• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

ধান কাটতে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক পাঠানো অব্যাহত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কুমিল্লা

| ঢাকা , রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

রাজশাহী বরেন্দ্র এলাকায় ধান কাটার জন্য কুমিল্লায় আটকেপড়া শ্রমিকদের দ্বিতীয় দফায় বাসযোগে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ৪৬ জন শ্রমিককে নগরীর শাসনগাছা থেকে বরেন্দ্র এলাকায় প্রেরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ও পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, কৃষিকাজ ও শ্রমভিত্তিক বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন সময়ে এসব শ্রমিকরা কুমিল্লায় আসেন। তারা প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র এলাকায় ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণার পর গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কুমিল্লায় আটকা পড়েন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গতকাল সকালে তাদের বরেন্দ্র এলাকায় প্রেরণ করা হয়। এর আগে তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবাণুনাশক স্প্রে করে বাসে উঠানোসহ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়াসহ প্রত্যেক শ্রমিককে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়। এছাড়া তাদের জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাস্ক ও খাবার প্যাকেট প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, দেশের কৃষি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আটকে থাকা এসব শ্রমিকদের সেখানে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় প্রথম দফায় ৪৩ জন শ্রমিককে রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র এলাকায় প্রেরণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে ৮৯ জন শ্রমিককে কুমিল্লা থেকে বরেন্দ্র এলাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মেনে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ১২০ জন কৃষি শ্রমিক ধান কর্তনের জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে ফাহমিদা হক নামের ৩টি কোচে তারা রওনা হন।

জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১২০ জন কৃষি শ্রমিক করোনাভাইরাস কারণে দীর্ঘদিন থেকে কর্মহীন ছিলেন। পরিবহন সমস্যাসহ প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য এসব শ্রমিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জয়দেবপুর যাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জয়দেবপুরের উদ্দেশে এসব শ্রমিক রওনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ওই ইউনিয়নের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এ এসআই সঞ্জয় কুমার, ফাহমিদা হক নাইট কোচের মালিক ফজলুল হক প্রমুখ।

ধান কাটতে যাওয়া শ্রমিক রফিকুল, কালাম ও সামাদ জানান, কর্মহীন অবস্থায় থেকে পরিবার নিয়ে খাদ্য সংকটে ছিলাম, তাই প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আমরা যেতে পারছি।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, গাড়িতে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করে দুই সিট মিলে একজন করে বসিয়ে পাঠানো হচ্ছে। গত বুধবার আমরা ৩১ জন শ্রমিককে জয়দেবপুর পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি, পর্যায়ক্রমে আগ্রহী শ্রমিকদের পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে জেলার হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক বসে আছে। সরকারের দিক নির্দেশনা মেনে যারা কাজে যেতে ইচ্ছুক তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে ধান কাটতে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত ২৬৩ জন শ্রমিককে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, কর্মহীন মানুষগুলোর কাজের সুযোগ সৃষ্টি একই সঙ্গে হাওরসহ যে সমস্ত এলাকায় ধান পাকতে শুরু হয়েছে সে সমস্ত এলাকায় ধান ঘরে তুলতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কৃষি শ্রমিকদের জেলার বাইরে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কৃষি শ্রমিকদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হচ্ছে।

জেলা বার্তা পরিবেশক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জানান, করোনা প্রার্দুভাবে দেশ জুড়ে ধান কাটা মৌসুমে শ্রমিক সংকট দূর করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পুলিশের উদ্যোগে নওগাঁ জেলায় ধান কাটার জন্য শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনায় বোরো ধান কাটা মৌসুমে শ্রমিক সংকট দূর করতে গতকাল সকালে সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের চুনাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ৬০ জন শ্রমিককে নওগাঁ জেলায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয় জেলা পুলিশ। এ সময় শ্রমিকদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব বক্তব্য দেন। পরে তিনি শ্রমিকদের মাঝে গামছা, সাবান ও মাস্ক বিতরণ  করেন।

পুলিশ সুপার জানান, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রত্যায়নপত্র নিয়ে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাদের পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ২শ’ শ্রমিক পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে জেলা থেকে আরও ৫ হাজার শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. ইকবাল হোছাইন, সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন ও ওসি (অপারেশন) মিন্টু রহমান।।

শ্রমিকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছরই বিভিন্ন জেলায় ধান কেটে আসছিলেন তারা। এ বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ধান কাটা মৌসুম থাকলেও যেতে পারছিলাম না। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ধান কাটতে যেতে পারায় বেশ ভালো লাগছে।