• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবন ১৪২৮ ১৫ জিলহজ ১৪৪২

নীরব করোনাযোদ্ধা হয়ে সবার মন জয় করলেন কাউন্সিলর রুহুল আমিন

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

image

অনেকটা নীরবেই করোনাযোদ্ধা হয়ে সবার মন জয় করেছেন নারায়ণগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা। করোনা আক্রান্ত এবং করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তিনি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তবে সবটাই করেছে প্রচারের আড়ালে থেকে। এ পর্যন্ত তার নেতৃত্বে করোনা দাফন টিম গোদনাইল, সিদ্দিরগঞ্জ, শিমুলপাড়া, সোনারগাওসহ বিভিন্ন এলাকায় করোনায় মৃত ২২ জনের লাশ দাফন করেছেন। করোনা আক্রান্ত নয়, কিন্তু করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীর লাশও তার নেতৃত্বে দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন তিনি এবং তার টিম কোথায় কে করোনা আক্রান্ত হয়েছে, কোথায় কে করোনায় মারা গেছে তার খোঁজখবর রাখেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যান তিনি অথবা তার টিম। করোনা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, করোনায় মৃত লাশ দাফন করার কাজে নেমে পড়েন। এলাকাবাসী জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে মৃতের আত্মীয়রা কাছে যাননা, অনেকে খোঁজও নেন না। তখনই এগিয়ে যান রুহুল আমিন ও তার দাফন টিম। এভাবে লাশ দাফনের জন্য নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায়ও ছুটে যায় তার টিম।

করোনায় সারাদেশ বিপর্যস্ত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একদিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন, অন্যদিকে করোনাকালের সবচেয়ে কঠিন কাজ করোনায় মৃত্যুবরণকারীর লাশ দাফন করে রুহুল আমিন মোল্লা সবার অত্যন্ত কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার ধারণ করায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সম্পূর্ণ লকডাউন করার পর এলাকার সব গার্মেন্টস, ক্ষুদ্র কারখানাসহ সব ধরনের কর্মকা- বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থাকেন। ফলে তাদের অনেকেরই নিয়মিত খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাদ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেয়া হয়। কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা এসব খাদ্যসামগ্রী অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে তার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। এর বাইরে তিনি নিজের অর্থে ৫ হাজার পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি এলাকাবাসীর মধ্যে নগদ টাকা, মাস্ক এবং হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করেছেন।

সরকারঘোষিত লকডাউন তার এলাকায় নিবিড়ভাবে কার্যকর করতে ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছেন রুহুল আমিন মোল্লা। লকডাউন সম্পর্কে এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য। স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র দিয়েছেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবকরা মহল্লাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম লকডাউন ঘোষণার পর তার এলাকায় নিষিদ্ধ লকডাউন হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তার নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতার কারণে।

করোনাকালে তার কর্মকা- সম্পর্কে জানতে চাইলে সংবাদ প্রতিনিধিকে রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, প্রতিটি মানুষেরই অন্য মানুষের দুঃখ-কষ্টের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত। আমি যা করেছি সেই দায়িত্ববোধ থেকেই করেছি। তারপর আমি একজন জনপ্রতিনিধি, এই এলাকার লোকজন আমাকে ভোট দিয়েছেন। ফলে আমার দায়িত্ব দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো, আমি আন্তরিকতার সঙ্গে সে কাজটিই করতে চেয়েছি।