• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবন ১৪২৮ ১৮ জিলহজ ১৪৪২

মোবাইলফোনে নথি পাচার

রংপুর সিটির বরখাস্ত প্রধান হিসাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল রংপুর

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

দীর্ঘ ১৪ মাস পর রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে বাইরে পাচারের অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া প্রধান হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম মিয়ার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। গতকাল বিকেলে তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হয়ে হাকিম মিয়া তার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন।

এদিকে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, তিন দফা তদন্ত কমিটি গঠন করার দীর্ঘ ১৪ মাস পর তদন্ত শুরু হলেও ওই হিসাবরক্ষক পুনরায় চাকরিতে বহাল হওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে করপোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু মেয়র নিজেই চিঠি দিয়ে বলেছেন প্রধান হিসাবরক্ষক করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ নথি মোবাইল ফোনে ধারণ করে বাইরে পাচার করেছেন যার প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত আছে। ফলে তার বিরুদ্ধে আগেই ফৌজদারি মামলা করা উচিত ছিল। এখন প্রমাণ হওয়ার পর কোন অবস্থাতেই তাকে অভিযোগের দায় থেকে রেহাই দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

তবে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, দুর্নীতি বা অনিয়মের ব্যাপারে তার জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবদুল হাকিম মিয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাবার পর গত ১৩ মার্চ তারিখে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। যার স্মারক নম্বর ১৩১৯ তারিখ ১৩/০৩/১৯ইং। তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন মেয়র। এরপর ১৯/০৩/১৯ইং তারিখে কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সিটি মেয়র তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ দেন। সেখানে উল্লেখ করেন মেয়র অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি মোবাইল ফোনে ধারণ করার বিষয়টি অস্বীকার করলেও প্রধান হিসাবরক্ষকের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং তার অপকর্মের প্রমাণ সিটি করপোরেশনের কাছে থাকার কথা উল্লেখ করেন মেয়র। যার স্মারক নম্বর ১৪৯৯ তারিখ ৭/০৪/১৯ইং। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার আদেশ দেন মেয়র যার স্মারক নম্বর ১৭৯৭ তারিখ ৭/০৫/১৯ইং। পরবর্তীকালে তদন্ত কমিটি পরিবর্তন করে চলতি বছরের ৯ জুন তারিখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং আবু জাফর মো. সালেহ নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য করে দু’সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন মেয়র। যার স্মারক নম্বর ৬৩৫ তারিখ ৯/০৬/২০ইং। তদন্ত কমিটি গত ১৭/০৬/২০ইং তারিখে অভিযুক্ত আবদুল হাকিম মিয়াকে ২২/০৬/২০ইং তারিখে সশরীরে হাজির হয়ে তার লিখিত বক্তব্য প্রদান করার জন্য নোটিশ প্রদান করে। যার স্মারক নম্বর ১৯২ তারিখ ১৭/০৬/২০ইং। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তকে সশরীরে তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হয়ে তার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের সঙ্গে গতকাল যোগাযাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাসপেন্ড হওয়া প্রধান হিসাবরক্ষক আমাদের কাছে তার লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি তার বক্তব্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন মেয়র মহোদয়ের কাছে প্রদান করবেন বলে জানান। তবে ওই কর্মকর্তা কি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন সে সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে রংপুর সমন্বিত দুর্নীতি দমন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে প্রয়াত মেয়র ঝন্টুর আমলে নিয়ম বর্হিভূতভাবে উচ্চতর স্কেল গ্রহণ ভুয়া বিল ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং বেশি মূল্যে জমি ক্রয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদক সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত করছেন যার দুদক স্মারক নম্বর ১০৯৪ তারিখ ৫/৫/১৭ইং। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের অধীন চিকলী বিনোদন পার্ক উদ্বোধনের স্টল তৈরির নামে ৫২ লাখ টাকা পার্কের টিকিট বিক্রির টাকা আত্মসাতের অপর একটি অভিযোগ তদন্ত করছে দুদকের উপসহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস। যার স্মারক নম্বর ৩১৫৮ তারিখ ২৪/১২/১৭ইং। দুটি অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।