• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়ায়

দক্ষিণাঞ্চলে করোনা ছড়াচ্ছে

সংবাদ :
  • মানবেন্দ্র বটব্যাল, বরিশাল

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

বরিশাল জেলায় গতকাল পর্যন্ত তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দু’জনকে পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন নারায়াণগঞ্জ থেকে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অপরদিকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ সেনোয়ারা বেগমকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পর তিনি পজিটিভ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মীদের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হওয়া শ্রমিক কর্মচারীরা বাড়ি ফিরে এসেছেন এবং এখনও আসছেন। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর এখন ধারণা জন্মেছে যে এই অঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর দুমকিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক পোশাক কারখানা শ্রমিক ‘কেভিড-১৯’ আক্রান্ত হয়ে নিজ ঘরে প্রাণ হারিয়েছেন। ঝালকাঠীর ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একটি পরিবারের ৩ জনের মধ্যেই করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলায় তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বরগুনার আমতলীর সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনও ঢাকা থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় এসে প্রাণত্যাগ করেছেন।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষ গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বাহনে ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ থেকে পিরোজপুর, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা ও বরিশালে পৌঁছেছে। যাদের বেশিরভাগকেই প্রাতিষ্ঠানিক তো দূরের কথা হোম কোয়ারেন্টিনও নিশ্চিত করা যায়নি।

গত রোববার দু’জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ ঠেকাতে সমগ্র জেলাকে ওইদিনই সন্ধ্যার পর থেকে লকডাউন ঘোষণা করার পরে গতকাল বরিশালের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। তবে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন করোনায় শনাক্ত দু’জন রোগীর অবস্থাই স্থিতিশীল বলে গতকাল দুপুরে জানা গেছে।

এদিকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নতুন ২৬৯ জনসহ মোট ৪ হাজার ৩৬৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও ৩ হাজার ৯৫ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। নতুন করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে আসতে শুরু করায় কোয়ারন্টিনের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। তবে গত এক সপ্তাহে যে পরিমাণ মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে এসেছে, এ সংখ্যা তার তুলনায় নগণ্য বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নারায়গঞ্জ থেকে আসা মানুষই দক্ষিণাঞ্চলে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঘটাচ্ছে বলে শংকিত সাধারণ মানুষ।

পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করার মুখেই ট্রাক, পিকআপ ছাড়াও বালুবাহী কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানে নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ। ইতোমধ্যে বালুবাহী কার্গোতে আসা ১০৯ জনের একটি দলকে বরগুনার আমতলীতে আটকে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীতে অপর একটি গ্রুপকে আটকে কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে গিয়ে হামলার কবলে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।

এছাড়া বরিশাল, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিপুলসংখ্যক মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে নানা যানবাহনে গত কয়েক দিনে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। যাদের বেশির ভাগকেই আলাদা রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে দক্ষিণাঞ্চলে ‘কোভিড-১৯’-এর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এর প্রতিকারে পুলিশ ও প্রশাসনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের বিশেষ নজরদারির ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের নজদারি বাড়িয়ে প্রশাসনকে অবহিত করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষণার পরে রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে ছুটে আসায় এই অঞ্চলে যে ‘সামাজিক সংক্রমণ’-এর আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা কেটে গেলেও নতুন করে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা শ্রমজীবী ও কর্মজীবী অসহায় মানুষের ভিড়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ও নাজুক হতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরিস্থিতির অবনতি রোধে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জসহ বহিরাগতদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে এ লক্ষ্যে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত আনসার-ভিডিপি সদস্য ছাড়াও রেড ক্রিসেন্টের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির অর্ধ লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক ও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কাজে লাগানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে গ্রাম পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।