• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবন ১৪২৮ ১৮ জিলহজ ১৪৪২

জনগণের কল্যাণই আ’লীগের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

image

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কর্মসূচিও সীমিত করা হয়েছে। কারণ আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে গতকাল একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস বর্ণনা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কথা, মানুষের অধিকারের কথা বলেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে গেছে। পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে বাঙালি কিছু পেয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এছাড়া অন্য সময় পেছনে টেনে রাখার চেষ্টা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়, আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেই সূর্য উদয় হয় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের জন্য। তিনি তার সংগ্রামের পথে অনেক বাধা-বিপদ অতিক্রম করেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবতার সেবা করে গেছে। জনগণের সেবা করে গেছে। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কথাই বলেছে। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। আর এই সংগ্রামের পথে অগণিত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাদের ত্যাগে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে আমরা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির পিতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, দেশ গড়ে তুলে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় আরেক মীর জাফর খন্দকার মোস্তাক এবং জিয়ার কুচক্রান্তে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়ে গেল।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনের পকিল্পনার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করি। এটা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা পালন করতে পারিনি। আজকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সীমিত আকারে উৎযাপন করছি। জনসমাগম হবে এ ধরনের সব কর্মসূচি বাতিল করেছি জনগণের কল্যাণে। কারণ আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণটাই হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটাকেই আমরা গুরুত্ব দিই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আজকে করোনাভাইরাসের কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই করনোভাইরাস সারা বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। এর থেকে মানুষকে রক্ষা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, মানুষ যাতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেই মুজিববর্ষ উৎযাপনের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশেষভাবে উদযাপনের কথা ছিল, সেটাও করতে পারলাম না।