্গিকের গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। বইটি প্রকাশ করেছে ‘যুক্ত’।

সংবাদ : বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে শিশুতোষ বইটি লিখেছেন তাতে কেন রূপকের আশ্রয় নিলেন?

জ্যোৎস্নালিপি : প্রথমত একটা আদর্শিক জায়গা থেকে আমি বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টের বিষয়টিকে দেখাতে চেয়েছি এবং সেটা ‘ভালোদাদু’ নামে একটা চরিত্রের মধ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি। শিশুরা যেহেতু কল্পনাপ্রবণ, তাই তাদের কল্পনাশক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিতে গল্পটি সাহায্য করবে। গল্পটি পড়ে তারা আবিষ্কার করার চেষ্টা করবে গল্পটির মূল ঘটনা। শিশুদের মনতো খুব নরম হয়, তাই যে কোন বিষয়কেই তাদের কাছে তাদের উপযোগী করে উপস্থাপন করতে হয় বলে আমি মনে করিÑ আর তেমনটাই আমি চেষ্টা করেছি। ‘ভালোদাদু’ মর্মস্পর্শী একটা গল্প। গল্প পড়ে শিশুরা তাদের মা-বাবাকে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারবে ১৫ আগস্টেও মূল কাহিনী এবং শিশুবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তাদের শিশুমনে গেঁথে যাবে। এই ভাবনা থেকেই গল্পটিতে রূপকের আশ্রয় নিয়েছি।

সংবাদ : চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনকে নিয়ে আপনার একটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছেÑ মোনাজাতউদ্দিনকে নিয়ে কেন?

জ্যোৎস্নালিপি : আসলে এই প্রজন্ম বলেন আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলেন সাংবাদিকতা শিখতে হলে বিশেষ করে অনুসন্ধনী সাংবাদিকতা শিখতে হলে মোনাজাতউদ্দিনকে জানার বিকল্প নেই। কারণ মোনাজাতউদ্দিনের সংবাদ লেখা শৈলী, বস্তুনিষ্ঠতা, সংবাদ-ভাষার ব্যবহার এবং কৌশল এক কথায় অসাধারণ। আমিতো এও মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোনাজাতউদ্দিন পাঠ্য হওয়া উচিত।

সংবাদ : আপনার বইয়ের নামে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জনসাংবাদিকতার রূপকল্প অনুসন্ধানের বিষয়টি বলেছেনÑ যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন?

জ্যোৎস্নালিপি : মোনাজাতউদ্দিনের সাংবাদিকতার দর্শন, তার সাংবাদিকতার মূলায়ন এবং সেটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মনন- সব বিষয়কে মাথায় রেখেই বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জনসাংবাদিকতার একটি মডেল বা রুপকল্প দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।

সংবাদ : নারী লেখক হিসেবে বই প্রকাশ করতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন কীনা?

ড. জ্যোৎস্নালিপি : লেখক হিসেবে আমি জেন্ডার ইস্যু আনতে চাই না। আমি মনেকরি লেখকের একটাই পরিচয়Ñ সে লেখক। প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি, স্বচ্ছন্দেই আমার আমার বই প্রকাশিত হয়।