• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮ ২০ জিলহজ ১৪৪২

আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের চেয়ে সুরক্ষিত বাড়ি নির্মাণ জরুরি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ মে ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের চেয়ে সুরক্ষিত বাড়ি নির্মাণ জরুরি। ‘দুর্যোগের পূর্বে অতি প্রস্তুতি ও দুর্যোগের পরদিন সব ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন : দুর্যোগ মোকাবিলায় চাই স্থায়িত্বশীল ও স্থানীয় সক্ষমতা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে উপকূলীয় নাগরিক সমাজ সংগঠন কোস্ট সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ফণী’র অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কোস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন দুর্যোগ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নঈম গওহর ওয়ারা, এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের এএইচএম বজলুর রহমান, কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম এবং কোস্ট ট্রাস্টের উপপরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের বরকত উল্লাহ মারুফ এবং সূচনা বক্তব্য দেন কোস্টের মোস্তফা কামাল আকন্দ।

নঈম গওহর ওয়ারা বলেন, সরকার সম্প্রতি নতুন সাত হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে এসব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ন্যূনতম মানবিক সুবিধা পাওয়া যায় না বিধায় মানুষ ওখানে যেতে চায় না। যেমন, সরকারি হিসেবে একজন মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ২ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে একজন মানুষের পক্ষে ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান করা সম্ভব নয়। একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যয় দিয়ে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সক্ষম অন্তত ৩৫টি দ্বোতালা বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব। এসব বাড়ি হস্তান্তর করে দিলে বাড়ির অধিবাসীরা নিজেরাই যেমন এর যতœ করতে পারবে তেমনি দুর্যোগে প্রতিবেশীকে আশ্রয়ও দিতে পারবে। সরকার ঘূর্ণিঝড়ের আগে মানুষের প্রস্তুতির কথা বলে, কিন্তু অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কোন প্রস্তুতি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের সারা বছর ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর ৩৬ ঘণ্টা আগে থেকে পাথরঘাটায় বিদ্যুৎ ছিল না। ৮ হাজার কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ সংস্কারের প্রয়োজন ছিল এই ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য।

বরকত উল্লাহ মারুফ মূল বক্তব্যে ১০টি দাবি তুলে ধরেন। এর প্রধান দাবিগুলো হচ্ছেÑ ঘূর্ণিঝড় বা দুর্যোগের পূর্বাভাস পদ্ধতির সংস্কার করতে হবে। সুনির্দিষ্ট, বোধগম্য ও নির্দেশনামূলক পূর্বাভাস পদ্ধতি চালু করতে হবে, সমুদ্রগামী জেলে ও নৌকাসমূহের নিবন্ধন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে ঘূর্ণিঝড়ের সময় চিহ্নিত করা যায় কারা ফিরে এসেছে কারা ফিরতে পারেননি, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প প্রদানের সময় জাতিসংঘ, দাতা সংস্থাদের লক্ষ রাখতে হবে তা যে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় যাতে পরিচালন ব্যয় কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের পূর্বেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপসমূহে জোয়ারের প্লাবন ঠেকাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, বাণিজ্যিক এফএম রেডিওগুলো সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সম্প্রচার ক্ষমতা সুবিধা পাচ্ছে, অথচ অলাভজনক কাজে নিয়োজিত কমিউনিটি রেডিও যারা জনগণের তথ্য সেবায় নিয়োজিত তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ২৫০ ওয়াট। এই ক্ষমতা দিয়ে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত সম্প্রচার করা যায়। বিশেষ করে ঘুর্ণিঝড়ের সময় তারা যাতে অন্তত ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রচার করতে পারে সেজন্য তাদের সম্প্রচার ক্ষমতা ১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ঘুর্ণিঝড় ফনীর সময় ৮টি উপকূলীয় কমিউনিটি রেডিও দিন রাত চালু থেকে মানুষকে তথ্য সেবা প্রদান করেছে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রগামী জেলে নৌকাসমূহে স্বল্প মূল্যের ভিএইচএফ বা ইউএইচএফ রেডিও প্রদান করা গেলে তারা ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য বিপদের সময় গভীর সমুদ্র থেকেও উপকূলে যোগাযোগ করতে পারে।