• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ২৭ রমজান ১৪৪২

মায়ানমারে নীরব ধর্মঘটের ডাক

একদিনে আটক ৩৬

| ঢাকা , শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

মায়ানমারের ৪টি আলাদা রাজ্য ও অঞ্চল থেকে ১ দিনে ৩৬ জনকে আটক করেছে সেনা সরকার। আটক করা এসব মানুষের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের নেতা, বিক্ষোভকারী, সেলিব্রেটি এবং সাধারণ নাগরিকেরা রয়েছেন।

এদিকে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সাত শতাধিক মানুষ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল নীরব ধর্মঘটের ডাক দেন। নিহতদের প্রতি শোক জানাতে এদিন বিক্ষোভকারীদের নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে আর প্রয়োজনে বাইরে বের হলে কালো কাপড় পরার আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্স

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর হাতে কয়েক ডজন শিশুসহ ৭১৪ জন নিহত হয়েছে। আটক করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। তবে জান্তা সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন এ সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা ২৪৮ বেসামরিক এবং ১০ পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনা রেকর্ড করেছে।

গত বৃহস্পতিবার একদিনে ৩৬ জনকে আটকের পর বিক্ষোভের নেতা এই থিনজার মং তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘চলুন রাস্তাঘাট নীরব করে ফেলি। প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শোক প্রদর্শন করতে আমাদের নীরব ধর্মঘট পালন করা উচিত। সবচেয়ে শীতল কণ্ঠই সবচেয়ে জোরালো।’

মায়ানমারে বৌদ্ধ নববর্ষের ৫ দিনের প্রথাগত ছুটি চলছে। গতকাল ছিল এই ছুটির তৃতীয় দিন। এ বছর বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ উৎসব এড়িয়ে সেনা শাসনের বিরোধিতার ওপর মনোনিবেশ করেছে। শুক্রবার রেডিও ফ্রি এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানগিয়ান শহরে আগের রাতের সহিংসতায় দুই বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।

এদিকে দুইশ’ বিক্ষোভকারীর নাম প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সেনা সরকার। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, মায়ানমারে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। কমিটি রিপ্রেজেন্টিং ফাইদংসু হ্লাত্তাও (সিআরপিএইচ) নামে গঠিত এই কমিটির এক সদস্য এ কথা জানিয়েছেন। মায়ানমার নাউ

সিআরপিএইচ কমিটি গঠিত হয়েছে মূলত ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) আইনপ্রণেতাদের নিয়ে। গত বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয় লাভ করলেও গত ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ক্ষমতায় বসতে পারেননি তারা।

নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (ইএওএস) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে সিআরপিএইচ। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, রাজনৈতিক রোডম্যাপ অনুসরণ করে এই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।

গত ৩১ মার্চ সিআরপিএইচ ফেডারেল ডেমোক্র্যাসি চার্টার ঘোষণা করে। ওই দিনই তাদের পক্ষ থেকে সেনা সরকারের প্রণয়ন করা ২০০৮ সালের সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই চার্টার অনুসরণ করেই অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

দুই অংশের ওই চার্টারে ‘অন্তর্বর্তী জাতীয় ঐক্যের সরকারের’ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হবে সেনা শাসকদের শাসন চালানোর প্রক্রিয়াগুলোকে দুর্বল করে দেয়া, অসহযোগ আন্দোলনে সমর্থন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

চার্টারটির প্রথম অংশে বর্ণিত রাজনৈতিক রোডম্যাপে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পর আইনসভা এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। নতুন একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে একটি জাতীয় কনভেনশন প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে এতে। গণভোটের মাধ্যমে সেই খসড়া সংবিধান অনুমোদন করা হবে।

ওই চার্টারে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের সরকার পরিচালিত হবে সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এতে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন।