• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় বরদাশত করা হবে না বেনজীর

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

করোনা সংকটে যারা ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় করলে বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের বিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ত্রাণের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন। ত্রাণ কিংবা ভিজিপি’র চাল নিয়ে নয়ছয় ধরতে পারলে তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। গতকাল দুপুরে র‌্যাব প্রধান হিসেবে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে শেষ সংবাদ সংম্মেলনে (অনলাইন) তিনি এসব কথা বলেন। গত ৮ এপ্রিল পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পান ড. বেনজীর আহমেদ। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, আগামীকাল (আজ) বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষের মেজাজ একেবারেই ভিন্ন। করোনা ক্রাইসিস মুহূর্তে আমি সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং সামাজিক তথা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করছি। ন্যূনতম প্রয়োজন ছাড়া কোথাও বের হবেন না। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে যাওয়ার চিন্তাও করবেন না। এই মহামারী থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তি সচেতনতা, পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক সচেতনতার, কোন বিকল্প নেই। কেউ কেউ এক সের চাল দিতে গিয়ে ২০ জন মানুষকে একত্রিত করছেন। বাড়িতে গিয়েও এটা দিয়ে আসা যায়। এতে শৃঙ্খলা থাকে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নাগরিক দায়িত্ব। বল প্রয়োগের চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেকে, পরিবারকে ও দেশকে রক্ষার স্বার্থে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা সত্ত্বেও অনেকেই তা লঙ্ঘন করছেন। এখন আপনি ঘরে থাকবেন নাকি কবরে যাবেন এই সিদ্ধান্তটা আপনার। সবাই ঘরে থাকবেন আর কেউ কেউ বাইরে থাকবেন এটা হতে দেয়া হবে না। ন্যূনতম প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, আড্ডা দেয়া, অনর্থক ঘোরাঘুরি থেকে সবাইকে নিবৃত হওয়ার অনুরোধ জানাই। করোনা মহামারীর হুমকি ধনী-গরিব সবার জন্য সমান। তাই সর্বসাধারণের জন্য অনুরোধ থাকবে এই ক্রাইসিসের মধ্যে নিজের কথা ভাবুন, দেশের কথা ভাবুন, পরিবারের কথা ভাবুন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। এই দায়িত্ব কেবল একার নয়, সবার। আমি ডিএমপিতে দীর্ঘদিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ক্রান্তিকালে র‌্যাব প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি গত পাঁচ বছর তিন মাস র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। র‌্যাবকে গণমাধ্যম সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এজন্য আমি গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, আমি ঢাকা মহানগর পুলিশে দীর্ঘদিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ক্রান্তিকালে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। আমি বিগত পাঁচ বছর তিন মাস মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে র‌্যাবকে জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি। নিজের দায়িত্ব পালনকালে র‌্যাবের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুন্দরবন এখন দস্যুমুক্ত। হলি আর্টিজান পরবর্তী সময়ে আমরা জঙ্গি গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে পেরেছি। র‌্যাব এখন একটি হাইলি অপারেশনাল ফোর্স। প্রতিনিয়ত র‌্যাবের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছি। আশা করব আগামীতে যিনি দায়িত্বে আসবেন, সেও এ ধারা অব্যাহত রাখবেন। পুলিশ প্রধান হিসেবে এক্ষেত্রে যতটুকু সাহায্য করার, তা আমি করব। আমরা আর ১০টা কাজ যাই করি না কেন জঙ্গি দমন থেকে দৃষ্টি কখনও সরাইনি। জঙ্গি দমনে কী করেছি সেটা হলি আর্টিজানের পর থেকে আপনারা দেখেছেন। সম্প্রতি দুটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা সংকটের ফলে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেতন রয়েছে। এখন সার্বক্ষণিক শুধু ওষুধের দোকান খোলা থাকছে, এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা সংকটের এ সুযোগে বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠী আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংকটের মধ্যেই তারা তৎপর হয়ে উঠতে পারে। জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই বৈশ্বিকভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি থেকেই যায়।