• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮ ২০ জিলহজ ১৪৪২

বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মূল্যের প্রভাব

নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি মনিটরিং নেই

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ০৫ জুন ২০২১

image

রাজধানীর বাজারে এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজের দাম। এছাড়া চাল, আটা, ময়দা, রসুন ও ডালের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়ে গেছে।

এর বাইরেও কিছু পণ্যের দাম এখনও বেশ চড়া। গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজির নিচে কেনা যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগির দাম নাগালের মধ্যে হলেও দেশি মুরগির দাম বেশি। এছাড়া বেড়ে রয়েছে গুঁড়ো দুধের দাম।

শান্তিনগর বাজারে ক্রেতা সালমা খাতুন বলেন, ‘করোনার মধ্যে চালসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বাজার মনিটরিং জোরদার করা উচিত ছিল। সেটা হয়নি বরং আমাদের অল্প টাকা মধ্যে থেকে বড় অংশ বাজারে লুট হচ্ছে।’

বাজারগুলোতে আটা, ময়দা, মসুর ডাল ও সিগারেটের মতো কিছু পণ্যের দাম বাজেটের প্রভাবে দুই-তিনদিন আগে বেড়েছে। সেগুলোর দাম এখনও চড়া। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে বাজেটের প্রভাব পড়তে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

আজম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের দেশে কোন কিছুর দাম বাড়লে সেটা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয় কিন্তু কমলে সেটা কার্যকর করতে সময় নেন ব্যবসায়ীরা। এটা রীতি হয়ে গেছে।’

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চিকন, মাঝারি ও মোটা সব ধরনের চালের দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে আরও ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে গেছে। দাম বেড়ে চিকন চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৬ টাকায়, যা দুই দিন আগেও ৬০ থেকে ৬৪ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। বোরো নতুন চাল বাজারে আসার পরেও চালের বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। নতুন চালের দাম কিছুটা কম হলেও পুরনো চালের দাম বেশি। ধানের দাম বেশি বলে চালের দাম কমছে না।

এদিকে চালের পাশাপাশি দাম বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। ৩২ থেকে ৩৪ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া এক প্যাকেট আটার দাম বেড়ে এখন ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেট ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়, যা আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে।

চাল ও আটার সঙ্গে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সয়াবিন ও পাম তেলের জন্য। লুজ সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত শুক্রবার ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকার মধ্যে। আর পাম সুপার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়, যা আগে ১১৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম দুই দফায় কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এর সঙ্গে বেড়েছে রসুনের দাম। আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত শুক্রবার ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। একইভাবে বাজারে মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাকে বেশি করে পেঁয়াজ কিনতে দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম যেভাবে বেড়ে গেল আবার যদি দাম বেড়ে ১০০ টাকা কেজিতে পৌঁছায় তাই এখনই কিনে রাখছি।’

মালিবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ১২০ টাকা হয়েছে, লেয়ার মুরগির দাম ২০০ টাকা হয়েছে। বাজারে সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে পেঁপে ৪০ টাকা কেজি, বেগুন ৪০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৪০ টাকা কেজি, কচু ৫০ টাকা কেজি, লাউ ৫০ টাকা পিসের মধ্যে বাজারে কাঁচামরিচের দাম অনেকটাই কম।

মালিবাগ বাজারে বিক্রেতা মকবুল বলেন, ‘বাজারে সবজির দাম কম। সব রকম সবজির সরববাহ বাজারে আছে তবে সামনে বর্ষার মধ্যে সবজির দাম বেড়ে যাবে।’