• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

জাদুঘরের আলোচনাসভায় বক্তারা

জীবনানন্দ দাশ বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ

    সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গতকাল জাতীয় জাদুঘরে আধুনিক বাংলা কবিতা ও জীবনানন্দ দাশবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট জীবনানন্দ গবেষক ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফোকলোরবিদ ও বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

সম্মানীত আলোচক হিসেবে উপস্থিত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক আশিস কুমার সরকার এবং কালি ও কলম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক আবুল হাসনাত (কবি মাহমুদ আল জামান)। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. শওকত আলী। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম।

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সব সময়ই দেশের স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিদের জন্ম/মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা আয়োজন করেছি কবি জীবনানন্দ দাশ স্মরণে আধুনিক বাংলা কবিতা ও জীবনানন্দ দাশ বিষয়ক আলোচনা সভা। আমি মনে করি আজকের আয়োজন থেকে কবি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে আমরা জানা অজানা অনেক কথা জানতে পারব।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, তার জনপ্রিয়তা যেন তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তিনি যে আমাদের, বিশেষভাবে আমাদেরই, এ সত্যটি তিনি লোকান্তরিত হওয়ার পরই যেন অনবগুণ্ঠিত হতে শুরু করলো। জীবৎকালে যিনি ছিলেন প্রায় অজ্ঞাত, আজ তিনি সর্বহৃদয়সম্বাদী। তিনি আজ কেবল শুধু জনপ্রিয় নন, জীবনানন্দ আজ বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষে পরিণত হয়েছেন।

সম্মানীত আলোচকের বক্তব্যে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, মূল প্রবন্ধকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আধুনিক বাংলা কবিতা ও জীবনানন্দ দাশের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। আধুনিকতা বৈশিষ্ট্যটি ছিল জীবনানন্দের একান্তই নিজের। তার প্রতিটা চড়নের সুগঠিত মাত্রাবিন্যাস কবিতার ভেতরে নিয়ে যায়। তার কবিতার প্রতিটি বর্ণের ভেতরে, প্রতিটি শব্দের ভেতরে খেলা করে তার আধুনিকতার পরশ।

আশিস কুমার সরকার বলেন, জীবনানন্দ দাশ সবসময় জীবন দেবতার সাধনা করতেন। এছাড়াও তিনি কবিতা ও পদ্যের মধ্যে অন্তর্নিহিত পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। পদ্যের মূলত একটা বিষয়বস্তু থাকে, একটা লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গদ্যের বিষয়বস্তু আগাতে থাকে। অন্যদিকে কবিতায় থাকে মনের অন্তর্নিহিত ভাবের বহিঃপ্রকাশ। জীবনানন্দের কবিতায় আমরা এক দূর আবহ প্রত্যক্ষ করি।

আবুল হাসনাত (কবি মাহমুদ আল জামান) বলেন, কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী একজন কবি। তার কবিতায়, উপন্যাসে বেকারত্ব নিয়ে কথা লিখেছিলেন। তিনি একুশের কবিতাও লিখেছেন। তবে জীবন দশায় নয়, কবি হিসেবে প্রতিভা ছড়িয়ে পরে তার মৃত্যুর পর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, আজকের এই আলোচনা সভাটা অনেক ভারী আলোচনা সভা। প্রবন্ধকার মনোমুগ্ধকর একটা প্রবন্ধ রচনা করেছেন। জীবনানন্দ একালের এক অবাধ বিশ্বাস। তিনি অত্যান্ত নান্দনিকতার সঙ্গে কবিতায়, উপন্যাসে, কাব্যের মাধ্যমে বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। তার সৃষ্টির গভীরতা ও শিল্পিত কারুকার্য আমাকে বিস্মিত করেছে। বাংলাদেশের রূপসী বাংলার কবি তিনি। তিনি বাংলার বাঙালিদের কালজয়ী স্রষ্টা।

সভাপতির ভাষণে মো. শওকত আলী বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস, ভাষার মাস। যে জাতি যতবেশি সমৃদ্ধ, সেই জাতির শিল্প-সাহিত্য ততবেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ। জীবনানন্দের সৃষ্টিতে মানুষের হৃদয় ও চেতনার যে গভীর অনুভব প্রকাশ পেয়েছে, বাংলা কবিতায় এর আগে পরিলক্ষিত হয়নি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলার সমৃদ্ধ শিল্প, সাহিত্য, ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এই ভাষার মাসে আমাদের আজকের এই সাহিত্য চর্চায় আয়োজনটা বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করছে বলে আমি মনে করি।