• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের আর্থিক ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুপারিশ নাগরিক সমাজের

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নগদ আর্থিক সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে নাগরিক সমাজ। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর ও ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যাতে সংসার চালাতে পারেন, সেজন্য তাদের বিকল্প আয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।

গতকাল শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা : উপকূলীয় প্রান্তিক জেলেদের ওপর প্রভাব পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ সুপারিশ জানান। কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মজিবুল হক মনির। সেমিনারে কক্সবাজার মৎস্য শ্রমিক জোট নেতা মিজানুর রহমান বাহাদুর, ভোলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক (সামুদ্রিক মৎস্য) ড. মো. আবু হাসনাত, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শওকত কবির চৌধুরী, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমসহ বরগুনা, কক্সবাজার ও ভোলা থেকে আগত মৎস্যশ্রমিক, জেলে এবং নৌকা মালিকরা বক্তব্য রাখেন।

মজিবুল হক বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, বিশেষ করে ইলিশ রক্ষায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় ও বিকল্প কোন আয়েরও সুযোগ না থাকায় প্রান্তিক অনেক জেলেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সরকার প্রতি মাসে নিবন্ধিত প্রায় চার লাখ জেলের প্রত্যেককে ৪০ কেজি করে চাল দিচ্ছে। কিন্তু অনেক জেলে এখনও নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে। এছাড়া চালের পরিবর্তে নগদ আর্থিক সহায়তা এক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর হতে পারে।

আবু হাসনাত বলেন, বিশাল সমুদ্র বিজয়ের সুফল পেতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সুফল বাংলাদেশ পাচ্ছে। কীভাবে প্রান্তিক জেলেদের সম্পৃক্ত করে এই নিষেধাজ্ঞা আরও সফল করা যায়, তা নিয়েও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শাহীন আনাম বলেন, আমাদের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হবে এবং এই সম্পদ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এটাও দেখতে হবে যে, এই সম্পদ বাড়ানোর পরিকল্পনায় যেন সবার সম্পৃক্ততা থাকে। কেউ যেন এর কারণে পিছিয়ে না পড়ে। তবেই কেবল এই উদ্যোগ টেকসই হতে পারে।

আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে ইলিশের উৎপাদন কমলেও বাংলাদেশে বাড়ছে। এই উৎপাদন আরও বাড়াতে বঙ্গোসাগরকে নিরাপদ-দূষণমুক্ত রাখতে হবে। সমুদ্রে চলাচলকারী প্রায় ৬০ হাজার জাহাজের কারণে সমুদ্র দূষিত হচ্ছে। এটা আমাদের মৎস্য সম্পদের জন্য বড় হুমকি।