• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

পদ্মায় প্রবল স্রোত

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি পারাপারে দ্বিগুণ সময় ব্যয়

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, শিবচর (মাদারীপুর)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। নৌ চ্যানেলের ৪টি পয়েন্টে ঘূর্ণিস্রোতের কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। ফেরিগুলো প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ উজানে ঘুরে পারাপার হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ সময় ও অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারাপার হতে না পারায় ২টি ডাম্ব ও একটি ছোট ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে রোববারও ঘরমুখো দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় ছিল এ রুটে। লঞ্চে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। তবে কোন নৌযান বা যানবাহনে দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণ।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রোতেরও গতি। শিমুলিয়া- বাংলাবাজার নৌ চ্যানেলের হাজরা, পদ্মাসেতু, রামপাল বিদ্যুৎ খুঁটি পয়েন্টসহ ৪টি পয়েন্টে স্রোতের গতিসীমা অনেক বেশি। এই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে দিয়ে ফেরিগুলো অধিক সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে। স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাম্ব ফেরিগুলো চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই ডাম্ব ফেরি রায়পুরা, রামশ্রী ও ছোট ফেরি কর্ণফুলী চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ফেরিগুলো শিমুলিয়া থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ উজানে ঘুরে জসিলদা এলাকা হয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে আসায় ডাম্ব ফেরিগুলো পারাপারে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগছে। আর রো রো ও কেটাইপ ফেরিগুলো প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে। ফলে ঘাট এলাকায় যানবাহনগুলোকে পারাপারের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপরদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ এদিনও ছিল সহনীয় পর্যায়ে। এ রুটের লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে পারাপার হচ্ছে। তবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএ বাংলাবাজার ঘাট পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, লঞ্চে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীদের বারবার অনুরোধ করার পরও অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

রো রো ফেরি গোলাম মাওলার মাস্টার ইনচার্জ মো. নূরুল করিম বলেন, নৌ চ্যানেলের হাজরা, পদ্মা সেতুর পিলার, রামপাল বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটিসহ চারটি পয়েন্টে ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। ফেরির ইঞ্জিনের গতি বৃদ্ধি করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হয়। এই পয়েন্টগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খুবই সতর্কতার সঙ্গে ফেরি পরিচালনা করতে হচ্ছে। পারাপারে এখন দ্বিগুণ সময় লাগছে ও দ্বিগুণ জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবল স্রোত রয়েছে। ফেরি পারাপারে একটু সময় বেশি লাগছে। ২০টি ফেরির মধ্যে ২টি ডাম্ব ও একটি ছোট ফেরি বন্ধ রয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গরুবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি গাড়ি পারাপার করছি।

বিআইডব্লিউটিএ মেরিন কর্মকর্তা আহমেদ আলী বলেন, পদ্মায় অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের গতিবেগও তীব্র হচ্ছে। হাজরা, পদ্মাসেতু পিলার, রামপাল বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি পয়েন্টেসহ ৪টি পয়েন্টে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ফেরিগুলো সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে। শিমুলিয়া থেকে ফেরিগুলো প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ উজানে ঘুরে বাংলাবাজার পৌঁছাচ্ছে।