• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ২৭ রমজান ১৪৪২

রাজশাহী নগর আ’লীগের সম্মেলন কাল

চাপে আছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

| ঢাকা , শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

পহেলা মার্চ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে নগরজুড়ে সাজ সাজ রব। আলোক সজ্জা, পোস্টার, ফেস্টুন আর ব্যানারে নগরীর আনাচে-কানাচে রঙিন হয়ে উঠেছে। রাস্তার ধারে রঙ্গিন পোস্টার ও ফেস্টুন সবুজ নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন করছে। বিশেষ করে প্রধান প্রধান রাস্তায় তৈরি করা তোরণও শোভা বৃদ্ধি করছে নগরীর। বলা যায়, এক দিকে মুজিবশতবর্ষ, অন্যদিকে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন, দুই মিলে ব্যানার ফেস্টুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজশাহী মহানগরী। এদিকে, এবার জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়েই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই আশা করছেন নগর আওয়ামী লীগের নেতারা। সেই লক্ষ্যেই নগর আওয়ামী লীগের পক্ষে নগরীকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে বলেও মন্তব্য করেছেন শীর্ষ নেতারা। শুধু তাই নয়, সম্মেলন ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতিও।

সম্মেলনকে ঘিরে চাপে আছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশিরা। কিন্তু সবার মধ্যেই একটা ধারণা বা বিশ^াস স্পষ্ট যে, গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদের নেতা নির্বাচিত হওয়া নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থা অর্জনের উপর।

দেখা গেছে, সম্মেলন উপলক্ষে গত কয়েকদিন থেকে নগরীকে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে আওয়ামী লীগ নেতারা। ইতোমধ্যে নগরীতে রাতের সৌন্দর্যের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্মেলনস্থল থেকে শুরু করে এর আশপাশেও চলছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে বিনোদপুর পর্যন্ত রাস্তায় চলছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ। এছাড়াও নগরীর রেলগেট থেকে আমচত্বর পর্যন্ত রাস্তার ধারেও লেগেছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। বিশেষ করে নগরীর মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত তৈরি করা তোরণ দেখা যাচ্ছে।

রাস্তায় করা হয়েছে রং বেরংঙের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। মূল আকর্ষণ সম্মেলনস্থলকে করা হচ্ছে আরও বেশি সৌন্দর্যম-িত।

২০১৪সালের সম্মেলন হলেও এতো জমকালো আয়োজনে হয়নি। এবার সম্মেলনে নগরী যেমন সাজানো হচ্ছে তেমনি সম্মেলনও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে হবে এমনটাই মনে করছেন নগর আওয়ামী লীগের নেতারা। আগত নেতাকর্মী সমর্থকদের জন্য রাখা হচ্ছে সব ধরনের প্রস্তুতি। সম্মেলন উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর অভিজাত হোটেলগুলো পরিপূর্ণ। ওই দিন উপলক্ষে বাস ট্রেনেও আগাম চাপ বেড়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একাধিক বর্ধিত সভা করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর সম্মেলন হয় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের। সম্মেলনে সভাপতি হন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ডাবলু সরকার। পহেলা মার্চের সম্মেলনেও কি তারা আবারও নেতৃত্বে আসছেন সম্মেলন উপলক্ষে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে বেশ আগে থেকেই। এখন পুরোদমে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সম্মেলনকে ঘিরে নানামুখি আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান আবারও তার পদেই আসছেন বলে আশাবাদি দলের বড় একটি অংশ। এই মুহূর্তে তার বিকল্প হিসেবে কাউকে ভাবতে পারেন না তারা। দলের অনেক নেতা কর্মীই বলছেন, বর্তমান সময়ে খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের কথা ভাবতেই পারেন না। তবে, অনেকেই আবার বলছেন চমক আসতেও পারে শেষ সময়ে। এদিকে, সভাপতি পদ নিয়ে যত বেশি আলোচনা তার থেকে বহুগুণে আলোচনা সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। এই পদের প্রত্যাশির সংখ্যাও অনেক বেশি। এই পদ প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন অন্তত হাফ ডজন নেতা। মূলত সাধারণ সম্পাদক পদে ডজনখানেক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। এরই মধ্যে অনেকেই নগরীজুড়ে পোস্টার সাঁটিয়েছে, ঝুলিয়েছেন ব্যানার ফেস্টুন।

নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার আবারও এই পদে আসতে চাইছেন। তবে, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য মাঠে আছেন বেশ কয়েকজন। বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা, মোস্তাক হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান শফিক, প্যানেল মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবুর নামও রয়েছে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদকের তালিকায়।

এদিকে, সাধারণ নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী সম্মেলনে যেন বিতর্কিত কোন নেতা নেতৃত্ব না পান এটাই তাদের চাওয়া। পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতারা নেতৃত্ব দিবে এটাই প্রত্যাশা। তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, কর্মীদের পাশে থাকবেন যারা তারাই নেতা হোক। সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে এবার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজ মুক্ত কমিটি করতে হবে। কোন বিতর্কিত নেতাকে পদ দেয়া যাবে না।

তবে এবারের সম্মেলনে শীর্ষ পদ দুটিতে ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও বঙ্গবন্ধুর আর্দশের অনুসারীদের দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নগরীর রাজপাড়া থানার নেতা শাহ আলম বাদশা বলেন, আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা হবে কর্মীবান্ধব, যাদের সবসময় কাছে পাওয়া যাবে। চাইলেই যাদের কাছে যাওয়া সম্ভব হবে। যারা প্রগতিশীল হবে, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে যাদের কোন আঁতাত থাকবে না। তারা হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।

বোয়ালিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, আমরা রাজশাহী মহানগরী আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অবহেলিত। আমরা চাই এবারের সম্মেলনে যারাই নেতা হবেন তারা হবেন কর্মীবান্ধব। তারা সবসময় কর্মীদের পাশে থাকবেন।