• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

ভরসা রাখতে পারলেন না শিক্ষকরাও তালিকা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ

সংবাদ :
  • যশোর অফিস

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরাও অসহায় মানুষের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে করোনায় ঘরবন্দী অসহায় মানুষের তালিকা করা নিয়ে। বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ এসেছে, শিক্ষকরা যে তালিকা করেছেন তাতে অনেকেরই নাম বাদ পড়েছে। ফলে শিক্ষকদের করা এই তালিকা অসম্পূর্ণ।

করোনায় কর্মহীন ঘরবন্দী মানুষ এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারি এই সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ প্রথম থেকেই। এ অবস্থায় প্রকৃত অসহায় মানুষের তালিকা করতে মাঠে নামানো হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকদের। সরকারি কর্মকর্তারা শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে চাচ্ছিলেন। তাদের ধারণা, শিক্ষকরাই প্রকৃত তালিকা করতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না।

যেসব শিক্ষকের ওপর তালিকা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই এক জায়গায় বসে কাজ শেষ করেছেন। কোন কোন শিক্ষক সহযোগিতা নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের সভাপতির। আবার কেউ কেউ মেম্বার অথবা চেয়ারম্যানের দারস্থ হয়েছেন। এ কারণে তালিকা হয়েছে এককেন্দ্রিক। ফলে, একটি ওয়ার্ডের অনেক মানুষই বাদ পড়েছেন। যারা নানা ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছেন। যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নানা ওয়ার্ড থেকে এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। শত শত অভিযোগকারীর বক্তব্য, ‘শিক্ষকরা যে তালিকা করছেন সেটি তারা জানেনই না। তাদের কাছে কেউ যায়নি। নেয়া হয়নি জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা মোবাইল ফোন নম্বরও।’ যদিও তালিকায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

সোমবার পর্যন্ত যশোর পৌরসভার পূর্ববারান্দিপাড়া, পশ্চিম বারান্দিপাড়া, শংকরপুর, ষষ্ঠিতলাপাড়ার সুইপার কলোনি রেলস্টেশন এলাকার কয়েকটি বস্তি, মোল্লাপাড়া, ঘোপ, কারবালা এলাকা, খড়কি, সদর উপজেলার আরবপুর, চাঁচড়া, লেবুতলা ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অভিযোগ এসেছে শিক্ষকরা যে তালিকা করছেন তাতে অসংখ্য মানুষের নাম বাদ পড়ছে।

এই বিপর্যয়ের মধ্যে ঘরবন্দী অসহায় মধ্যবিত্ত ও অসচ্ছল মানুষের প্রকৃত সংখ্যা জানতে মাঠে নামানো হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশে কাজ শুরু করেছেন তারা। সতর্কতার সঙ্গে কিছুটা গোপনীয়ভাবে এই তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়। আজকের মধ্যে প্রকৃত অসহায় মানুষের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে জমা দেয়ার কথা।

যশোর সদর ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চারশ’ আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’ হাজার দুশ’ শিক্ষককে মাঠে নামিয়েছেন। শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয় সতর্কতার সঙ্গে প্রকৃত কর্মহীন অসহায় মানুষের তালিকা করার জন্য।

সদর উপজেলার ২৫০টি স্কুলের ১৫শ’ শিক্ষক কাজ করছেন কয়েকদিন ধরে। গত ৯ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এক পত্রের মাধ্যমে শিক্ষকদের তালিকা করার নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওইপত্রে দুস্থ সাংবাদিক, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, মৎস্যজীবী, চায়ের দোকানদার, গার্মেন্টস কর্মী, স্বল্প বেতনের বেসরকারি চাকরিজীবীসহ নিম্ন আয়ের সব মানুষের তালিকা সতর্কতার সঙ্গে করতে বলা হয়। তালিকা করার সময় ভোটার আইডি কার্ড, এনআইডি নম্বর ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করার কথা। শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব দেয়ার কারণ হিসেবে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, তারা যেহেতু সরকারি চাকুরে এ কারণে কোন রকম পক্ষপাতিত্ব করতে ভয় পাবেন। শিক্ষকরা কোন রাজনীতি করেন না ফলে প্রকৃত চিত্র তাদের দ্বারা পাওয়া যাবে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরাও হতাশ করলেন সাধারণ মানুষকে। শিক্ষকরাও দায়সারা তালিকা করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। ফলে, তালিকায় নাম উঠছে না অনেক অসহায় মানুষের।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছেও আসছে। তালিকা হাতে আসলে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে অভিযোগ সঠিক কিনা।’

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসলে যাচাই করে দেখা হবে। প্রয়োজনে নতুন করে তালিকা করা হতে পারে।’