• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

ঢাবিতে

ছিনতাইয়ের জন্য সাবেক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধর

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ঢাবি

| ঢাকা , রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক দুই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি (সহসভাপতি) কামাল উদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের চার সদস্যসহ আহতদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংলগ্ন ফুলার রোডে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাবেক ঢাবি ছাত্রীর নাম নুজহাত ফারহানা। তিনি মার্কেটিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে চীনে অধ্যয়নরত আছেন। সাবেক ছাত্রের নাম রানা নাসের। তিনি থিয়েটার ও পারফরমেন্স বিভাগের সাবেক ছাত্র। জানা যায়, ছুটির দিনে অবসর সময় কাটাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুলার রোডে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় অবসর সময় কাটাতে আসা এসব দর্শনার্থীদের নানাভাবে হেনস্থাসহ টাকা আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রানা নাসেরের ভাই বাপ্পি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে বাপ্পির তিন বছরের ইয়ার গ্যাপ রয়েছে। এখন বাপ্পিকে চীনে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায় তার পরিবার। এজন্য রানা নাসের চীনে পড়ুয়া ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানার দারস্থ হয়। রানা নাসেরকে তার ভাইসহ রাতে ফুলার রোডে আসতে বললেন নুজহাত ফারহানা। ফুলার রোডে এসে রানা নাসের তাদের এক জায়গায় বসিয়ে সামান্য দূরে মুঠোফোনে কথা বলতে যায়। এ সময় বাপ্পি ও নুজহাতের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের। এক পর্যায়ে রানা নাসেরের ভাইকেও মারধর করে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা। রানা নাসের দূর থেকে তার ভাইকে মারধর করতে দেখে দৌড়ে আসলে শিক্ষার্থীরা হলের ভিতরে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ঘটনাস্থলে পড়ে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী তার মোবাইল ফোন নিতে আসলে রানা নাসের তাকে ধরে ফেলে। এ ঘটনা ভিডিও করেন সাবেক ছাত্রী নুজহাত ফারহানা। এরপর নেতাকর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের ভিপি কামাল উদ্দিন। তিনি এসে রানা, বাপ্পি ও নুজহাতকে হলের ভিতরে নিয়ে যান। হলের ভিতরে নিয়ে রানা নাসেরসহ তার ভাইকে ফের মারধর শুরু করে এবং ছাত্রীর ফোন ছিনতাইয়ের জন্য টানাটানি শুরু করে। এ সময় সেখানে প্রক্টরিয়াল টিম আসে এবং তারাও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম রানা নাসেরসহ বাকি দুজনকে প্রক্টর অফিসের দিকে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানা বলেন, ভিপির কর্মীদের মারধরের শিকার একজন লোক প্রথম বর্ষের ওই শিক্ষার্থীকে মারধর শুরু করে। এই ঘটনাটি আমি ফোনে ভিডিও করতেছিলাম। এমন সময় হলের ভিপি কামাল এসে আমাদের হলের ভিতরে নিয়ে যায়। সে প্রচণ্ড খারাপ আচরণ করে আমাদের সঙ্গে। একসময় প্রক্টরিয?াল টিম এসে আমাদের প্রক্টর অফিসের দিকে নিয়ে যায়।

থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রানা নাসের বলেন, আমার ছোট ভাই বাপ্পি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার পরিবার তাকে চাযনাতে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায়। ফুলার রোডে থাকাকালীন এসএম হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে আমার ভাইকে মারধর করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসএম হলের ভিপি কামাল উদ্দিনের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, এই ঘটনায় আমাদের চারজন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এই ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী চাঁদাবাজি, ছিনতাই করবে; এটা আমরা সহ্য করব না। যারা এসব কর্মকাণ্ড করে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণসাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।