• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ২৯ রমজান ১৪৪২

রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সন্ত্রাসের অপরাধে

বাবুনগরীসহ হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার দাবি নির্মূল কমিটির

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং সন্ত্রাসের দায়ে বাবুনগরী, মামুনুলসহ সব নেতাকে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। সব মাদ্রাসাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সব মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধ করতে হবে।

গতকাল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে। এই ওয়েবিনারের বিষয় ছিল- ‘জামায়াত-হেফাজত চক্রের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা : সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’। উক্ত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি।

নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন এমপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি রাজনীতিবিদ হাসানুল হক ইনু এমপি, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সমাজকর্মী রাশেক রহমান, ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ওয়ান বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক রাশেদুল হাসান, টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম তুরস্কের সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, গৌরব ’৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এম শাহীন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। সভাপতির সূচনা বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাজনীতি অবিলম্বে নিষিদ্ধকরণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী সন্ত্রাসী উত্থানের পর থেকে আমরা ক্রমাগত বলছি জামায়াত ও হেফাজতকে পৃথক দল কিংবা পরস্পরবিরোধী মনে করার কোন কারণ নেই। হেফাজতের ১৩ দফা জামায়াতেরই পুরনো দাবি। মুক্তিযুদ্ধকালে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতারা নেজামে ইসলামের নেতৃত্বে ছিলেন, যে দল এবং তাদের ঘাতক বাহিনী জামায়াতের চেয়ে কম নৃশংস ছিল না। ’৭১-এ যে ভাষায় তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী বাঙালিদের ‘কাফের’, ‘দুষ্কৃতকারী’, ‘ভারতের এজেন্ট’, ‘ইসলাম ও পাকিস্তানের দুশমন’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের অখ-তার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিল, এখন তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরসূরিরা আরও ভয়ঙ্কর ভাষায় ভিন্নমত ও ভিন্নধর্মের মানুষের উপর হামলাসহ এবং যাবতীয় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করছে। প্রশাসন মাঠপর্যায়ের হেফাজত কর্মীদের গ্রেফতার করলেও মামুনুল, বাবুনগরীর মতো মৌলবাদী সন্ত্রাসের গডফাদারদের এখন পর্যন্ত কেন গ্রেফতার করছে না এটা আমাদের বোধগম্যের বাইরে। হেফাজতের মতো জঙ্গি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যে কোন ধরনের সমঝোতা শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্য আত্মঘাতী হবে না- অন্তিমে বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যা বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত চক্রের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকা ও পশ্চিমের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের নমনীয়তা, কালক্ষেপণ কিংবা দ্বিধা দেশ ও জাতির জন্য সমূহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

শাহরিয়ার কবির হেফাজত-জামায়াতের মৌলবাদী সন্ত্রাস তদন্তে নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে সদ্য গঠিত গণতদন্ত কমিশনের মাঠপর্যায়ে তথ্য অনুসন্ধানে প্রশাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান অর্থবহ করতে হলে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে হলে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দ্বিতীয় কোন বিকল্প নেই।’

প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ‘হেফাজত-এ ইসলাম জামায়াতের মতো একই ধারায় ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায়- তা সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজতের তা-ব ও কর্মকা-ে অত্যন্ত পরিষ্কার। স্বাধীনতা মানে না বলেই তারা সুবর্ণজয়ন্তী বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য- মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা ও বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করা। যারা জাতীয় সংগীত মানে না, জাতির পিতাকে মানে না, সংবিধান মানে না- তাদের ছাড় দেয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারের আগে আরও দুবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন হেফাজতকে কোথাও দেখা যায়নি। এবার তারা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বানচাল করার জন্যই মোদির বিরোধিতার কথা বলে সারাদেশে তা-ব চালিয়েছে। বিলম্বে হলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা যেন ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করতে না পারে সে ব্যবস্থাই সরকার করবে বলে আমি আশা করি।’