• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবন ১৪২৮ ১৩ জিলহজ ১৪৪২

রাজধানীর হাটে গরু বিক্রি আশানুরূপ নয়

সংবাদ :
  • খন্দকার জাফর আহমদ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

image

কোরবানি ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। কিন্তু রাজধানীর হাটে গরু বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। ক্রেতা কম। অথচ হাটগুলোতে গরু আর গরু। যারা হাটে আসছেন, তাদের অনেকেই বড় গরুর কাছে ভিড়ছেন না। খুঁজছেন মাঝারি, ছোট আকারের গরু।

ক্রেতারা বলছেন, দাম বেশি তাই কিনতে পারছি না। অপরদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গ্রাম থেকে আমরা বেশি দামে কিনেছি। কিভাবে কমে গরু বেচব।

রাজধানী দক্ষিণের দুটি কোরবানির পশুর হাট ধূপখোলা ও ধোলাইখাল হাট। হাট দুটিতে সরেজমিন ঘুরাঘুরি করে কয়েকজন গরু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়।

ধোলাইখাল হাটে সদরপুর ফরিদপুরের গরীব কৃষক সোবহান ফকির জানান, বাবা বেচা নেই। নিজের পালা একটা গরু আনছি। যার ওজন হবে চার মণ। এখনও বেচতে পারিনি।

তিনি জানান, এভাবে আমরা কয়েকজন মিলে ষোলটি গরু নিয়ে ঢাকার এ হাটে আইছি। ক্রেতা একেবারে কম। আমরার সবার মণ খারাপ। কেন যে এত আশা করে ঢাকা আইলাম।

ধূপখোলা গরুর হাটে হরিণাকুন্ডু ঝিনাইদহ’র রবিউল জানান, ‘গরুর চাপ দেইখে ক্রেতারা দাম কম কইছে। গরু ফেরত নিয়া চলি যায়া লাগবে। ক্রেতা নেই।’

তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই উক্ত হাটে আমরার এলাকার কয়জনে মিলে উনিশটি গরু আনছি। বিক্রি হয়েছে ষোলটি। তেমন ভাল দাম পাইনি।

ধোলাইখাল হাটে সালথা, নগরকান্দা ফরিদুপুরের দরিদ্র নজরুল জানান, কোরবানির বাজার পইরা গেছে। চিন্তায় আছি।

তিনি জানান, এ হাটে নিজের পালা দুইটা গরু আনচি। এগার মণ কালো গরুটির দাম দুই লাখ আশি হাজার টাকা আর দশ মণ ওজনের লাল গরুটি দাম এক লাখ সত্তর হাজার টাকা চাইছি। গরু দুটি বিক্রির অপেক্ষায় আছে।

আড়াই বছর ধরে গরু দুটি অনেক যতœ করে তিনি বড় করেছেন বলে তিনি জানান।

রাজারচর ফরিদপুরের কিশোর ফাহিম (১২)। স্কুল বন্ধ তাই বাবার সঙ্গে ধোলাইখাল হাটে কোরবানি গরু নিয়ে এসেছেন। ও জানায়, বৃষ্টির কারণে ভেজাল। তাই বেচতে দেরি হচ্ছে। হাটে কেনার লোক পাচ্ছি কম। সবাই খালি মুলায়।

ফাহিম জানায়, বড় আকারের চারটি গরু আনছি। বিক্রি হয়েছে তিনটি। আট মণ ওজনেরটি এক লাখ পঁচানব্বই হাজার , চার মণ ওজনের গরু আশি হাজার ,অপরটি সাত মণ ওজনের গরুটি এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা বেচচি। ধূপখোলা হাটে হরিশপুর, হরিণাকুন্ড, ঝিনাইদহের গরীব মো. ছিদ্দিক জানান, ’গ্রামে গরুর যে দাম কইছে, তার অর্ধেক দাম এই হাটে কইছে না। গরু আছে, খরিদদার নেই। করোনার জন্য ঢাকার মানুষের হাতে মনে হয় টাকা কম।

নয় মাস ধরে দুটি গরু বাড়িতে লালন করতে গিয়ে অনেক ধারদেনা করেছেন বলে তিনি জানান।

ধূপখোলা মাঠে গরু বিক্রির পর হাসলি আদায় করতে বারটি কাউন্টারের একটিতে ২০টি গরু বিক্রির হাসিল পেয়েছেন বলে ইজারাদার হাজী মনিরুল হক রবিনের এক ভলন্টিয়ার জানান।

ধোলাইখাল ও ধূপখোলা পশুর হাটে প্রবেশ পথে হাত ধোয়ার সাবান পানি চোখে পড়েনি। হাট দুটিতে ক্রেতা-বিক্রেতা অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।