• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাড় ১৪২৮ ৬ জিলকদ ১৪৪২

করোনাভাইরাস নামক অদৃশ্য শক্তিকে পরাজিত করতে বিশ্বনেতাদের ঐকমত্যে আসতে হবে আরেফিন সিদ্দিক

সংবাদ :
  • ফারুক আহমাদ আরিফ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

image

করোনাভাইরাস নামের অদৃশ্য শক্তিকে পরাজিত করতে হলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ঐকমত্যে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

তিনি দৈনিক সংবাদকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিশ্বকে নিরাপত্তা দিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেই এর জন্ম। কিন্তু এই প্লাটফর্ম পৃথিবীর কল্যাণে যত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ৫টি বৃহৎশক্তির কারণে আজো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বার বার বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন সময় এসেছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ঐকমত্যে আসার। কারণ করোনাভাইরাস নামের যে অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে বিশ্ববাসী লড়াই করছে তা মোকাবিলা করতে হলে বিশ্ব নেতাদের জাতিসংঘের নেটওয়ার্ককে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।

করোনার সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের নিজেদের ও সমাজের প্রতি কী দায়বদ্ধতা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ ইতোপূর্বে সব ধরনের সমস্যায় দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে গেছেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতিটা ভিন্ন ধরনের। এখনও হয়তো অনেকেই কাজ করে যাচ্ছেন তবে সেটি সীমিত। এ অবস্থায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে অনেকেই কাজ করলেও সেটি ত সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেনি। এ ক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রেখে সমাজের কল্যাণে আরও অধিক সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের করণীয়। কেননা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথাকে সমাজ মূল্যায়ন করে থাকে। তাই এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তাসহ কাজ করা দরকার।

তিনি বলেন, এখন হয়তো ১০০ শতাংশ কাজ কেউ করতে পারবে না। তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে।

‘বিশ্বের অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণায় মনোযোগ দিলেও আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন এগিয়ে আসছে না’ এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের জানামতে, বাংলাদেশে অসংখ্য গবেষক রয়েছেন যারা বিশ্বের বিভিন্ন দাতাসংস্থার অর্থায়নে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন, করতেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এই করোনা পরিস্থিতিতে গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছি না। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় যে বরাদ্দ আছে তাকেই কাজে লাগানো যেতে পারে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গবেষণা খাতে বরাদ্দ দিয়ে থাকে। আমরা সেটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণাগারে পিসিআর মেশিন বসিয়ে করোনা শনাক্তকরণে কাজ করবে এটি আশার দিক। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারগুলোর মেশিনারিজ ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তাতে করেও অনেক কাজ হবে। তিনি গবেষণায় আরও দৃষ্টি দিতে আহ্বান জানান।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ছুটি হলেও শিক্ষক বা অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্তৃপক্ষ ছুটি না দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করছে কোন ধরনের পার্সোনাল প্রটেকশন ইকোইপমেন্ট (পিপিই) না দিয়েই বিষয়টি কিভাবে দেখেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দৃষ্টি এদিকে দিতে হবে। আর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের বিষয়টি নজরে আনা প্রয়োজন।

‘পাঠ্যক্রমের কোন পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তকরণ করা প্রয়োজন’ এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ‘বার বার হাত ধোন, মুখে, চোখে, নাকে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখুন।’ এগুলো হচ্ছে প্রাথমিক ধাপ। অর্থাৎ আমাদের শিক্ষাক্রমের প্রাথমিক তথা ৩/৪ শ্রেণী থেকেই স্বাস্থ্য শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এটি নিতে হবে। তারপর যারা ডাক্তারি পড়তে চায় তারা সেদিকে চলে যাবে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে পারল। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামর্থ্য হলো।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অবশ্যই আনতে হবে। কেননা করোনা পরিস্থিতি বিশ্বকে পাল্টে দিচ্ছে, দিয়েছে। করোনা পরবর্তী পৃথিবী অন্য ধরনের হবে। সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

‘মানুষ সংকটে পড়লে বিশ্বের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও প্রাণিজগত বিপদে পড়ে যায় তা থেকে উত্তরণের উপায় কী’ এমন প্রশ্নে এই শিক্ষাবিদ বলেন, মানুষের সঙ্গে সবকিছুই সম্পৃক্ত। মানুষকে বাঁচতে হলে পরিবেশ, প্রাণিজগতের উপর নির্ভর করতে হয়। নিজের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পরিবেশের ও প্রাণিজগতের স্বাস্থ্যের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। পরিবেশকে তার বাঁচার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বিশ্ব নেতাদের এই ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে আসতে হবে। জাতিসংঘের প্লাটফর্মকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। সব ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বকে রক্ষা করতে বিশ্ব নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেননা বিশ্ব নিরাপদ না থাকলে আমরা কেউ শান্তিকে থাকতে পারব না। বার বার আঘাত আসবে। বিশ্বজগৎ ধ্বংসের দিকে যেতে থাকবে।

তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শত্রুকে চিহ্নিত করা গিয়েছিল। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে যুদ্ধে জয়-পরাজয় হয়েছে কিন্তু করোনাভাইরাসের নামে যে অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে এখন বিশ্ব লড়াই করছে তাকে কিন্তু চিহ্নিত করা যায়নি। তার অবস্থান ঠিক করা যায়। পুরো পৃথিবীকেই করোনা গ্রাস করে ফেলছে। অতএব এখনই সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আমরা এর কোন বিকল্প দেখি না।