• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

করোনা ঠেকাতে

লঘু অপরাধে কারাগারে থাকা ৩ হাজারের বেশি বন্দী ছাড়া পাচ্ছে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০

কারাগারে নভোল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ক্ষুদ্র অপরাধে জেলে থাকা ৩ হাজারের বেশি বন্দীকে বিশেষ জামিনে মুক্তি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ৬৮ কারাগারে ক্ষুদ্র অপরাধে যেসব বন্দী দীর্ঘদিন ধরে আটক আছেন তাদের তালিকা তৈরি করছে কারা অধিদফতর। এদিকে বিভিন্ন কারাগারে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিতে রোগে আক্রান্ত ৪০ বন্দীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে এসব বন্দীদের কোরারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সব কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি আসামি আটক রয়েছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে জামিনযোগ্য ধারায় কিছু আসামিকে কিভাবে জামিনে মুক্তি দেয়া যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে কোন দণ্ডিত আসামি এ তালিকায় আসবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ এবং আইন মন্ত্রনালয়ের মতামত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এক্ষেত্রে আইনকানুন মেনেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কারাসূত্র জানায়, জামিনের উদ্যোগ নেয়া এমন বন্দীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ১০০ এর মতো। তবে যেসব বন্দী কমপক্ষে ২০ বছর কারাবাস অতিক্রান্ত করেছে কিন্তু কারাভ্যন্তরে কোন অন্যায় আচরণ করেনি তারা ও জেলকোড অনুযায়ী সরকারের কাছে ক্ষমার আবেদন করেছে এমন বন্দীদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন আটক আছে এমন যারা কারাভ্যন্তরে চলাচলে অক্ষম অর্থাৎ যেসব বন্দী নিজেরা একা চলতে পারে না, অন্য বন্দীর সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করতে হয় এমন বন্দীদেরও তালিকা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্সেল আবরার বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লঘু অপরাধে আটক বন্দীদের তালিকা তৈরি করছি। তবে এ তালিকায় কোনক্রমেই খুনি, ধর্ষণ মাদক বা কোন মামলার দুর্ধ্বর্ষ আসামির নাম থাকবে না। চুরি, পকেটমার, ছিনতাইয়ের চেষ্টা, যৌতুকের ৩ ধারার মতো বেশকিছু মামলার আসামি জামিনযোগ্য অপরাধে আটক রয়েছেন। যাদের আদালতের বিচারে সর্বোচ্চ সাজা ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এরমধ্যে মাসের পর মাস ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে আটক রয়েছেন। আইনি জটিলতায় যাদের জামিন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। কারাগারে বন্দীর সংখ্যা কমানো প্রসঙ্গে কর্নেল আবরার বলেন, এসব আসামির বাইরেও ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী যেসব দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইতোমধ্যেই ২০ বছরের বেশি সাজা ভোগ করেছে ও অচল আসামিদের মুক্তি প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। এ সম্পর্কে ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত চিঠি প্রদান করে আসছি।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ৬৮ কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৩১৪ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে বন্দীর সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

জানা গেছে, বন্দীদের তালিকা পাওয়ার পর কোন বিবেচনায় তাদের জামিন দেয়া যায় তা যাচাই করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারাসূত্র জানায়, বিচারাধীন এমন আসামিও রয়েছে যাদের বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে কেটে গেছে ৬ মাসের বেশি সময় অথচ আদালতের রায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ৩ হাজারের বেশি কারাবন্দীকে মুক্তি প্রদানের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায়, যেখানে সরকার নিজস্ব ক্ষমতাবলে বা নির্বাহী আদেশে মুক্তি দিতে পারে এমন আসামিদেরও মুক্তির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে আরও কিছু সময় নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, কারা অধিদফতরের নির্দেশে আমরা তুলনামূলক লঘু অপরাধে অভিযুক্ত আসামির তালিকা করছি। তবে বন্দীসংখ্যা বেশি হওয়ায় ও প্রয়োজনের তুলনায় স্টাফ কম থাকায় বন্দী ব্যবস্থাপনায় আমাদের হিমশিম খেতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, চূড়ান্ত তালিকা করার পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তাদের জামিন দেয়া হবে হবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

গতকাল কারা অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের কারাগারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কোন পজিটিভ কেস নেই। তবে অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে কারও ঠাণ্ডা, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে তাদের পৃথক কক্ষে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪০ বন্দীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও দেশের কারাগারগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, সিলেট, ফেনী ও দিনাজপুর জেলা কারাগারে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া করোনার সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে কারাগারে বন্দীদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ সীমিত করা হয়েছে। বন্দী ও স্টাফদের বিদেশ ফেরত আত্মীয়স্বজনকে কারা এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।