• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ২৮ রমজান ১৪৪২

আলোকিত রাজশাহীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল : বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে শুরু করেছে রাজশাহীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলগুলো। গ্রিড সুবিধাবঞ্চিত এসব এলাকা দ্রুত বিদ্যুতের আওতায় আনতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় সোয়া ৬ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। প্রতিটি প্রায় ২৩ হাজার টাকার মূল্যের এসব সোলার হোম সিস্টেম গ্রাহকরা পাবেন বিনামূল্যে। এজন্য নেসকোকে কোন অর্থ দিতে হবে না। একই ধরনের প্রকল্প রংপুরের প্রত্যন্ত চরাঅঞ্চলেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে রাজশাহীর চর-আসাড়িয়াদহ, চর আলাতুলী, চর মাজারদিয়া, চর খিদিরপুর- এই চারটি চরে ১৫৭২টি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেমের (একটি বাড়ির/ঘরের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা) মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২১ সালের মধ্যে ‘সবার ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। নেসকোর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ মাসের মধ্যেই এই এলাকার সবগুলো বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে অফগ্রিড বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ দেয়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বদ্ধপরিকর। তবে এ বছরের মধ্যেই গ্রিড অঞ্চলগুলো শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। অফ-গ্রিডে থাকা প্রত্যন্ত চরাঞ্চল এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া অব্যহত আছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রতিষ্ঠান নেসকো উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ করছে। কোম্পানিটি রাজশাহীতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ গ্রাহককে এবং রংপুরে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, দেশের সব স্থানে বিদ্যুতের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিৎ করবে। যত দ্রুত বিদ্যুতায়ন হবে, দেশের উন্নয়ন তত দ্রুত হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই গ্রিড অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম চলমান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহারে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে সারাদেশে ৫৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে। অফগ্রিড অঞ্চলগুলোকে সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত করতে কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্মার্ট মিটার, স্মার্ট গ্রিড স্থাপন, স্ক্যাডা’র বাস্তবায়ন, ইআরপি, আধুনিক ট্রান্সফরমার, ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনসহ নানাভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও বাড়িয়ে তোলা হবে।

নেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম গতকাল বিকেলে সংবাদকে বলেন, নেসকোর আওতাধীন প্রত্যন্ত চরাঞ্চলগুলো যেখানে গ্রিড সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই, এমন চরগুলোতে আমারা সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত অফ-গ্রিডের আওতায় নিয়ে আসার কাজ করছি।

নেসকে’র এমডি বলেন, রাজশাহীর যে চারটি চরে আমরা সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন শুরু করেছি সেখানে মোট গ্রাহক হতে পারে ৬ হাজার ২৪০ জন। আমারা নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তাদের বিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথম পর্যায়ে ১৫৭২টি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেমের স্থাপন কার্যক্রমের আজ (গতকাল) উদ্বোধন হয়েছে। অবশিষ্ট বাড়িগুলোতে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে সবাইকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। সংবাদের এক প্রশ্নের জবাবে এমডি জানান, প্রতিটি সোলার হোম সিস্টেম এর দাম পড়ছে ২৩ হাজার টাকার কিছু বেশি। তবে গ্রাহকদের বাড়িতে এসব সোলার হোম সিস্টেম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্থাপন করা হচ্ছে। এজন্য নেসকো কোন টাকা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, অন্যকোন প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে প্রকল্পটি করা হলে অনেক ধরনের আর্থিক ব্যয়ভার গ্রাহকের কাঁধে এসে পড়ে। এখানে তেমনটি হবে না। সোলার সিস্টেম যতদিন ভালো থাকবে গ্রাহকরা ততদিন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। একই ধরনের প্রকল্প নেসকোর আওতাধীন রংপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও বাস্তবায়ন কারার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম বলেন, আমারা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার আওতাধীন ২৪টি উপজেলা শহর ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ করছি। প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহককে ৫০টি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ/বিদ্যুৎ সরবরাহ ইউনিট এর মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ, অধিকতর ভালো গ্রাহক সেবা প্রদান এবং সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের জন্য এ প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শীঘ্রই নেকসোর আওতাধীন শতভাগ এলাকা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে নেসকোর আওতাধীন অফগ্রিড চারঞ্চালসমূহে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

নেসকো’র চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ, নেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গ্রাহক সেবা আরও বাড়ানোর জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেন।