• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

বরিশালে

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাতের আঁধারে ব্রিজ নির্মাণ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

বলিশাল : রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে -সংবাদ

বরিশালে রাতের আঁধারে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পায়নি। সূত্র জানায়, ২০১৮ ও ২০১৯ অর্থবছরের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের সোলনা বাজারের খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদার ব্রিজ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে ব্রিজ নির্মাণের কোন শ্রমিককে পাওয়া যায়নি। কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ‘ব্রিজ নির্মাণের জন্য যে পরিমান মালামালের প্রয়োজন তা না দিয়ে সাব কন্ট্রাক্টররা কাজ করছিলেন। স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তারা এখন দিনের বেলা কাজ না করে রাতের আঁধারে কাজ করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ঠিকাদারদের রাতে কাজ না করার জন্য নির্দেশ দেন। এতে কিছুদিন রাতে কাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় আবার রাতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে মেসার্স কাওছার এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী ঝন্টু নামক এক ঠিকাদার ২০ লাখেরও অধিক টাকায় ওই কাজটি পায়। তিনি কাজটি বিক্রি করে দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নাঈম, আওয়ামী লীগ নেতা ফাইজুল ইসলাম পলু ও ছাত্রলীগ নেতা তারেক সিকদারের কাছে। তবে কাজটির বেশি তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন ইউপি সদস্য নাঈম ও ছাত্রলীগ নেতা তারেক সিকদার। আর এদের প্রভাবের কারণেই দিনের কাজ রাতে হয়। জানা গেছে, তারেক সিকদার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মচারী। তিনি সিটি কর্পোরেশনের কাজ ফাঁকি দিয়ে এই ঠিকাদারী কাজ করছেন। সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ যখন নগরভবনের সকল দুর্নিতীবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে কাউন্সিলরদের ঠিকাদারী কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মচারী হয়ে তারেক কিভাবে অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে ঠিকাদারী কাজের সাথে যুক্ত রয়েছেন তা বেধগম্য নয়।

তারেক সিকদারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা দিনেই কাজ করি। তবে দু/একদিন কাজ শেষ করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সিটি করপরেশনের কর্মচারী কিভাবে দিনে অফিস না করে ঠিকাদারী কাজ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটি আইনে আছে। পরে অবশ্য তিনি কথার সুর পাল্টিয়ে বলেন আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকতা আমার ঠিকাদারি কাজ করা সম্পর্কে জানেন।

অফিস ফাঁকি দেবার ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, দাফতরিক কাজ ফাঁকি দিয়ে বাইরে কাজ করার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কামরুজ্জামান জানায়, কিছুদিন পূর্বে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতের কাজ বন্ধ করে দেই এবং পরবর্তীতে যেন রাতে কাজ না করে সেজন্য নির্দেশনা দিয়ে আসেন। তারা আবার যদি রাতে কাজ শুরু করে থাকে তবে কাজটি বন্ধ করে দেয়া হবে।