• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

জামালপুরে

যমুনার ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, জামালপুর

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

image

যমুনার ভাঙনে গৃহহারা গ্রামবাসী শূন্যতা নিয়ে তাকিয়ে আছে নদীর দিকে -সংবাদ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়িতে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক মাসের ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, ১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খোলাবাড়ি বাজারের সিংহভাগ যমুনায় বিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েকশ’ পরিবার। হুমকির মুখে পড়েছে বাহাদুরাবাদঘাট নৌথানা। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থায়ী বাঁধের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বর্ষার শুরুতে উপজেলার খোলাবাড়ি এলাকায় যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক মাসের ভাঙনে খোলাবাড়ি গ্রামের শতাধিক বাড়ি ও খোলাবাড়ি বাজারের সিংহভাগ নদীতে বিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে খোলাবাড়ি গ্রামের প্রায় দুইশ’ পরিবার। বাপ-দাদার পৈতৃক ভিটাবাড়ি হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে এসব পরিবার। হুমকির মুখে পড়েছে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাহাদুরাবাদঘাট নৌথানা।

নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, প্রায় এক বছর থেকে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩টি গ্রাম, ২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খোলাবাড়ি বাজারের সিংহভাগ নদীতে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে যে বালির বস্তা ফেলছে তা কোন কাজে আসছে না। খোলাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের। খোলাবাড়ি এলাকার ষাটোর্ধ মো. জহির উদ্দিন বলেন- আমার বয়সে ১৫ বার বাড়ি ভাঙছি। প্রতিবছর ভাঙার কারণে আমাদের জমাজমি, স্কুল-মাদ্রাসা সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন শক্তিশালী বাঁধ দেয়া না হলে বালুর বস্তা ফেলে কোন কাজ হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

একই এলাকার ফজর আলী নামে আরেকজন যুবক জানান, নদীর ¯স্রোতে অনেক শক্তিশালী তাই এখানে বালুর বস্তা কাজে আসছে না। বালুর বস্তা ফেলার কয়েকদিন পরেই ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে অনেক ক্ষতি হয়। তাই দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

সেখানকার বাসিন্দা মো. আব্বাছ আলী জানান, নদীতে তার ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। সে এখন নিস্ব। এছাড়াও খোলাবাড়ি এলাকার শতাধিক বসতবাড়ি, ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খোলাবাড়ি বাজারের সিংহভাগ যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে।

বালুর বস্তা ডাম্পিং-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোলার কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপক বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে কাজের পরিধি বৃদ্ধি না করলে এই বস্তা কোন কাজে আসবে না। কাজের পরিধি বৃদ্ধি করলে নৌথানাকে ভাঙন থেকে বাঁচানো যাবে বলে জানান তিনি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ বলেছেন, ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ১৪০ মিটার এলাকায় ১২ হাজারের অধিক জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ চলছে। এছাড়া খোলাবাড়ি থেকে ফুটানি বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প দাখিল করা হবে। প্রকল্পটি পাস হলেই স্থায়ী বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।