• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

আশুলিয়ায় পাঠাও চালক হত্যাকারীরা

দিনে গার্মেন্ট কর্মী রাতে খুনি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

আশুলিয়ায় পাঠাও রাইড চালক মো. শামীম বেপারী বাবু (২৮) হত্যায় জড়িত ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, মামুনুর রশিদ (২২), মাহবুবুর রহমান (২০) ও মোমিন মিয়া (২১)।

গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার রূপায়ন মাঠে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা জ্যাকেট ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ এবং নিহত শামীমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা যায়নি।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার কাঠগড়ার পালোয়ানপাড়া বাঁশঝাড় থেকে পাঠাও চালক শামীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

র‌্যাব জানায়, দিনে নামমাত্র বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও রাতে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। অধিকাংশ সময় ছিনতাই শেষে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে নিরাপদে ফিরে যায়। ছিনতাই করতে গিয়েই শামীমকে পরিকল্পিতভাবে গলাকেটে হত্যা করে তারা। গ্রেফতারকৃতরা আরও তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল দুপুরে র‌্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল উত্তরায় ব্যাটালিয়নে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। শাফী উল্লাহ বুলবুল আরও জানান, তারা অন্য ছিনতাইকারীর মতো টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করে না। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন ছিনতাই করে। ছিনতাইয়ের জন্য তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। কখনও তারা সাধারণ যাত্রীবেশে আবার কখনও বিয়ের জন্য গাড়ি ভাড়া করার কথা বলে ছিনতাই করে। টার্গেট নির্ধারণের পর তাদের একজন যাত্রীবেশে চালককে নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যায়। যেখানে পরিকল্পিতভাবে অন্য সদস্যদের নিয়ে ছিনতাই করে। এক্ষেত্রে যাত্রীবেশে থাকা তাদের সহযোগী গাড়িতে উঠানোর পর মোবাইল ফোনে কথা বলার ফাঁকে কৌশলে তার অবস্থান ও গন্তব্য চক্রের অন্যদের জানিয়ে দেয়।

গ্রেফতার মামুনুর রশিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে পেশায় একজন গার্মেন্ট কর্মী। প্রায় ৫ বছর এই পেশায় নিয়োজিত। দীর্ঘ দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গার্মেন্টে চাকরির পাশাপাশি রাতে এই চক্রটির নেতৃত্ব দেয়।

তার দেয়া তথ্য মতে, ঘটনার আগের দিন রাতে সে ভিকটিমের মোটরসাইকেলে গাবতলী থেকে আশুলিয়া যায় এবং তাকে টার্গেট করে। ঘটনার দিন আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে আবার ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার মোটরসাইকেলযোগে গাবতলী থেকে আশুলিয়ায় পৌঁছে দিতে বলে। রাত ৮টার দিকে গাবতলী থেকে ৩শ’ টাকা ভাড়ায় আশুলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয় শামীম। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সে ভিকটিমকে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে থামায় এবং কৌশলে রাস্তার পাশে বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মাহবুব ও মোমিন শামীমের ওপর আক্রমণ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে।

গ্রেফতার মোমিন মিয়া জানায়, সে পেশায় একজন গার্মেন্ট কর্মী। সে প্রায় ১১ বছর ধরে আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এই চক্রের হয়ে ছিনতাইকৃত গাড়ি বিক্রির কাজ করত। ছোট ছোট কাজের সুবিধার জন্য তারা তাদের সদস্য সংখ্যা তিন জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। ঘটনার দিন শামীমকে দুই পা চেপে ধরে হত্যাকাণ্ডে সে সহায়তা করেছে।

মাহবুবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, জামগড়া এলাকায় তার একটি চায়ের দোকান আছে। তার চায়ের দোকানে বসেই ছিনতাইয়ের সব ধরনের পরিকল্পনা করে থাকে। ঘটনার দিন শামীমের গলায় প্রথমে ছুরি দিয়ে সে আঘাত করে। এ সময় অন্য আসামিরা শামীমকে হাত-পা চেপে ধরে এবং সে তার গলায় ছুরি চালায়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে শামীমকে হত্যার পর আলামত ধ্বংস করার উদ্দেশে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলে এবং নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এ সময় আসামি মাহবুবুর রহমানের ব্যবহৃত জ্যাকেটে রক্ত লেগে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে খুলে ফেলে দেয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও ঘটনাস্থলে ফেলে দেয়। শামীমকে হত্যার সময় ধস্তাধস্তির কারণে মোটরসাইকেলের চাবি হারিয়ে যাওয়ায় আসামিরা ঘটনাস্থলের পাশে রাস্তায় সেটি ফেলে যায়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা মোটরসাইকেলটি নেয়নি। রাতে অন্য কোনও চক্র বা দুর্বৃত্তরা মোটারসাইকেলটি নিয়ে যায়। সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঠাও চালক শামীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। র‌্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে শামীম সবার ছোট। তার স্ত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা। পরিবারের অর্থ উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিল শামীম। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন চৌমুধিয়া গ্রামে। বাবার নাম মো. শাহিন বেপারী। খিলগাঁও থানাধীন মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় স্ত্রীসহ বসবাস করত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করেছিল। পারিবারিক স্বচ্ছলতার জন্য মোটরসাইকেলে পাঠাও অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের কাজ শুরু করে। একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ভিকটিমের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও স্বজনরা শোকে হতবিহল হয়ে পড়ে।